ইসলামি শরিয়তে সব ধরনের ছবি বানানো নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যাপকভাবে যেকোনো প্রাণীর ছবি বানানো ও নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামত দিবসে সবচেয়ে কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীরা।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৫০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘ওই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যে ঘরে কোনো ছবি, কুকুর বা এমন ব্যক্তি থাকে, যার ওপর গোসল করা ফরজ।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৫২)
সাহাবায়ে কেরাম, প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের ইমাম ও ইসলামি স্কলাররা বলেন, কোনো প্রাণীর ছবি প্রস্তুত করা হারাম। ভাস্কর্য, হস্তশিল্প, অঙ্কন, ক্যামেরা বা আধুনিক যেকোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে কারও ছবি বানানো হারাম। হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলোর বিধান অভিন্ন। (ইমদাদুল মুফতিয়িন, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৮২৫-৮২৬)
তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়েজ আছে। যেমন : পাসপোর্ট, আইডি কার্ড ইত্যাদি আইনগত প্রয়োজনে ছবি প্রিন্ট করা জায়েজ। কারণ ইসলামি শরিয়তে ‘প্রয়োজন’ অনেক নিষিদ্ধ বিষয়কেও জায়েজ পর্যায়ে নিয়ে আসে। তবে ডিজিটাল ছবির ব্যাপারে কোরআন-হাদিস বা চার মাজহাবের ইমাম ও পূর্ববর্তী আলেমদের থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় না। কারণ ক্যামেরার মাধ্যমে তোলা ছবির বিষয়টি নবীযুগ বা পরবর্তী মনীষীদের যুগেও ছিল না। এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়।
আল্লামা রফি উসমানি ও আল্লামা তকি উসমানির মতো কিছু মুহাক্কিক ফকিহের দৃষ্টিভঙ্গিতে, ডিজিটাল ছবি নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত হবে না। কেননা ছবি হওয়ার জন্য শর্ত হলো, ছবির স্থিরতা ও স্থায়িত্ব থাকা। আর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, ডিজিটাল ছবির স্থিরতা ও স্থায়িত্ব নেই। এজন্য তাদের মতে ডিজিটাল ছবি মূলত ছবিরই অন্তর্ভুক্ত নয়।
মিসরের সাবেক মুফতি শায়খ বাখিত বলেন, ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত ছবিতে মূল চিত্রের কিছুই থাকে না। এতে শুধু দৃশ্যের একটি ছায়াকে ধারণ করা হয়। এর সঙ্গে হাদিসে বর্ণিত নিষিদ্ধ ছবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারণ নিষিদ্ধ চিত্রের অর্থ হলো, কাল্পনিক একটি চিত্র তৈরি করা, যার অস্তিত্ব আগে-পরে ছিল না। এর মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টি করা গুণের সঙ্গে সাদৃশ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়। কিন্তু ক্যামেরা-জাতীয় যন্ত্র দিয়ে ধারণকৃত ছবির মধ্যে এসবের কিছুই পাওয়া যায় না। (প্রিন্টেড ছবির বৈধতার সন্তোষজনক জবাব, পৃষ্ঠা: ২৩)
অনেক ওলামায়ে কেরাম, ডিজিটাল ছবিকে এখনো অবৈধ বলেন। তবে প্রাণহীন যেকোনো বস্তুর ছবি বৈধ। যেমন: পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছপালা ইত্যাদি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক ছবি তোলা, সংরক্ষণ করা ও দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা বৈধ।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক