ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ

বাংলাদেশের স্বার্থকে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়: নরেন্দ্র মোদি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১১:৫৪ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৪, ১১:৫৫ পিএম
বাংলাদেশের স্বার্থকে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়: নরেন্দ্র মোদি
নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ ভবনে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং। ছবি: পিআইডি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বৃহত্তম উন্নয়নসঙ্গী। তাদের স্বার্থকে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।’ শনিবার (২২ জুন) নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ ১০ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর এক যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমি একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে চলেছে। সোনার বাংলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাই। আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে আমরা একসঙ্গে ‘উন্নত ভারত ২০৪৭’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’ অর্জনে সফল হব।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ও তার প্রতিনিধিদলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা ১০ বার দেখা করেছি। তবে আজকের বৈঠকটি বিশেষ। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সরকারের তৃতীয় মেয়াদে প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্ধুরা, বাংলাদেশ আমাদের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ পলিসি, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি, ভিশন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের সংযোগস্থলে রয়েছে। বিগত এক বছরে আমরা একসঙ্গে মিলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পন্ন করেছি। আখাউড়া-আগরতলায় ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ষষ্ঠ বর্ডার অতিক্রমকারী রেল যোগাযোগ শুরু হয়ে গেছে। খুলনা-মোংলা বন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য কার্গো সুবিধা শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দরকে প্রথমবার রেল সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের দুটি ইউনিটই বিদ্যুত উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ভারতীয় রূপিতে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীতে বিশ্বের দীর্ঘতম নদী ভ্রমণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত বন্ধুত্বের পাইপলাইন করা হয়েছে। ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি হচ্ছে, যা জ্বালানি খাতে একটি বিশাল উদ্যোগ ও এটি একটি উদাহণ হয়ে থাকবে।’

আজ আমরা নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি ভবিষ্যত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছি মন্তব্য করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘গ্রিড পার্টনারশিপ, ডিজিটাল পার্টনারশিপ, ব্লু ইকনোমি, স্পেসসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্জন থেকে দুই দেশের যুবকরা লাভবান হবে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী স্যাটেলাইট আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতা দেবে। আমরা আমাদের কেন্দ্রবিন্দুতে সংযোগ, ব্যবসা আর সহযোগিতাকে রেখেছি।’

গত ১০ বছরে আমরা ১৯৬৫ সালের আগের সংযোগকে পুনঃস্থাপন করেছি উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এখন আমরা আরও বেশি ডিজিটালাইজেশন ও বিদ্যুৎ সংযোগের উপর জোর দেব। এতে দুই দেশেরই অর্থব্যবস্থায় আরও গতি আসবে। উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য, উভয় পক্ষই সেপা (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছি। ভারত বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো নির্মাণে সহায়তা করবে।’

৫৪টি অভিন্ন নদী ভারত ও বাংলাদেশকে সংযুক্ত করেছে উল্লেখ করে নরেন্দ মোদি বলেন, ‘আমরা বন্যা ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কতা, পানীয় জল প্রকল্পে সহযোগিতা করছি। আমরা ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তির নবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের তিস্তা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।’

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য, আমরা প্রতিরক্ষা উৎপাদন থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ পর্যন্ত সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এমনটা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস দমন, মৌলবাদ এবং শান্তিপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আমাদের অংশীদারত্ব জোরদার করার সংকল্প করেছি। ভারত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য আমাদের একই দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক ওশান ইনিশিয়েটিভ-এ যোগদানের বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। বিমসটেকসহ অন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামেও আমরা আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’

আমাদের ভাগ করা সংস্কৃতি এবং প্রাণবন্ত মানুষে মানুষে সংযোগ আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি, এমনটা মন্তব্য করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা স্কলারশিপ, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসছেন, ভারত ই-মেডিকেল ভিসা সুবিধা চালু করবে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জনগণের সুবিধার্থে আমরা রংপুরে একটি নতুন সহকারী হাই কমিশন খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য, আমি উভয় দলের জন্য শুভকামনা জানাই।’

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯০ জন।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত দুজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের ও অপরজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ৭৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৯৯৭ জন নারী।

এদিকে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ও মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

এসএন/

হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত এক দিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সরাসরি কোনো মৃত্যু হয়নি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৮১৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৬ জনে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৯৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯২ হাজার ৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ৪১৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এসএন/

মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, ওয়াকার, হিয়ারিং এইড, আই গ্লাসসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে এবং 'ইআরইডিএমসিএম' (EREDMCM) প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, এএফও, এফও, হ্যান্ড স্প্লিন্ট, ওয়াকার, স্পেশাল জুতা, হিয়ারিং এইড এবং আই গ্লাস বিতরণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, যুব গ্রুপের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি কেবল সহানুভূতি নয়, তাদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত। তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়নের পূর্ণতা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল হোসেন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অধিকার বাস্তবায়নে প্রকল্পটি কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়ক উপকরণ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএন/

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/