ঢাকা ২ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
পুনঃপরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড নৌবাহিনী প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ময়মনসিংহে গ্যাংকার লাইনচ্যুত, দুই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ অতিরিক্ত ভিড়ে পুরীর রথযাত্রায় নিহত ২, আহত শতাধিক ঢাকায় উদ্বোধন হলো ডেল্টা অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার এবং ডেল্টা ফেস্টিভ্যাল অব আর্কিটেকচার ২০২৬ মাদকে বাধা দেওয়ার জেরে বিএনপি নেতা খুন বিমানের বহরে যুক্ত হবে বোয়িং ও এয়ারবাস: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের লৌহজংয়ে পদ্মাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সেঞ্চুরির ইতিকথা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৫৮ পিএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০৭ এএম
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সেঞ্চুরির ইতিকথা

ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক ইভেন্ট ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ১৯৭৫ সালে প্রুডেন্সিয়াল বিশ্বকাপ নামে যাত্রা শুরু ক্রিকেটের এই মেগা ইভেন্টের। যেকোনো দলের জন্য এই ট্রফি জয় ক্রিকেটে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়া বৈশ্বিক মঞ্চে ক্রিকেটাররা রাখেন নিজেদের সামর্থ্যের স্বাক্ষর। কেউ বল হাতে, কেউ বা দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। আজ জেনে নেওয়া যাক ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি ও  সেঞ্চুরিয়ানদের ইতিকথা।

বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান

ওয়ানডে বিশ্বকাপে মোট সেঞ্চুরি হয়েছে ১৯৬টি। প্রথম আসরের প্রথম দিনেই হয়েছিল দুটি। ১৯৭৫ সালের ৭ জুনে লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে ১৩৭ রান করেন ইংল্যান্ডের ডেনিস অ্যামিস।

                                               বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ডেনিস

সেই ম্যাচটি আজও স্মরণীয় ভারতীয় ওপেনার সুনীল গাভাস্কারের ১৭৪ বলে ৩৬ রানের ‘কুখ্যাত’ ইনিংসের জন্য। সেদিনই বার্মিংহামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন নিউজিল্যান্ড ওপেনার গ্লেন টার্নার।

বিশ্বকাপে একাধিক সেঞ্চুরি হাঁকানো ক্রিকেটার

টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে ১১৭ জন ভিন্ন ক্রিকেটার সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫ ক্রিকেটার দুইবার বা তার বেশি তিন অঙ্কের রানে পৌঁছান।

                               বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি রোহিতের 

সর্বাধিক ছয়টি করে সেঞ্চুরির রেকর্ড দুই ভারতীয় গ্রেট শচীন টেন্ডুলকার ও রোহিত শর্মার। বিরাট কোহলি ও কেন উইলিয়ামসনের মতো আধুনিক যুগের গ্রেটদের দুটি বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি রয়েছে।

বিশ্বকাপে সেরা দশ সেঞ্চুরিয়ান

নাম                               দেশ                    ইনিংস              সেঞ্চুরি

রোহিত শর্মা                    ভারত                    ১৭                     ৬

শচীন টেন্ডুলকার           ভারত                   ৪৪                      ৬

রিকি পন্টিং                     অস্ট্রেলিয়া            ৪২                      ৫

কুমার সাঙ্গাকারা             শ্রীলঙ্কা                 ৩৫                      ৫

এবি ডি ভিলিয়ার্স             দ. আফ্রিকা           ২২                      ৪

তিলকরত্নে দিলশান         শ্রীলঙ্কা                 ২৫                      ৪

সৌরভ গাঙ্গুলী                 ভারত                   ২১                      ৪

মাহেলা জয়াবর্ধনে           শ্রীলঙ্কা                 ৩৪                      ৪

ডেভিড ওয়ার্নার               অস্ট্রেলিয়া            ১৮                     ৪

মার্ক ওয়াহ                       অস্ট্রেলিয়া            ২২                    ৪

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের উত্থানে বদলে গেছে ক্রিকেট। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। ব্যাটারদের ক্ষুধার্ত মনোভাব যেন বেড়েই চলেছে। তারই প্রমাণ ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। ওই আসরে জোড়া ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছিল।

                                    বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংস গাপটিলের

মার্টিন গাপটিল খেলেছিলেন ২৩৭ রানের হার না মানা ঝলমলে এক ইনিংস। ক্যারিবীয় সুপারস্টার ক্রিস গেইলের ব্যাট থেকে এসেছিল ২১৫ রান। গাপটিল ও গেইল যথাক্রমে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরার।

বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত ইনিংসে সেরা দশ

নাম                       দেশ                      স্কোর        প্রতিপক্ষ          বছর

মার্টিন গাপটিল       নিউজিল্যান্ড           ২৩৭*       ওয়েস্ট ইন্ডিজ   ২০১৫

ক্রিস গেইল            ওয়েস্ট ইন্ডিজ         ২১৫          জিম্বাবুয়ে         ২০১৫

গ্যারি কারস্টেন       দক্ষিণ আফ্রিকা       ১৮৮*        আমিরাত         ১৯৯৬

সৌরভ গাঙ্গুলী         ভারত                     ১৮৩         শ্রীলঙ্কা             ১৯৯৯

ভিভ রিচার্ডস          ওয়েস্ট ইন্ডিজ          ১৮১          শ্রীলঙ্কা             ১৯৮৭

ডেভিড ওয়ার্নার       অস্ট্রেলিয়া              ১৭৮          আফগানিস্তান  ২০১৫

কপিল দেব              ভারত                     ১৭৫*          জিম্বাবুয়ে         ১৯৮৩

বীরেন্দর শেবাগ        ভারত                     ১৭৫           বাংলাদেশ        ২০১১

ক্রেইগ উইসার্ট         জিম্বাবুয়ে                ১৭২*          নামিবিয়া          ২০০৩

গ্লেন টার্নার               নিউজিল্যান্ড            ১৭১*         ইস্ট আফ্রিকা    ১৯৭৫

কে হবেন ২০০তম সেঞ্চুরিয়ান?

ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর আবারও কড়া নাড়ছে দরজায়। ১০ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের পর্দা ওঠবে ৫ অক্টোবর। আয়োজক ভারত, চতুর্থবারের মতো। তবে এই প্রথম একক আয়োজক তারা। দেশের মাটিতে কোনো ভারতীয় ক্রিকেটার হতে পারবেন টুর্নামেন্টের ২০০তম সেঞ্চুরিয়ান? নাকি কোনো ভিনদেশি ক্রিকেটার?

সব প্রাচীরই একদিন ভাঙে, ভাঙল পিকফোর্ডেরটাও

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
সব প্রাচীরই একদিন ভাঙে, ভাঙল পিকফোর্ডেরটাও
ছবি: সংগৃহীত

কখনো কখনো একজন গোলরক্ষক একাই একটি দলের শেষ আশ্রয় হয়ে ওঠেন। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি যেন বুক পেতে ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষের সব ঝড়। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে জর্ডান পিকফোর্ড ছিলেন ঠিক তেমনই এক প্রহরী। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার দৃঢ়তা, ক্ষিপ্রতা আর অবিশ্বাস্য সব সেভ ইংল্যান্ডকে বারবার বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো- সব প্রাচীরেরই একদিন ভাঙন ধরে।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেই ভাঙনের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি পিকফোর্ডের ইংল্যান্ডের। অদম্য আর্জেন্টাইনদের কাছে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে অদম্য হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইংলিশ ক্লাব এভারটনে খেলা পিকফোর্ড। কখনো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে, কখনো দুই হাত প্রসারিত করে, আবার কখনো বিদ্যুৎগতির প্রতিক্রিয়ায় নিশ্চিত গোল ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। যেন গোলপোস্টের সামনে একজন গোলরক্ষক নন, দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অবিচল প্রাচীর।

ইংল্যান্ডও সেই আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে যায় ১-০ গোলে। সময় যত গড়িয়েছে, ইংলিশ সমর্থকদের স্বপ্ন ততই রঙিন হয়েছে। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, বহু প্রতীক্ষার আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল বুঝি হাতছানি দিচ্ছে। কিন্তু ফুটবল মাঝে মাঝে সময়ের হিসাব মানে না। কয়েক মিনিটেই বদলে যায় ইতিহাসের রং। শেষ সাত মিনিটে যেন জেগে উঠে আর্জেন্টিনা। হঠাৎ করেই ম্যাচের ছন্দ বদলে যায়। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়তে থাকে ইংল্যান্ডের রক্ষণে। এতক্ষণ যিনি একাই সব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, সেই পিকফোর্ডও শেষ পর্যন্ত আর পারেননি।

প্রথম গোলটি যেন ভেঙে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস। আর দ্বিতীয় গোলটি নিভিয়ে দেয় ফাইনালের স্বপ্ন। পিকফোর্ডের গ্লাভস ছুঁয়ে যাওয়া বলও আর থামানো যায়নি। কয়েক মিনিটের ঝড়ে ভেসে গেছে ৮৪ মিনিট ধরে গড়ে তোলা সব আশা। তবু এই পরাজয় পিকফোর্ডের অবদানকে ম্লান করতে পারে না। স্কোরলাইন হয়তো বলবে ইংল্যান্ড হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। কিন্তু যারা ম্যাচটি দেখেছেন, তারা জানেন ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। পিকফোর্ডের একের পর এক দুর্দান্ত সেভই ইংল্যান্ডকে এতক্ষণ লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিল।

গোলরক্ষকের জীবনটাই এমন। অসংখ্য অসাধারণ সেভের পরও শেষ মুহূর্তে একটি বল জালে জড়ালেই সব আলো চলে যায় অন্যদিকে। অথচ সেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্পটি অনেক সময় ফলাফলের আড়ালে চাপা পড়ে যায়।

২০২৬ বিশ্বকাপে ৩২ বছর বয়সী পিকফোর্ডের যাত্রা তাই কেবল একটি হারের গল্প নয়। এটি একজন যোদ্ধার গল্প, যিনি শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। ভাগ্য শেষ পর্যন্ত তার পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু তার সাহস, লড়াই আর আত্মনিবেদন বিশ্বকাপের স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে নেবে। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ওঠা হয়নি ইংল্যান্ডের। শেষ রক্ষা হয়নি পিকফোর্ডেরও। তবু গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাওয়া সেই প্রহরীর নাম বিশ্বকাপের অধ্যায়ে শ্রদ্ধার সঙ্গেই উচ্চারিত হবে।

তবে পুরো ম্যাচজুড়েই পিকফোর্ডকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল চোখে পডার মতো। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডাও হয়। অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেওয়ার পর পিকফোর্ড উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো তার কাছে দৌড়ে গিয়ে গোল উদযাপন করেন, যা ছিল পিকফোর্ডের আগের সেই উচ্ছ্বাসের জবাব।

ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত হার সঙ্গী হয়েছে ইংলিশদের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়া এই গোলরক্ষকের। ম্যাচ শেষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিকফোর্ড বলেন, ‘আমি বিধ্বস্ত। ছেলেদের জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। দল, স্টাফ এবং ভক্ত সবার জন্যই আমি ভীষণ দুঃখিত। আমরা ম্যাচের সিংহভাগ সময় দারুণ ফুটবল খেলেছি। কিন্তু একবার যখন আমরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলাম, আমরা কেবল সেই ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করতে লাগলাম; যা এই সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবলে মোটেও যথেষ্ট নয়। তাই আমি খুবই হতাশ। আমরা এখানে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। ছেলেরা তাদের দৌড়, ঘাম, রক্ত আর চোখের জল সব উজাড় করে দিয়েছিল। তাই এভাবে শেষ মুহূর্তে এসে হেরে যাওয়াটা সত্যিই বুক ভাঙার মতো।’

ম্যাচটি শুরুর আগে পিকফোর্ড বলেছিলেন তারা লিওনেল মেসি এবং পুরো আর্জেন্টিনা দলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মাথা ঠাণ্ডা রেখে ম্যাচটি জিততে চান। ব্যক্তিগতভাবে ম্যাচে তিনি বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও মেসির জাদুকরী দুটি অ্যাসিস্ট এবং আর্জেন্টিনার শেষ মুহূর্তের আক্রমণভাগের তীব্রতার কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হয়েছে পিকফোর্ড ও তার রক্ষণভাগকে। ফলে ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আরও একবার অধরাই থেকে গেল।

বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর দৃষ্টি এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান শক্তি স্পেন। দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজা।

ফিফার সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুলাই (রবিবার)। ম্যাচটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম), নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

৮২ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল- সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, স্পেন ২-০ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা নিশ্চিত করেছে।

আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। লিওনেল মেসির দল ফাইনালে জিততে পারলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে। অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আরও একটি নতুনত্ব থাকছে। ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে (হাফটাইম) বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে, যা সুপার বোলের আদলে অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করবেন। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি ফাইনাল।

অমিয়/

মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল ছবি কি সত্য গল্প?

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল ছবি কি সত্য গল্প?
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ যখন তুঙ্গে। এমন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে দেখা যায়, ২০ বছর বয়সী মেসির কোলে শিশু ইয়ামালকে গোসল করানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই ছবিটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে মনে করলেও, বাস্তবে এটি একটি সত্য ঘটনা।

২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউনিসেফ এবং এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল। ওই ফটোশুটের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট জানান, এটি ছিল একটি চ্যারিটি ক্যাম্পেইনের অংশ। স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয় এবং সৌভাগ্যক্রমে লামিনে ইয়ামালের পরিবার সেই সুযোগ পায়। কাকতালীয়ভাবে, শিশু ইয়ামালের সঙ্গে ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লিওনেল মেসিকে।

তখন কেউ কল্পনাও করেননি, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হবে। ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পর্কে ইয়ামাল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন তিনি নিজেই ছবিটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন না। পরে তার বাবার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মেসি এই ফটোশুট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও ইয়ামালের প্রতিভার প্রশংসা একাধিকবার করেছেন। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেছেন, ইয়ামালকে দেখলে তার নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনের কথা মনে পড়ে। এত অল্প বয়সেই ইয়ামাল যেভাবে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রায় দুই দশক আগে দাতব্য উদ্যোগের একটি স্মরণীয় মুহূর্তে একই ফ্রেমে ধরা পড়েছিলেন মেসি ও ইয়ামাল। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছবিই আজ ইতিহাসের অংশ। আর এখন ফুটবল বিশ্বের নজর তাদের সম্ভাব্য আরেকটি মুখোমুখি লড়াইয়ের দিকে।

পাপ্পু/

দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন মেসি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন মেসি
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বুধবারের (১৫ জুলাই) সেমিফাইনালে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তার দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজ।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

এটি হবে মেসির টানা দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে ২০১৪ সালে প্রথমবার ফাইনালে খেলেছিলেন তিনি। সেবার জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। পরে ২০২২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে তিনটি ফাইনাল খেলার কীর্তি ছিল শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি উইং-ব্যাক কাফুর। তিনি ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিলেন। এর মধ্যে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।

এদিকে, ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে ইতিহাসের পাতায় আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করবে আলবিসেলেস্তেরা।

পাপ্পু/অন্তরা/

পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনাকে ঠেকানোর গোপন ছক!

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পিএম
পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনাকে ঠেকানোর গোপন ছক!
ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচের পর আলোচনায় এসেছে আরেকটি চমকপ্রদ ঘটনা। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে পাওয়া গেছে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নিয়ে তৈরি একটি কৌশলগত নোট।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা যখন সমর্থকদের সঙ্গে জয় উদযাপনে ব্যস্ত, তখন দলের ম্যাসাজ থেরাপিস্ট মার্সেলো ‘ড্যাডি’ ডি’আন্দ্রেয়ার হাতে আসে পিকফোর্ডের পানির বোতল। বোতলের গায়ে লাগানো একটি কাগজে লেখা ছিল আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়দের নাম এবং তারা সাধারণত কোন দিকে শট নিতে পছন্দ করেন, সেই তথ্য।

টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, ডি’আন্দ্রেয়া সেই কাগজ নিয়ে যান লিওনেল মেসি, নিকোলাস গঞ্জালেস ও মার্কোস সেনেসির কাছে। মেসি মনোযোগ দিয়ে নোটটি পড়েন। পরে সতীর্থদের সঙ্গে সেটি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। যদিও ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়নি, তবে পেনাল্টি শুটআউট হলে এই তথ্যই হতে পারত পিকফোর্ডের বড় অস্ত্র।

শুধু মেসি বা গঞ্জালেস নয়, ওই তালিকায় ছিল ম্যাচে গোল করা এনজো ফার্নান্দেজের নামও। নিজের নাম দেখে হেসে ফেলেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। পরে আকাশের দিকে তাকিয়ে ইশারা করেন, যেন টাইব্রেকারে যেতে না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন তিনি।

পরে আর্জেন্টিনার ফিটনেস কোচ লুইস মার্তিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই নোটের ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের জন্য আলাদা আলাদা নির্দেশনা প্রস্তুত করে রেখেছিল ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট।

পাপ্পু/অন্তরা/