ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গোপালগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু আসামির মৃত্যুর গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ দুই দিন পর ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া ১৫০ পর্যটক চীনে জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৮ সাতকানিয়ায় পানিবন্দি ৮ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করলেন এসিল্যান্ড ইরান হামলা না থামালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও ভয়ানক হবে: ট্রাম্প চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকার সভাপতি মোবারক, সম্পাদক সবুজ মাছ ধরতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তরুণের মরদেহ উদ্ধার জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর ফেরত ২ জন রিমান্ডে লাল কার্ডের রাজা এবার ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের রেফারি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

হাসিনা ও কামালকে হস্তান্তরে ভারতকে চিঠি পাঠানো হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম
হাসিনা ও কামালকে হস্তান্তরে ভারতকে চিঠি পাঠানো হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত পাঠানোর চিঠি এখানে ভারতের মিশনে অথবা দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমরা চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আজ রায় হয়ে গেছে, আমাদের তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনতে হবে।’

এর আগেও বাংলাদেশের চিঠির জবাব দেয়নি ভারত। এ ছাড়া এই আইনে নানা ফাঁক রয়েছে- এই প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাংবাদিকদের তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চিঠি দেব। আইনি ফাঁক যদি থাকে, তবে সেটা আইনবিদরা দেখবেন।’

প্রচলিত আইনে ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে বাধ্য কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনি বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না। আইনের মানুষরা এটি নিয়ে বলতে পারবেন।’

ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করব না।’

এর আগে সোমবার দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণহত্যার মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এই মামলার অন্য আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক।

এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে পেয়েছিলেন তিনি।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই পাঁচ অভিযোগ হলো- উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা। সূত্র: ইউএনবি

সুমন/

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি হলেন সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের প্রাথির্তা বৈধ এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে সরোয়ার আলমগীর প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলে সব আইনি বাধা দূর হয়। এরপর আদালতের রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে আপিল বিভাগ তাকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলেও চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সব আইনি বাধা দূর হয়।

এলিস/এএফ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত, আশাবাদ ব্যক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে... চুক্তি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

শামা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত এ চুক্তির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের জন্য গঙ্গার পানির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে অল্প সময় বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও কমিটি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এ বিষয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, চলমান আলোচনা সম্পর্কে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর নির্ভর করছে।

শামা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আশা করি ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে আসবে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চুক্তিটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন নদী-সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে আলোচনা করে থাকে। এই কমিশন যৌথ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

এসএন/

‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
‘মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ’ বিলসহ সংসদে দুইটি বিল প্রত্যাহার
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিল এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’—এই দুটি বেসরকারি বিল উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অনুরোধে তিনি বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিল দুটির উদ্দেশ্য বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

এছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মদ্যপান ও মদ্যজাতীয় পানীয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই নতুন করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, যেহেতু বিলের প্রস্তাবক আইনমন্ত্রীর অনুরোধে বিল উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, তাই বিল দুটি ভোটে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রত্যাহার হওয়া ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিলে বলা হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং তরুণ সমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার বিধান করা প্রয়োজন।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়, মদ্যপান ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার উন্নয়নে এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলে ময়নাতদন্তের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। এতে বিশেষ করে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা এবং সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এলিস/এএফ

৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি
খবরের কাগজ ইনেফোগ্রাফিক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধনী এনে ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়ানো, ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা আগেভাগে প্রকাশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সূচি জানান।

এতে বলা হয়, ৩১ জুলাই ২০০৮ বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী এবং ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ৪ আগস্টের মধ্যে খসড়া তালিকার পিডিএফ মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হবে, ৯ আগস্ট খসড়া প্রকাশ, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি-আপত্তি গ্রহণ, ২৭ আগস্ট নিষ্পত্তি এবং ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। 

অন্যদিকে, ভোটকক্ষ বরাদ্দের নিয়মে বড় পরিবর্তন এনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি।

গত ৭ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের যে কোনো সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচন— উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। আগে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪০০ এবং ৩০০-৩৫০ জন।  উপনির্বাচনেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।  

সংশোধিত নীতিমালায় ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ দিন। ভোটকক্ষ কমলেও ভোটগ্রহণে গতি বজায় রেখে ভোটারের চাপ কমাতে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ মৌলিক বিধানগুলো অপরিবর্তিত থাকছে।

এলিস/এএফ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আদনান আজাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আরিফুল আমিন

দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৬’ (স্বর্ণপদক) পেয়েছেন আদনান আজাদ (ফয়সাল বিন আজাদ)। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কারের ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তিপর্যায়ে তিনি এই সম্মাননা লাভ করেন। আদনান আজাদ বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক এবং সেভ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার (সোয়ান)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা ২০২৬, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর যৌথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আদনান আজাদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘রেপটাইল ম্যান অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত আদনান আজাদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে আসছেন। গত ২৮ বছর ধরে লোকালয় ও মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া অসংখ্য সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বুনো হাতির নিরাপদ করিডোর সংরক্ষণের দাবিতে ২০২১ সালে উচ্চ আদালতে রিট করেন, যা পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে হাতি সংরক্ষণ নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি তিনি দেশের একজন অন্যতম বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী হিসেবেও সমাদৃত।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় আদনান আজাদ বলেন, এই স্বীকৃতি দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁর কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেবে। লোকালয়ে চলে আসা বন্যপ্রাণী হত্যা না করে, সেগুলোকে উদ্ধার ও অবমুক্ত করার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

/আবরার জাহিন