ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
উপসাগরীয় ৪ দেশে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আমিরশাহীতে ড্রোন প্রতিহত এক কূপের পানিতে ১৪০০ বছরের সদকা প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা পূর্ব চীনে টাইফুন বাভির আঘাত, তাইওয়ানে আহত ১৩৪ সোনারগাঁ থেকে ছিনতাই ২৫ লাখ টাকার সয়াবিন তেল উদ্ধার হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ইংল্যান্ডের গোল নিয়ে অভিযোগ নরওয়ে কোচের উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চার দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ সিরিজ সম্পন্ন করল ইউল্যাব চুয়াডাঙ্গায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতার হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন বায়ুদূষণ সচেতনতায় স্বীকৃতি পেলো দুরন্ত বাইসাইকেলের ‘বিষবায়ু’ যুদ্ধের মধ্যেই ড্রোন উৎপাদন তিন গুণ বাড়িয়েছে ইরান টরন্টোর সালসা উৎসবে গোলাগুলি, নিহত ২ সাতকানিয়ায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার সেমিফাইনালের সম্পূর্ণ সময়সূচি রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু দুই বছরে ৩৬০টি পোশাক কারখানা বন্ধ বন্যায় বাড়ছে দুর্ভোগ স্পেনের সামনে আবার বিশ্বজয়ের হাতছানি ঘাম ঝড়িয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা দেশের তৈরি পোশাক খাতের সংকট বাড়ছে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ চরমে, সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষ ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল ডিমের ন্যায্যমূল্য ও ডিজিটাল ডেটাবেজের দাবি বিপিআইএর কে এই ড্যান এনডয়ে? আর্জেন্টিনার জালে বল ঠেলে নজরে সুইস ফরোয়ার্ড বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: শান্তি আলোচনা কি আবার শুরু হবে? বন্ধ জুট মিলে বছরে ব্যয় আট কোটি টাকা মানবভ্রূণের ডিএনএ বদলের নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার

উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে: জামায়াত আমির

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে: জামায়াত আমির
ছবি: খবরের কাগজ

উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। এখনো এই অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে যায় রাজধানীর দিকে। তিনটি বাস্তব প্রয়োজনে ছোটেন তারা। উন্নত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ছোট্ট একটা চাকরি। আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে কথা দিচ্ছি, ঘরে বসে উত্তরবঙ্গকে আপনারা রাজধানী বানাবেন ইনশাল্লাহ’। 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি নির্যাতিত মানুষের কন্ঠ হয়ে এসেছেন জানিয়ে বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছর গোটা দেশ এবং জাতি ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে নির্যাতিত হয়েছে। আমি এসেছি সেই নির্যাতিত মানুষের কন্ঠ হয়ে। যে সমস্ত কচি শিশুরা বাবা হারিয়ে এতিম হয়েছে, তাদের গল্প শোনাতে। আমি ১০ দলের পক্ষ থেকে তাদেরকে সান্ত্বনা দিতে এসেছি’।

তিনি বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে আমাদের যুব সমাজ সাধারণ জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেনি। এবার অনেক অপেক্ষার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হচ্ছে। এই ১২ তারিখ শহিদদের সম্মান করতে গিয়ে বাংলাদেশের বস্তাপচা অতীতের ৫৪ বছর যে ব্যবস্থা শাসকদেরকে দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, চাঁদাবাজ, অত্যাচারী, খুনি, ধর্ষক এবং আয়নাঘরের নায়ক নায়িকা বানায়, তা পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য আমরা হ্যাঁ ভোট দেব ইনশাল্লাহ। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জোয়ার তুলতে হবে। তবে অতীতের বস্তাপচা সকল ব্যবস্থা যেন ভেসে যায়। গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে’।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম। 

বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের জামায়াতের প্রাথী ও জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা-২ ( সদর) আসনের জামায়াতের প্রাথী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. আবদুর করিম, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছ, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

শেষে জামাতের আমির গাইবান্ধার পাঁচজন দলীয় প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হাতে দিয়ে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। 

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না, বেকার ভাতা বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হবে। আমাদের যুবকরা বেকার ভাতা চায় না। আমাদের যুবক যারা আছেন, তারা তাদের হাতের ন্যায্য কাজটা চায়। আমরা ইনশাআল্লাহ প্রত্যেকটা যুবক-যুবতীর হাতকে আমরা বাংলাদেশের দেশ গড়ার  কারিগরের হাতে পরিণত করব। আমরা তাদেরকে বাস্তব শিক্ষা দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলব। এরপর গৌরবের সাথে দেশে হোক প্রবাসে হোক, সম্মানের সাথে সে আয় রোজগার করবে, চাকরি করবে, ব্যবসা করবে ইনশাল্লাহ’। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উত্তরবঙ্গকে পুরো ইন্ডাস্ট্রিজে পরিণত করতে চাই। এটা সম্ভব। এখানে বাংলাদেশের শস্যের তিন ভাগের এক ভাগ সারা বাংলাদেশকে ধান, চাল, ভুট্টা গম সরবরাহ করে। এক কথায় বলতে গেলে এটি হচ্ছে বাংলাদেশের খাদ্যের একটি ভান্ডার। কিন্তু আফসোস- কৃষক তো পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। দুটি কারণে তারা ন্যায্য মূল্য পায় না, একটি হচ্ছে- মধ্যস্বত্বভোগীরা এখানে এসে কামড় দেয়, আরেকটি হচ্ছে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজরা অস্থির করে তোলে। আমরা সেই চাঁদাবাজদের নির্মূল করবো ইনশাল্লাহ। ভয় পেয়ো না চাঁদাবাজ। তোমরাও এই সমাজের মানুষ। আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেব। তোমরাও সম্মানের সাথে বসবাস করবা। সেদিন আর মুখ লুকিয়ে তোমাদেরকে চলতে হবে না সমাজে। তোমাদের মা-বাপকে আর কেউ চাঁদাবাদের মা-বাপ বলবে না’। 

আমরা পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলব। সব জায়গায় সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতৃবৃন্দ জেল খেটেছেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলেছেন হাসতে হাসতে। প্রিয় বাংলাদেশ ছেড়ে আমরা যাইনি, আমরা ছিলাম। জীবনের সম্পদের, ইজ্জতের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ছিলাম। কেন ছিলাম, কারণ এই দেশের মাটিটাকে বড় ভালোবাসি। হে মাটি তোমাকে ফেলে যাব না। কিন্তু শুধুমাত্র জালিমের ভয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাব তা করব না। আমরা যদি সময়ের কোকিল হই, তাহলে সময় যখন আসবে, তখন এসে আপনাদেরকে গান শোনাব কুহু কুহু। সময় যখন চলে যাবে, ডানা মেলে তখন আমরা উড়ে যাব। আর যদি আমরা আপনাদের একজন হই, কোথায় যাব আপনজন ফেলে। যাবো না ইনশাআল্লাহ এখানেই থাকব। শিশুদের জন্য মেধা বিকাশের একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই’ যোগ করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মায়েদের জন্য ঘরে-বাইরে চলাচলে, কর্মস্থলে শতভাগ সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের জীবনের চেয়ে মায়ের সম্মান অনেক দামি। ইনশাআল্লাহ আমাদের সকল মেধা যোগ্যতা দিয়ে মায়েদের সম্মান নিশ্চিত করব। তারা দেশ গড়ার কাজে সমান তালে এবং যোগ্যতা প্রয়োজন মোতাবেক তারাও আমাদের সাথে অবদান রাখবেন। রাষ্ট্রের সকল কাজে তারা শরিক থাকবেন ইনশাল্লাহ। এতে দুটি জিনিসের অভাব পূরণ হবে, একটি কর্ম ক্ষেত্রে সম্মান নাই অপরটি নিরাপত্তা নাই। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদেরকে মায়ের সম্মান দেব এবং জান প্রাণ দিয়ে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আপনারা যদি আমাদের সাথে থাকেন, সেই বাংলাদেশটা আমরা করতে চাচ্ছি’। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কর্মসংস্থানের জন্য এখানে ইপিজেড হওয়া জরুরি। আমরা অবশ্যই এটার দিকে মনোযোগ দেব। বালাসি ও বাহাদুরাবাদ ঘাটকে সেতুর মাধ্যমে জোড়া দিতে চেষ্টা করব, আপনারা দোয়া করবেন। চুরির টাকাগুলো যদি ফেরত পাই, আর নতুন চোরদের হাত যদি আমরা অবস করে দিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে’। 

এর আগে আজ শনিবার সকালে শফিকুর রহমান রংপুরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে  বগুড়ায়, সিরাজগঞ্জে ও পাবনায় জনসভা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। 

গতকাল শুক্রবার জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে জনসভায় বক্তব্য দেন।

রফিক খন্দকার/অমিয়/

পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: স্পিকার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘তাজউদ্দীন সাহেব শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা আক্রমণ করতে যাচ্ছে। মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ সাহেব তখন বলেছিলেন, আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারি না, পাকিস্তান ভাঙতে আমার কোনো অবদান থাকুক, এটি আমি চাই না। সুতরাং তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।’

 শনিবার (১১ জুলাই) ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

স্পিকার বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ওই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। এটিই হলো প্রকৃত সত্য। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি জনতার যুদ্ধ। অথচ, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল, যা ছিল চরম অন্যায়। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করেন এবং নিজের দলের নেতাকে ছাড়া কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।’ 

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তখন পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টের মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। একেকটি ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেন এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এই প্রতিরোধ যুদ্ধই ছিল ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি।’ এ সময় তিনি সৈনিকদের সঙ্গে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত বন্ধন, তা পুনরায় শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

সব দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
সব দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (এমপি) বলেছেন, ‘সব দুর্নীতিবাজ এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে।’ গতকাল শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তিনি বলেন, বাজারে গিয়ে জনগণ অস্থির। জনগণ চাঁদাবাজি করে না। জনগণ এই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের অবৈধ উৎস নেই। তারা ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমন করে বুঝবে, যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বৈষম্য দূর করে প্রথাগত রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে আমাদের সন্তানরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে, আরেকটি গণভোটে। প্রথমটা রক্ষা করেছেন, দ্বিতীয়টা করেন নাই। আমাদের বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ। তিস্তা নিয়ে আগো ভালো ভালো কথা বলছে। তিস্তা নিয়ে বাজেটে ১০ টাকার পদক্ষেপ নেই। জামায়াত আগামীতে সরকারের গঠন করলে ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই দাবি বাস্তবায়ন করবে। 

জামায়াত আমির বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। পুশইন করছে। সরকার মুখে কুলুপ দিয়ে আছে। প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিজিবির সঙ্গে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে একটা শব্দ আসেনি। কার ভয়ে? কাকে খুশি করার জন্য?

এ সময় তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাইপানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।’ শেখ হাসিনার দেশে আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা সাক্ষাৎকার শুনতে পেয়েছি। ডিসেম্বেরে কেউ একজন দেশে আসার অপেক্ষা করছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি করে রেখেছি। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায় সে আর ফিরে আসতে পারে না। পাকিস্তানরাও সম্মান নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা এই কাপুরুষের মতো এই দেশ ছেড়ে, জনগণকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি আর এই দেশে আসার সৎসাহস কখনোই রাখবেন না।’ 

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপার) রাশেদ প্রধান, এপি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আকবর, এলডিপির প্রসিডেন্ট অলি আহমদসহ ১১-দলীয় জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা।

আনোয়ারায় বন্যাদুর্গতদের পাশে জেলা ছাত্রদল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
আনোয়ারায় বন্যাদুর্গতদের পাশে জেলা ছাত্রদল
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বন্যাদুর্গত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা ফকিরহাট এলাকায় এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসমাইল বিন মনির।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রায়পুর ইউনিয়নের অনেক পরিবার পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যেই এই শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় বন্যাকবলিত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবাঈদ খান সিফাত, সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জুয়েল, আবদুল হান্নান, আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রদল নেতা রাশেদুল বাশার, আরিফ হাসান, হেলাল, দিদার, এয়াকুব, ইসমাইল, আলমগীর, আয়াদ, সেজাম, ফাহিম, বটতলী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তারেক, সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন রাকিব, যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান আশিকসহ স্থানীয় ছাত্রদলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

আতিকুল/রিফাত/

কৃষি কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
কৃষি কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার
অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মুশী নুরুজ্জামান নয়ন। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরার শালিখা উপজেলার এক কৃষি কর্মকর্তাকে ফোনে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মুশী নুরুজ্জামান নয়নকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার এক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।

শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পেশিশক্তি প্রদর্শনপূর্বক স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদানের সুস্পষ্ট অভিযোগে শালিখা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মুশী নুরুজ্জামান নয়নকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না এবং দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে কৃষি বিভাগের প্রণোদনার তালিকা ও কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যায়। কথোপকথনে একজন কৃষি কর্মকর্তা কার্ড বিতরণের নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে কার্ড গ্রহণের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। একপর্যায়ে অপর প্রান্তের ব্যক্তি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।

অডিওর শেষাংশে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমার বহুত ক্ষতি করিছেন। ভালো করে ঝুলোয় আপনারে বাড়াবানে। আপনি অফিসে আসেন কালকে, দেখে নেবো।’

এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুশী নুরুজ্জামান নয়ন খবরের কাগজকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভয়েসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি তার প্রকৃত কণ্ঠ নয় এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এমন অডিও ছড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাসেমুর রহমান/আজহার/

শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার দাবি বিএসকেএফ সভাপতির

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার দাবি বিএসকেএফ সভাপতির
ছবি: খবরের কাগজ

শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আতিকুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালে শিল্পখাতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু এই টাকা দিয়ে একটি পরিবার কিভাবে চলবে।

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈষম্যহীন আচরণ করতে হবে জানিয়ে আতিকুর রহমান শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামুলক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় সম্মেলনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ (সদর-হরিণাকুন্ডু) আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা শাখার সভাপতি হারুন-উর-রশীদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফুজুর রহমান/খাদিজা রুমি/