ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এক বছরের সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক আসামি বরিশালের সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সন্তানের সবচেয়ে বড় যা প্রয়োজন রোনালদোর চেয়েও ছোট! পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে কে এই রহস্যময় রেফারি? ব্যাংককে আকিজ সিমেন্টের বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সিলেটে ওসমানী হাসপাতালে ডিউটিরত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর ওয়ার্ড বয়দের হামলা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় বাগ্‌দান, পরে গ্রেপ্তার দম্পতি রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শিশুর মৃত্যু পেটের আলসারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা বরিশালে নারী ব্যবসায়ীদের মারধর, ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন সম্পন্ন এ মাসেই ‘শিকার’ শুরু করছেন অপু বিশ্বাস বিশ্বকাপের গানে ‘টুডে শো’র মঞ্চ মাতালেন সানজয় ও নোরা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ফিরছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ১০টি ফুটবল মাঠের সমান এক জাহাজ! এলপিজির দাম ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমল ৩৫৭ টাকা ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল বিশ্বকাপের উন্মাদনার গল্প বলবে ‘ব্রাজেন্টিনা ক্লাব’ অস্ট্রিয়ার অটোমোবাইল বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির জয়জয়কার বরিশালে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড, ভুক্তভোগী মা-শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের কুমিল্লায় মানহানির মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার নওগাঁয় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্বাস্থ্যকর্মী গ্রেপ্তার এইচএসসিতে কুমিল্লা বোর্ডে ঝরে পড়েছে ২৭৩৪৩ শিক্ষার্থী এমবাপ্পেকে ঘিরে গুঞ্জনের কেন্দ্রে স্প্যানিশ অভিনেত্রী এস্টার ভোলায় কলেজছাত্রকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু

ডিজিটাল ছবি নিয়ে ইসলাম কি বলে?

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩০ পিএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৩ এএম
ডিজিটাল ছবি নিয়ে ইসলাম  কি বলে?
প্রতীকী ছবি

ইসলামি শরিয়তে সব ধরনের ছবি বানানো নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যাপকভাবে যেকোনো প্রাণীর ছবি বানানো ও নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামত দিবসে সবচেয়ে কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীরা।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৫০)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘ওই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যে ঘরে কোনো ছবি, কুকুর বা এমন ব্যক্তি থাকে, যার ওপর গোসল করা ফরজ।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৫২)

 

সাহাবায়ে কেরাম, প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের ইমাম ও ইসলামি স্কলাররা বলেন, কোনো প্রাণীর ছবি প্রস্তুত করা হারাম। ভাস্কর্য, হস্তশিল্প, অঙ্কন, ক্যামেরা বা আধুনিক যেকোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে কারও ছবি বানানো হারাম। হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলোর বিধান অভিন্ন। (ইমদাদুল মুফতিয়ি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৮২৫-৮২৬)

 

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়েজ আছে। যেমন : পাসপোর্ট, আইডি কার্ড ইত্যাদি আইনগত প্রয়োজনে ছবি প্রিন্ট করা জায়েজ। কারণ ইসলামি শরিয়তেপ্রয়োজনঅনেক নিষিদ্ধ বিষয়কেও জায়েজ পর্যায়ে নিয়ে আসে। তবে ডিজিটাল ছবির ব্যাপারে কোরআন-হাদিস বা চার মাজহাবের ইমাম ও পূর্ববর্তী আলেমদের থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না। কারণ ক্যামেরার মাধ্যমে তোলা ছবির বিষয়টি নবীযুগ বা পরবর্তী মনীষীদের যুগেও ছিল না। এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়। 

 

আল্লামা রফি উসমানি ও আল্লামা তকি উসমানির মতো কিছু মুহাক্কিক ফকিহের দৃষ্টিভঙ্গিতে, ডিজিটাল ছবি নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত হবে না। কেননা ছবি হওয়ার জন্য শর্ত হলো, ছবির স্থিরতা ও স্থায়িত্ব থাকা। আর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, ডিজিটাল ছবির স্থিরতা ও স্থায়িত্ব নেই। এজন্য তাদের মতে ডিজিটাল ছবি মূলত ছবিরই অন্তর্ভুক্ত নয়।

 

মিসরের সাবেক মুফতি শায়খ বাখিত বলেন, ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত ছবিতে মূল চিত্রের কিছুই থাকে না। এতে শুধু দৃশ্যের একটি ছায়াকে ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে হাদিসে বর্ণিত নিষিদ্ধ ছবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারণ নিষিদ্ধ চিত্রের অর্থ হলো, কাল্পনিক একটি চিত্র তৈরি করা, যার অস্তিত্ব আগে-পরে ছিল না। এর মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টি করা গুণের সঙ্গে সাদৃশ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়। কিন্তু ক্যামেরা-জাতীয় যন্ত্র দিয়ে ধারণকৃত ছবির মধ্যে এসবের কিছুই পাওয়া যায় না। (প্রিন্টেড ছবির বৈধতার সন্তোষজনক জবাব, পৃষ্ঠা: ২৩) 

 

অনেক ওলামায়ে কেরাম, ডিজিটাল ছবিকে এখনো অবৈধ বলেন। তবে প্রাণহীন যেকোনো বস্তুর ছবি বৈধ। যেমন: পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছপালা ইত্যাদি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক ছবি তোলা, সংরক্ষণ করা ও দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা বৈধ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
বন্ধুরা বাজি ধরলে আপনার অংশ নেওয়া কি ঠিক হবে?
ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের নরম আলোয় বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেটের পিচে নামার আনন্দই আলাদা। কিন্তু ধরুন, ম্যাচ শুরুর আগেই বন্ধুরা মিলে হুট করে বাজি ধরে বসল–‘যে দল হারবে, তারা জয়ী দলকে বড় অংকের টাকা বা বিকেলের নাশতা খাওয়াবে।’ আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এই বাজিতে টাকা দিচ্ছেন না, কেবল নিজের আনন্দের জন্য স্বাভাবিকভাবে খেলছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, বন্ধুদের এই অনৈতিক বাজি ধরার কারণে আপনার নির্দোষ খেলাটিও গুনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি না?

আমাদের সমাজে এটি একটি বড় ব্যাধি। অনেকেই মনে করেন, নিজে বাজি না ধরলে বুঝি অন্য সবার সঙ্গে খেলায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামি শরিয়তের সূক্ষ্ম বিধান এই সাধারণ ভাবনার চেয়ে অনেক গভীর ও সতর্কতামূলক।

ইসলামে জুয়া বা বাজি ধরা সম্পূর্ণ হারাম। আপনি নিজে বাজি না ধরলেও, যখন আপনি এমন একটি ম্যাচে অংশ নিচ্ছেন–যেখানে অন্য পক্ষগুলো বাজি ধরেছে, তখন আপনি পরোক্ষভাবে সেই নিষিদ্ধ বাজি বা জুয়ার ম্যাচটিকে সফল করতে সাহায্য করছেন। ইসলামে যেকোনো গুনাহের কাজে সাহায্য করা বা অংশীদার হওয়া সমান অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। (সুরা মায়েদা, ০২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো যেকোনো অন্যায় ও নিষিদ্ধ পরিবেশ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা। বাজি ধরা ম্যাচটিতে আপনার অংশগ্রহণ সেই জুয়ার আসরকে জমিয়ে তুলতে সাহায্য করে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও জায়েজ নয়।

খেলাধুলা শরীর ও মন সতেজ রাখার একটি চমৎকার মাধ্যম, যতক্ষণ না তা কোনো হারামের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই বন্ধুরা যখনই খেলার মাঠে বাজি ধরার মতো কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আপনার উচিত তাদের বোঝানো এবং তা থেকে বিরত রাখা। তারা যদি না শোনে, তবে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষা করতে সেই ম্যাচ বর্জন করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সাহাবিদের গল্প-০১ মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল গুহার মুখে
ছবি: সংগৃহীত

রাতের অন্ধকারে সাওর পাহাড়ের খাড়া পথ বেয়ে উঠছেন দুজন মানুষ। পেছনে মক্কা নগরীযেখানে ঘোষণা হয়ে গেছে; যে এই দুজনের সন্ধান দেবে, তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। সামনে অনিশ্চিত মরুপথ। একজন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, অন্যজন তার পরম বন্ধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

গুহার অন্ধকারে দুজন আশ্রয় নিলেন। ওদিকে রক্তের নেশায় উন্মত্ত কুরাইশ খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল গুহার একেবারে মুখে। এত কাছেপায়ের শব্দ শোনা যায়, কথার আওয়াজ ভেসে আসে। আবু বকরের বুক কেঁপে উঠল; নিজের জন্য নয়, প্রিয় নবিজির জন্য। তিনি ফিসফিস করে বললেন, ‘ওদের কেউ যদি নিজের পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে!’

জবাবে ভেসে এল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, ‘হে আবু বকর! সেই দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৬৫৩)

আল্লাহতায়ালা কোরআনে এই মুহূর্তটি অমর করে রেখেছেন, ‘তিনি তার সঙ্গীকে বলছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর নিজের প্রশান্তি নাজিল করলেন।’ (সুরা তাওবা, ৪০)

ভেবে দেখুন, পৃথিবীর সব হিসাব বলছিল ধরা পড়া অনিবার্য। কিন্তু যার অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা পূর্ণতা পেয়েছে, তার অভিধানে ‘অনিবার্য বিপদ’ বলে কিছু নেই। কুরাইশরা গুহার মুখ পর্যন্ত এসেও ফিরে গেল।

আজ আমরা কত তুচ্ছ কারণে ভেঙে পড়ি! চাকরি হারানোর ভয়, পরীক্ষার ফল, ব্যবসার লোকসান, সংসারের টানাপোড়েনমনে হয় সব শেষ। অথচ গুহার সেই রাত আমাদের শেখায়, হিসাবের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে। ‘লা তাহজান, ইন্নাল্লাহা মাআনা’চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন এই একটি বাক্যই মুমিনের সারা জীবনের পাথেয়।

হে আল্লাহ! জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গুহায় আমাদের অন্তরে সেই প্রশান্তি দান করুন, যা আপনি আপনার নবি ও সিদ্দিকের অন্তরে দিয়েছিলেন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩ জুলাই)

.৪৯ মিনিট

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
কবরের ৩ পরীক্ষা ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষার হলে বসার আগেই যদি জানা যায় কিছু বিশেষ কারণে পুরো প্রশ্নপত্রই মাফ হয়ে গেছে, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার পরীক্ষায় এমনটা না ঘটলেও, পরকালের প্রথম স্টেশন ‘কবর’-এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় কিন্তু এই সুযোগ রয়েছে। ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অন্ধকার কবরে প্রত্যেক মানুষকে তার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে। যার উত্তর মিললে কবর হবে জান্নাতের বাগান, নতুবা জাহান্নামের গর্ত।

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা কতশত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। কিন্তু মাটির নিচের সেই অনিবার্য পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটুকু? তবে আনন্দের কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ রয়েছেন, যাদের কবরে এই কঠিন জেরার মুখোমুখি হতেই হবে না।
রেফারেন্সসহ দেখে নেওয়া যাক সেই মহান ব্যক্তিদের তালিকা:

১. নবি-রাসুলগণ: বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইবনুল কায়্যিম জাওজি (রহ.) তার 'আর-রুহ' কিতাবের ১১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ আলেমের মতে, নবি-রাসুলদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ তাঁরা নিজেই ছিলেন দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষক।

২. জীবন উৎসর্গকারী শহিদ: যারা আল্লাহর জমিনে দ্বিন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হন, তাঁদের কোনো প্রশ্ন করা হবে না। সুনানে নাসায়ির ২০৫৩ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাঠে শহীদের মাথার ওপর তরবারির ঝলকানিই কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট।

৩. দেশের সীমান্ত প্রহরী: দেশের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়া অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়, তাঁরাও এই দায় থেকে মুক্ত। সুনানে নাসায়ির ৩১৬৭ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সীমান্ত পাহারা দেওয়া অবস্থায় মৃত ব্যক্তি কবরের যাবতীয় ফিতনা ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. জুমার দিনে মৃত্যু: সপ্তাহের সেরা দিন জুমার বার। এই দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে তিনি বিশেষ সুবিধা পান। সুনানে তিরমিজির ১০৭৪ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম মারা গেলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। কবর হলো অনন্তকালের প্রবেশদ্বার। দুনিয়ার সাময়িক জীবনের আমলই নির্ধারণ করবে এই প্রবেশদ্বারটি আমাদের জন্য শান্তির হবে নাকি শাস্তির।

৫. পেটের পীড়ায় মৃত্যু: শুনতে অবাক লাগলেও পেটের অসুখে ভুগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও এই ছাড় পাবেন। মুসনাদে আহমদের ১৮৩১০ নম্বর হাদিসে নবীজি (সা.) স্পষ্ট করেছেন যে, যাকে পেটের রোগ হত্যা করেছে, কবরে তাকে শাস্তি বা জেরার মুখোমুখি হতে হবে না।

৬. সুরা মুলকের নিয়মিত পাঠক: যারা প্রতি রাতে নিয়ম করে সুরা মুলক তিলাওয়াত করেন, এই সুরাটি স্বয়ং কবরে এসে তাদের পাহারা দেবে। সুনানে তিরমিজির ২৮৯০ নম্বর হাদিসে এই সুরাটিকে ‘নাজাত দানকারী’ বা মুক্তিদাতা বলা হয়েছে, যা পাঠককে কবরের আজাব থেকে বাঁচায়।

মৃত্যু চিরন্তন সত্য। তবে আমরা যদি সুরা মুলক তিলাওয়াতের মতো আমলগুলো জীবনে নিয়মিত করতে পারি, তবে কবরের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও মিলতে পারে পরম মুক্তি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ। কাবিননামায় লেখা হলো কয়েক লাখ টাকার দেনমোহর। কিন্তু এর পরই শুরু হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা–কেউ বলেন, এই টাকা মেয়ের বাবার কাছে থাকবে; কেউ বলেন, সংসারের প্রয়োজনে স্বামীই ব্যবহার করবে; আবার কোথাও মেয়েটি নিজেই জানে না, এই টাকার প্রকৃত মালিক আসলে কে!

অথচ ইসলাম আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিয়েছে। দেনমোহর কোনো পারিবারিক উপহার নয়, এটি একজন নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং তার ব্যক্তিগত অধিকার। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং তাদের মধ্যে তোমরা যাদেরকে বিবাহ করেছ, তাদের নির্ধারিত মোহর তাদেরকে প্রদান করো।’ (সুরা আন-নিসা, ২৪)

এ আয়াতে তাদেরকে শব্দটি সরাসরি স্ত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, দেনমোহরের মালিক স্ত্রী নিজেই। তার বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য কোনো আত্মীয়ের এতে কোনো স্বত্ব নেই, যদি না স্ত্রী স্বেচ্ছায় কাউকে তা প্রদান করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও এই সৌন্দর্যময় নীতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নারীর আর্থিক স্বাধীনতাকে সম্মান করতেন এবং কখনো দেনমোহরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রথা চালু করেননি। বরং দেনমোহর ছিল নারীর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক।

এ কারণেই আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার কোনো অংশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে বাধ্য করো না। (সুরা আন-নিসা, ১৯)
এই আয়াত প্রমাণ করে, একবার দেনমোহর স্ত্রীর হাতে পৌঁছে গেলে সেটি তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হয়। স্বামী চাইলে জোর করে তা ফেরত নিতে পারেন না, এমনকি স্ত্রীর পরিবারও তার অনুমতি ছাড়া এর ওপর কোনো দাবি করতে পারে না।

বর্তমান সমাজে অনেক নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে দেনমোহরের টাকা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ সামাজিক চাপে তা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন, আবার কেউ স্বামীর প্রয়োজনে দিয়ে পরে আর ফেরত পান না। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে দেনমোহর নারীর অর্থনৈতিক মর্যাদার এক অনন্য স্বীকৃতি।

বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের বন্ধন নয়; এটি অধিকার ও দায়িত্বেরও চুক্তি। আর সেই চুক্তির সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলোর একটি হলো–ইসলাম একজন নারীকে বিয়ের মুহূর্তেই এমন একটি সম্পদের মালিক বানিয়েছে, যার ওপর তার একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত। এই অধিকার রক্ষা করাই সুন্নাহ, আর তা অস্বীকার করা অন্যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক