বাংলাদেশের উর্দুভাষীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। দেশের উর্দুভাষীদের ক্যাম্পগুলোর মানুষ যেন কোনো বৈষম্যের শিকার না হন সেজন্য বাংলাভাষী বাংলাদেশিদেরই দাঁড়াতে হবে। একই সঙ্গে উর্দুভাষার প্রতি বিদ্বেষ না রাখার প্রয়াস শুরুর আহ্বান জানানো হয়।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাম্পের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী পুনর্বাসন: জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও সংলাপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আলোচকদের বক্তব্যে এসব বক্তব্য উঠে আসে।
এতে উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ অ্যান্ড স্টুডেন্ট মুভমেন্টের প্রধান উপদেষ্টা আশরাফুল হক বাবু বলেন, ‘আদালতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আমাদেরকে ভোটার করতে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আমরা বিহারিরা বিহারিই রয়ে গেলাম। বাংলাদেশি হতে পারলাম না। একটা আর্টিকেল দেখেছিলাম- বাঙালি হতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পারলাম না। আমরাও তো মানুষ। এদেশে জন্ম নিয়েছি। এই মাটিতে বড় হয়েছি। আমাদের বাপ-দাদারা কী করেছে, তা আমরা দেখিও নাই। কেন আমাদের সঙ্গে এই বৈষম্য!’
বাংলাদেশি উর্দুভাষীদের কোনো বন্ধু নেই উল্লেখ করে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, ‘বাংলাদেশিদের কম-বেশি সবারই সহায়তা আছে। শুধু উর্দুভাষীদের সহায়তা নেই। তাদের হত্যা করা যায়, জমি কেড়ে নেওয়া যায়, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া যায়। তাদের সঙ্গে সবকিছু করা যায়। এমন অন্য কোনো জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে নেই। অন্য জনগোষ্ঠীর কারো বন্ধু দেশে থাকে, কারো বন্ধু বিদেশে থাকে। কিন্তু এই উর্দুভাষীদের দেশে-বিদেশে কোথাও বন্ধু নেই।’
নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও মানবাধিকারকর্মী শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে আমার সংগঠন নারীপক্ষ উর্দুভাষী নারী ও মেয়েদের নিয়ে কাজ করছে। সেখানে উঠে এসেছে নারীদের ওপর নিপীড়ন। এখানে উর্দুভাষী পুরুষদের বলব, আপনারা আপনাদের নারীদের ওপর নিপীড়ন করবেন না। এমনিতেই আপনারা উর্দুভাষী হিসেবে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার।’
রামরুর নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরারের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যদের মধ্যে লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, উর্দু স্পিকিং পিপলস ইউথ অ্যান্ড স্টুডেন্ট মুভমেন্টের সভাপতি মো. সাদাকাত খান ফাক্কু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ/এমএ/