ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকার রিটেইল ডিপোজিট মাইলফলক শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী মুখ দেখালেই বোর্ডিং পাস

বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলেন আনিস আলমগীর

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলেন আনিস আলমগীর
সাংবাদিক আনিস আলমগীর

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন স্থায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হলেও সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

এর আগে আনিস আলমগীর আদালতে হাজির হয়ে তিনটি আবেদন করেন। সেগুলো হলো–জামিন স্থায়ী করা। ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়া। বিদেশে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া। 

বিচারক শুনানি শেষে ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফ না করলেও অপর আবেদনগুলো মঞ্জুর করেন। বিদেশ ভ্রমণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আনিস আলমগীর এক মাস বিদেশে থাকতে পারবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। 

আনিস আলমগীরের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

আনিস আলমগীরকে গত ২৮ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কারাগারে থাকাবস্থায় ১৫ জানুয়ারি দুদক এই মামলা করে। 

দুদকের মামলায় বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবরসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য হিসাবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। তার বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীতের সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টকশো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ হিসেবে ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা তার মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে ধরা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে আনিস আলমগীরকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন আরিয়ান আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি ‘রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। মামলায় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন–অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মডেল মারিয়া কিসপট্টা ও উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ। ‎

এ মামলায় আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে দুদকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। 

গত ৫ মার্চ তিনি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এবং গত ১১ মার্চ দুদকের মামলায় উচ্চআদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। 

ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ময়মনসিংহে শিশু হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজনের কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার এ রায় দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (১৯) ও একই গ্রামের সিয়াম। এছাড়া একই গ্রামের মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নিহত পাঁচ বছর বয়সী নিছামনি টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিছামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফন না করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ১৫ জুন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

পরে আরিফ, রাকিব, সিয়াম ও মারুফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ ও ১৭ জুন রাতে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামিরা। শিশুটিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে নির্জনস্থানে নিয়ে এই চারজন মিলে ধর্ষণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় কংশ নদীতে ফেলে দেয়। জবানবন্দি শেষে বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ’খুব দ্রুততর সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি।  ঘটনা যাচাই- বাছাই শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে আসামিরা তাদের সম্পৃক্ততা যে স্বীকার করেছে, তার আলোকে আমরা সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছি।’ 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিছামনির মা-বাবা। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

কামরুজ্জামান/খাদিজা রুমি/

ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত
ছবি: সংগৃহীত

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি হাজির ছিলেন। রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র। 

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জহিরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, অনৈতিক দাবি আদায়কারীদের জন্য এটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। 

অন্যদিকে, আসামির আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েল উষ্মা প্রকাশ করেন। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিচার চলাকালে ২৪ জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। 
রাকিব হাসানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

জলিল উজ্জ্বল/অন্তরা/

জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় ১৩ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা মামলার ১৩ বছর পর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের লম্বাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানায়, ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী ইসমত আরার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ইসমত আরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে রাতেই গলাটিপে হত্যা করা হয়। পরে ইসমত আরার বড় ভাই মজনু বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ (৯ জুলাই) আসামি আনোয়ার হোসেনে অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ ও মো. নাজমুল ইসলাম।

আসমাউল আসিফ/খাদিজা রুমি/

সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
সারোয়ার আলমগীরের শপথে বাধা নেই: হাইকোর্ট
বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে সারোয়ারের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়ে রুল জারি করে এবং 'ধানের শীষ' প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আপিলের আবেদন করেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। এতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

পরে ৩১ মার্চ আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী। ১৬ জুন ওই আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে আদেশ দেন। এ ছাড়াও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

থিওটোনিয়াস/

আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
আপিল বিভাগের রায়ে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল
হাইকোর্ট

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ একই সঙ্গে আদেশ দিয়েছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, গণভোট এবং সংবিধানে হস্তক্ষেপ করলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তির বিধানও বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রায় দেন। ওই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার এ সংশোধনী আনে।

সংশোধনীতে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৫০ করা হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ, সংবিধান স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধানসহ প্রায় ৫৪টি বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এ সংশোধনী বাতিল চেয়ে রিট করেন সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। পরে আরও চারজন পক্ষভুক্ত হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন রিটকারীরা।

গত রবিবার থেকে টানা তিন দিনের শুনানিতে রিটকারীরা পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আবেদন জানান। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষের আইনজীবীরা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও জানান তারা।

অমিয়/