ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
মাশহাদে সমাহিত হলেন খামেনি ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০ হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬ মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ হঠাৎ দিক হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ মুনিরের সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ, মার্কিন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা সাঙ্গু নদীতে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে যুবদল কর্মী নিখোঁজ সিলেটের নতুন ডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা শেষে মাশহাদে খামেনির মরদেহ সিএফমোটো ও ব্রেম্বোর নতুন অধ্যায় শুরু রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের মধ্যেই বন্যার আশঙ্কা উখিয়ার পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে দুর্যোগ সচিব গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ

একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে: ড. ইউনূস

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৫, ১০:৪৫ এএম
একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে: ড. ইউনূস
টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত ৩০তম নিক্কেই ফোরামে বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা জনগণকে বলছি, নির্বাচন এ বছরের শেষে ডিসেম্বরে অথবা সর্বোচ্চ আগামী বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কিছু রাজনীতিবিদ নির্বাচনের জন্য জুন পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, ডিসেম্বেরই নির্বাচন কেন নয়, সেই প্রশ্ন তুলছেন। দেশের সব রাজনৈতিক দল নয়, শুধু একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত ৩০তম নিক্কেই ফোরামের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

নিক্কেই ফোরামের ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আস্থা হুমকির মুখে। জাতি, সমাজ এমনকি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে এবং আমরা এক গভীর অনিশ্চিত সময় পার করছি। 

আমরা এমন একটি বিশ্বকে প্রত্যক্ষ করছি, যেখানে শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে, উত্তেজনা বাড়ছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সব সময় নিশ্চিত থাকছে না। এশিয়া ও বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে এবং শান্তি দিন দিন অধরা হয়ে উঠছে। ইউক্রেন, গাজা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে যুদ্ধ ও মানবসৃষ্ট সংঘাত হাজারও মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ এক নির্মম রূপ নিয়েছে এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্প দেশটির গভীর মানবিক সংকটকে আরও অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি আমাদের দুই প্রতিবেশীর মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু ব্যয়বহুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।’ পরে যুদ্ধবিরতির জন্য উভয় দেশের নেতাদের তিনি ধন্যবাদ জানান এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহাবস্থানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমরা কোটি কোটি টাকা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় করছি, অথচ লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে বা ন্যূনতম চাহিদার জন্য লড়াই করছে।’

বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত বছর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে একটি পরিবর্তন ঘটেছে এবং এরপর তার সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে, ন্যায়বিচার, সমতা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এটি আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করার, নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার সুযোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এশিয়ার ভবিষ্যৎ এখনো লেখা হয়নি, আমরাই তা একসঙ্গে লিখব।’ বাংলাদেশ ও জাপান একসঙ্গে কাজ করে এশিয়ার ভাগ্য এমনকি বিশ্বের ভাগ্যও পুনর্লিখন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

টোকিওতে বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ সেমিনার অন হিউম্যান রিসোর্সেস’ শীর্ষক এক সেমিনারেও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেমিনারে তিনি বলেন, ‘জাপানে ক্রমবর্ধমান শ্রমিকসংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে অন্তত এক লাখ শ্রমিক নিয়োগের কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।’

সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। প্রথমটি বাংলাদেশের ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি) ও জাপানের কাইকম ড্রিম স্ট্রিট (কেডিএস)-এর মধ্যে। দ্বিতীয়টি বিএমইটি ও জাপানের ন্যাশনাল বিজনেস সাপোর্ট কম্বাইন্ড কো-অপারেটিভস (জাপানে ৬৫টির বেশি কোম্পানির একটি ফেডারেশন) এবং জেবিবিআরএ (জাপান বাংলা ব্রিজ রিক্রুটিং এজেন্সি)-এর মধ্যে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানটি একটি দ্বার উন্মোচনের প্রতীক।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ১৮ কোটি মানুষের দেশ, যার অর্ধেকই ২৭ বছরের নিচে। তিনি বলেন, সরকারের কাজ হলো তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া।

শিজুওকার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সমবায়ের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থার প্রতিনিধি পরিচালক মিতসুরু মাতসুশিতা বলেন, ‘অনেক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশিদের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি মেধাবীদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা লালন করা আমাদের দায়িত্ব।’

এনবিসিসি চেয়ারম্যান মিকিও কেসাগায়ামা বলেন, ‘আমাদের ফেডারেশন তরুণ ও দক্ষ শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে দেখছে। তারা উভয় দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে আমরা এক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’

জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএলডব্লিউ) প্রতিমন্ত্রী নিকি হিরোবুমি বলেন, ‘জাপানে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সে কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিকসংকট ১ কোটি ১০ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারে। 

এদিকে জাপান সফরকালে নিক্কেই সম্মেলনের পর আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার উপস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে মোট ৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে জাপানের কাছে এক বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ এবং এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। জাপান সফর শেষে আগামীকাল দেশে ফিরবেন প্রধান উপদেষ্টা।

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯০
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯০ জন।

 বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত দুজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের ও অপরজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ৭৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৯৯৭ জন নারী।

এদিকে ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ও মারা যান ৪১৩ জন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

এসএন/

হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
হামে মৃত্যু ৭৪৭, এক দিনেই শনাক্ত ৯৪৬
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত এক দিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সরাসরি কোনো মৃত্যু হয়নি। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৮১৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪৬ জনে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৯৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯২ হাজার ৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৮৮ হাজার ৪১৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এসএন/

মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, ওয়াকার, হিয়ারিং এইড, আই গ্লাসসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে এবং 'ইআরইডিএমসিএম' (EREDMCM) প্রকল্পের আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার, এএফও, এফও, হ্যান্ড স্প্লিন্ট, ওয়াকার, স্পেশাল জুতা, হিয়ারিং এইড এবং আই গ্লাস বিতরণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, যুব গ্রুপের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি কেবল সহানুভূতি নয়, তাদের প্রাপ্য অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত। তারা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়নের পূর্ণতা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন এবং সমাজের মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. ইকবাল হোসেন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অধিকার বাস্তবায়নে প্রকল্পটি কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় কমিউনিটিকে সহায়ক উপকরণ ব্যবস্থাপনায় আরও সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসএন/

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/