[প্রথমেই ‘খবরের কাগজ’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই কাগজ দীর্ঘদিন ধরে আমার ভালোমন্দ লেখা ছেপে আসছে, এবার সম্পাদক মশাই ‘আমাদের সমাজ সংস্কার ও তার চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখতে অনুরোধ করেছেন। শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, আর ঘাবড়ে থাকতে থাকতেই এই লেখাটা লিখে ফেললাম। পাঠকের তিরস্কার মাথা পেতে নেব। ‘খবরের কাগজ’ তার নিজের পথে সাহস নিয়ে এগিয়ে চলুক।]
‘সংস্কার’ কথাটির একাধিক অর্থ আছে বাংলায়। এক হলো আমার দীর্ঘলালিত বা নতুন অর্জিত বিশ্বাস আর সেই বিশ্বাস-প্রণোদিত আচরণ, আর দুই হলো কোনো ব্যবস্থার অল্পবিস্তর পরিবর্তন। এই দুই অর্থের নিজেদের মধ্যে একটা জটিল সম্পর্কও আছে, কারণ আমি যা পরিবর্তন করতে যাব তার পেছনে আমার বিশ্বাসের একটা ভূমিকা থাকবে। আরও অর্থ আছে, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য অভিধানচর্চা নয়। আমাদের প্রতিবেশে, দেশে ও সমাজে দ্বিতীয় অর্থে যেসব সংস্কার ঘটে তাই নিয়ে এ প্রবন্ধের অবতারণা। এটি মূলত তাত্ত্বিক আলোচনা, কোনো দেশ বা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়, কোনো পক্ষের সমালোচনাও নয়। যারা সংস্কার কাজে এগিয়ে আসেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির উৎস ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য। আবার সেই সঙ্গে এর লক্ষ্য নয় কোনো মাস্টারি করা বা উপদেশ দেওয়া। এই লেখকের সে যোগ্যতা নেই। তবে আমাদের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সমাজ-সংস্কারের যে ইতিহাস গত ২০০ বছরে তৈরি হয়েছে তার আলোতে সংস্কারের কিছু আঞ্চলিক সূত্র খাড়া করাই আমাদের আপাত কর্তব্য।
সামাজিক সংস্কারেরও প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয় একটা নবলব্ধ জ্ঞানের বা উপলব্ধির ভিত্তিতে- যে সংস্কার আমাদের প্রয়োজন। কেন প্রয়োজন? আমাদের সমাজে যে খারাপ জিনিসগুলো তৈরি হয়েছে, যা বর্জন করা দরকার। আর যে ভালো জিনিসগুলো নেই, সেগুলো গ্রহণ করা দরকার। আর কিছু জিনিস হয়তো বদলানো দরকার, গ্রহণ-বর্জনের চরম ব্যবস্থার মধ্যে না গিয়ে। কোনটা খারাপ আর কোনটা ভালো, এই জ্ঞান আসে প্রায়ই একটা তুলনা থেকে- তা হলো অন্য একটা সমাজের সঙ্গে তুলনা। তা অন্য সমাজ কোথায় পাই? সচরাচর আমাদের অবস্থান তো নিজের সমাজে বদ্ধ, কখনো কখনো আমাদের সমাজ এই বদ্ধতার নানা পাকাকাকি ব্যবস্থা-বিধানও খাড়া করে। যেমন- বাংলায় এক সময় সমুদ্রযাত্রা নিষেধ করা হয়েছিল, বিশেষত হিন্দু ব্রাহ্মণের। শুনেছি, সমুদ্র পার হয়ে বিলেতে গিয়েছিলেন বলে বিক্রমপুরের এক ব্রাহ্মণ-সন্তানকে জিভে পুরু গোবর দিয়ে, তাতে ধান পুঁতে তিন দিন কাটাতে হয়েছিল, ধানের অঙ্কুর ফুটে বেরোলে তবে তার নিষ্কৃতি মিলেছিল। তার পর সে প্রথা উঠেই গেল, অর্থাৎ বাংলার হিন্দুসমাজের ব্রাহ্মণ অংশ নিজেকে সংস্কার করল। সম্ভবত এই জ্ঞানের ভিত্তিতে যে, অন্য কোনো সমাজে এই প্রথা নেই। আর দুই, এই প্রথা থাকলে নানা অসুবিধে হয়, না থাকলে বরং সুবিধে হয়।
ওই বিদেশে যারা গিয়েছিল, তারাই অন্য সমাজের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে, তাদের কথা আমাদেরও জানিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার পটভূমি তৈরি হয়েছিল একটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঘটনায়, তার নাম উপনিবেশ স্থাপন। সেটা আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের একটা কার্যক্রম। সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ ভারত উপমহাদেশে বাণিজ্যের সনদ নেয় মোগল বাদশাহদের কাছ থেকে, তার পর কালক্রমে এ দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা অধিকার করে নেয়। সে ইতিহাস সবার জানা।
প্রায় ১৯০ বছরের পরাধীনতার সূত্রে আমরা যেমন অন্য একটা সমাজকে জেনেছিলাম, তেমনই তাদের ব্যবস্থা করা ইংরেজি পড়ার মধ্যদিয়ে ‘আধুনিক’ শিক্ষার সূত্রে আমরা তাদের ভাবনাচিন্তা, বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদিকেও একটু-একটু করে জানছিলাম, আর শিখছিলাম। সব বিষয়েই কী সত্য আর কী মিথ্যা, কী ভালো আর কী মন্দ, কী সুন্দর আর কী অসুন্দর- এসব বিষয়ে আমাদের নতুন নতুন ধারণা তৈরি হচ্ছিল, ফলে কেউ কেউ আমরা পুরোনো, দীর্ঘদিনের মেনে আসা ধারণাগুলো বর্জন ও সংস্কার করছিলাম। হয়তো এই জ্ঞানের সংস্কারটা আগে হলো।
এমনকি ‘জ্ঞান’ কথাটা যেভাবে বুঝতাম, তারও সংস্কার হলো। আগে জ্ঞান বলতে অনেকটাই বুঝতাম বিশ্বাস, যা বিনা প্রশ্নে, বিনা বিচারে আমরা মেনে এসেছি। এখন জ্ঞান বলতে যা দাঁড়াল তা হলো যুক্তি আর তথ্য দিয়ে বিচার করে, না হয় ন্যায়ের পদ্ধতিতে অনুমান করে যা ঠিক বলে বুঝলাম তা-ই জ্ঞান। ‘সত্যের’ সঙ্গে জ্ঞানের একটা বন্ধুত্ব স্থাপিত হলো, যদিও ‘সত্য’ কথাটা নিয়ে এখুনি ঝগড়া শুরু হতেই পারে। এখানে আমরা বলব, এটা অনেকের মেনে-নেওয়া সত্য, শুধু আমার সমাজের বা সংস্কৃতির নয়, অন্য দেশের, অন্য সমাজ ও সংস্কৃতিও এই সত্যের ধারণায় সায় দেয়।
তাই, অন্তত বাংলাভাষী ভূখণ্ডে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে বেশকিছু সংস্কারের চেষ্টা হয়েছিল সমাজের ক্ষেত্রে, বিশেষত, হিন্দুসমাজের ক্ষেত্রে, অন্তত হিন্দুসমাজের উচ্চবর্ণদের ক্ষেত্রে। সমাজ যে নতুন, আধুনিক শিক্ষাকে গ্রহণ করতে চেয়েছিল তার জন্য কোনো বড় নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়নি, বেসরকারি ও সরকারি স্কুল স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্ত ‘পুরুষ’ সন্তানরা তাতে ভিড় করেছিল। ডেভিড হেয়ারের পালকির সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটত স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য। প্রথম যে সংস্কারের চেষ্টা অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা ও অত্যাচারিত নারীসমাজকে জড়িয়ে, তা হলো রামমোহন রায়ের (১৭৭২-১৮৩৩) সতীদাহ নিরোধ আন্দোলন, যা ১৮২৯ সালে আইন হিসেবে বিধিবদ্ধ হয়। দ্বিতীয় বড় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এক সাহেব- জন ড্রিংকওয়াটার বেথুন, মেয়েদের জন্য স্কুল স্থাপন করে (১৮৪৯)। অবশ্যই প্যারীচরণ সরকার আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামও এ প্রসঙ্গে যথেষ্ট স্মরণীয়। মহারাষ্ট্রে এই কাজ একটু আগেই শুরু করেছিলেন জ্যোতিবাও ফুলে। তৃতীয় বড় সংস্কারের আন্দোলন ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবাবিবাহের প্রবর্তনের আন্দোলন, তাও মূলত হিন্দুসমাজের উচ্চবর্ণকেই লক্ষ করছিল।
ধর্মের সংস্কারও এর পাশাপাশি ঘটছিল। রামমোহনের একেশ্বরবাদী ব্রাহ্মধর্ম খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। পরে তা ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু এলিট সমাজ কর্তৃক ব্যাপকভাবে গৃহীত হয় এবং পরিবর্তে একটি এলিট সমাজ সৃষ্টিও করে। আর এই আন্দোলন, খুব প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে হিন্দুসমাজের আর-এক অনুচিত সংস্কারের কিছুটা প্রতিবিধান করে, তা হলো কুৎসিত জাতিভেদ প্রথা। এক সময় ইসলাম, বৌদ্ধধর্ম ও খ্রিষ্টধর্মও তা করেছিল, কিন্তু সেখানেও পরে এক ধরনের জাতিভেদ প্রথা তৈরি হয়েছিল বলে শুনতে পাই। ভট্টাচার্য খ্রিষ্টান আর মণ্ডল খ্রিষ্টান ইত্যাদির মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।
জাতিভেদ প্রথা পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলেরই হিন্দুসমাজের এক প্রবল অনাচার। ভারতে এখনো দলিত বালক উচ্চবর্ণের কলসি থেকে জল খেলে তাকে হত্যার খবর বেরোয়। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা এই বিচ্ছিন্নতাকে কিছুটা দূর করেছে, অসবর্ণ বিবাহও হিন্দুসমাজে চালু হয়েছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে, ছেলেমেয়ের সহপাঠী ও সহকর্মী হওয়ার সুবাদে। কিন্তু তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়েছে তা বলা যায় না। মহাত্মা গান্ধী তথাকথিত ‘হরিজন’দের নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন, বাঙালি হিন্দুদের মধ্যেও মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরু হরিচাঁদ ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল নমঃশূদ্র ও অন্যদের নিয়ে কাজ করেছিলেন, কিন্তু কেন জানি না, কোনো উচ্চবর্ণের হিন্দু নেতা এ বিষয়ে ততটা গলা তোলেননি। পরে দেশভাগের আগে, আমাদের পূর্ববাংলার গ্রামের হিন্দুদের মধ্যে একটু ব্যগ্রতা দেখেছিলাম এই নিয়ে। তারা চর্মকারদের বস্তিতে গিয়ে সত্যনারায়ণপুজোয় অংশ নিয়েছিলেন।
হিন্দু মহিলাদের ক্ষেত্রেও আরও নানা সামাজিক বিধিনিষেধ ছিল, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো সংঘবদ্ধ আন্দোলন কেন হয়নি কে জানে? যেমন বিধবাদের ক্ষেত্রে আমিষ নিষেধ, সাদা থান পরার ব্যবস্থা, শুভকাজের জায়গায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, ইত্যাদি। শিক্ষার বিস্তারে তা বোধ হয় অংশত কেটে গেছে, কিন্তু এখনো সম্পূর্ণ দূর হয়েছে কি? বিদ্যাসাগর বিধবাদের বিবাহে একটা পরিত্রাণের কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের শিক্ষার বিষয়ে জোর দেননি, শিশুশিক্ষা নিয়ে যতই ভাবুন। কেন? যারা সমাজ-সমীক্ষা করেন তাদের কাছে এর উত্তর আছে নিশ্চয়ই।
আমাদেরই শিক্ষার অসম্পূর্ণতা, আমরা অন্য সম্প্রদায়ের সমাজ-সংস্কারের ইতিহাস ততটা ভালো করে জানি না। আমরা মুসলমান সমাজের পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি প্রাথমিক অনীহা, পরে স্যার সৈয়দ আহমেদের আন্দোলনর কথা একটু-আধটু জানি মাত্র, তার বেশি নয়। ফলে এ সম্বন্ধে আমাদের কোনো কথা বলার যোগ্যতা আছে বলে আমি মনে করি না।
কিন্তু একটা কথা বুঝি যে, যেকোনো সমাজ-সংস্কার- তা পরিচ্ছদে হোক, খাদ্যে হোক, শিক্ষায় হোক, ভাষায় হোক, সংস্কৃতিতে হোক- তা করতে হয় অন্যদের কাছে বাহবা পাওয়ার জন্য নয়, নিজেদের সুবিধা ও অগ্রগতির জন্য। মানুষের সভ্যতা মানবসমাজের অগ্রগতির একটা দিশা তৈরি করেছে। সমাজ নিয়ে যারা ভাববেন তারা সেই অগ্রগতির সঙ্গে নিজেদের ভাবনার সংগতির দিকটাও দেখবেন, এমনটাই আশা করা যায়। ব্যক্তির সুবিধা, ব্যক্তির আর সমাজের অগ্রগতি। বাঙালি হিন্দুসমাজের পোশাক ধুতি চাদর পাঞ্জাবি ছিল এক সময়, এখন তা অনুষ্ঠানের পোশাক হয়ে উঠেছে, কাজের পোশাক ইউরোপীয় প্যান্ট-শার্ট-কোর্ট হয়ে গেছে। বাসে-ট্রামে-ট্রেনে যাতায়াত করারও তাতে সুবিধে। এখন সংকর প্যান্ট-কুর্তাও চলেছে। জাপানিরা তো পুরোপুরিই পাশ্চাত্য পোশাক গ্রহণ করেছে, এমনকি বিয়েতেও বর কালো স্যুট পরে আসে। শুধু অনুষ্ঠানে তাদের কিমোনো পরতে দেখা যায়।
মেয়েদের পোশাক পুরুষরা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনা করেছে, এখনো নানা অঞ্চলে তার দাপট কমেছে বলে মনে হয় না। তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা আমরা কতটা শুনেছি কে জানে? তবু শিক্ষা আর অর্থনীতি (মেয়েদের নানা জীবিকার তাগিদ), খেলাধুলার পোশাক, স্কুল বা নানা জীবিকার ইউনিফর্ম কিছুটা হয়তো জায়গা করে নিয়েছে সংস্কৃতিতে।
খাদ্যের ব্যাপারেও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়, ভারতে যেমন একটি দল কোনো খাদ্যকে, এমনকি আমিষকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বদ্ধপরিকর এবং গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীরা এর জন্য খুন-জখমও করে থাকে। বাঙালি হিন্দুদের বৃহৎ অংশ এই অন্ধ সংকীর্ণতা সমর্থন করে না।
বেশি কথা না বাড়িয়ে বলি, আমাদের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি মানুষের, নারী ও পুরুষের সমানভাবে, এসব বিষয়ে মতামতই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত- যতক্ষণ না তা সমষ্টির মঙ্গল বা শালীনতাবোধকে আঘাত করে। পোশাকটা প্রকাশ্য বা ‘পাবলিক’ বিষয়- সে ব্যাপারে যেমন এই নীতি মানা যায়, তেমনই খাবারের মতো ঘরোয়া বিষয়ে, শিক্ষা বা ধর্মাচারের বিষয়েও ব্যক্তির মতকেই মর্যাদা দেওয়া উচিত। আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে এই সংস্কার করতে হবে, পরিবর্তনের হাওয়ায় উড়ে গিয়ে সংস্কার কোনো কাজের কথা নয়। কতদূর এগোব তা যেমন ভাবতে হবে, কোথায় আপাতত থামব, তাও ভাবা দরকার। এখানে বোধ হয় আমরা একটু মাস্টারি করে ফেললাম।
পরিশেষে, বিনীত অজুহাত এই যে, এই লেখক ঐতিহাসিক নয়, সমাজবিজ্ঞানীও নয়। সাধারণ লেখাপড়া করা বাঙালি মাত্র। কাজেই তার ইতিহাস-বর্ণনা ও সমাজবীক্ষণ দুয়েতেই প্রচুর ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। ফলে তার সিদ্ধান্তগুলোও ত্রুটিপূর্ণ হতেই পারে। পাঠকে সেগুলো দেখিয়ে, নিজ গুণে ক্ষমা করে, যদি এর সার কিছু থাকে তা গ্রহণ করলে সুখী হব।
লেখক: ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সাবেক উপাচার্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]