ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট হাতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের জার্সিতে সফল ছিলেন তৌফিক খান তুষার। ১১ ম্যাচে ৪২.৩০ গড়ে করেন ৪২৩ রান। টুর্নামেন্টজুড়ে নিয়মিত রান করা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের তুষার নজর কাড়েন বড় শটেও। লিগের প্রথম পর্ব শেষে সবচেয়ে বেশি ২৬টি ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকেই। প্রিমিয়ার লিগে নজর কাড়া তৌফিক তুষার এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো নিয়ে। মাঝে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন খবরের কাগজের ক্রীড়া প্রতিবেদক পার্থ রায়ের সঙ্গে।
প্রিমিয়ার লিগের আগে দারুণ করলেন। টুর্নামেন্টের আগে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করলেন?
তৌফিক তুষার- ঠিক প্রিমিয়ার লিগ না। এনসিএলের (জাতীয় ক্রিকেট লিগ) আগে ফিটনেস নিয়ে কাজ হয়েছিল। তখন ব্যাটিং অনুশীলনও করেছি। যখন মাঠে খেলা ছিল না তখন ইংল্যান্ডে গিয়ে ইনডোর-আউটডোরে অনুশীলন করেছি। এইভাবেই আসলে নিজেকে প্রস্তুত করেছি।
বড় শট খেলার দক্ষতার কারণে এবার বেশি আলোচনা হয়েছে। স্ট্রাইক রেটও একশর বেশি। এর পেছনে রহস্য কী?
তৌফিক তুষার- এটা আসলে আমার ন্যাচারাল। সব সময় বিগ হিট করতে পছন্দ করি। তাতেই স্ট্রাইকরেট বেশি হয়। এমন চিন্তা করি না কত বলে কত করতে হবে। ছোট থেকেই ছক্কা মারার প্রবণতা ছিল। অনুশীলনে ছয় মারার আলাদা অনুশীলন করি। আমার কাছে মনে হয় যে অনেকে মারার বলগুলোতে সিঙ্গেল নেয়, এই রকম কোনো ভয় আমার মধ্যে কাজ করে না। ছয় মারার বলে ছয়ই মারি। মাথায় থাকে দুই একটা ছয় মারার বলে ছয় মারলে সিঙ্গেল নেওয়ার চাপ কমে যায়।
বয়স ৩০ পেরোনোয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় দল সুযোগ পাওয়াটা কঠিন। জাতীয় দল নিয়ে ভাবনা কী?
তৌফিক তুষার- এটা নিয়ে আসলে আমি চিন্তা করি না। যতদিন ফিটনেস ভালো থাকবে ততদিন খেলব। নির্বাচকরা যদি মনে করে যে আমাকে দিয়ে কিছু একটা হবে তাহলে সেটা তারাই বুঝবেন। আমার কাজ ভালো খেলা, সেটাই করে যাব। আমার মনে হয় না বয়স কোনো ফ্যাক্ট, কারণ যতদিন ভালো খেলব, ততদিন তো সবাই ভালো বলবে। অন্যান্য দেশ যেমন ভারত-অস্ট্রেলিয়াতে ৩০-৩৫ বছর বয়সেও অভিষেক হয়। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বয়স একটু বেশি হয়ে গেছে। ৩৭-৩৮ বা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত আমি খেলতে পারব যদি ফিটনেস ভালো থাকে।
ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে আসতে সময়টা একটু বেশি লেগেছে। হতাশাজনক কি না?
তৌফিক তুষার- দেরি বলতে প্রিমিয়ার লিগে (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) খেলতে আমার অনেক সময় লেগেছে। ফার্স্ট ডিভিশনে আমি প্রায় ৬-৭ বছর খেলছি। প্রিমিয়ার লিগে সাত-আট বছর আগে খেলা শুরু করতে পারলে আমার জন্য ভালো হতো।
ঘরোয়া মৌসুম শেষ। নতুন মৌসুম শুরু হতে আরও অনেক দিন বাকি। ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য পরিকল্পনা কী?
তৌফিক তুষার- এখন থেকে পরের মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিবো। এখন এনসিএল-বিসিএলের জন্য প্রস্তুতি শুরু করব। চার দিনের ম্যাচের জন্য ফিটনেসের ব্যাপার আছে। ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলতে যে ধরনের ফিটনেসের দরকার হয়, চার দিনের ম্যাচের জন্য এর চেয়ে আরও ভালো ফিটনেসের প্রয়োজন। চিন্তায় আছে ফিটনেস যেন ওই পর্যায়ে থাকে। এখন এক-দুই মাস ওই ফিটনেস নিয়ে কাজ করব সঙ্গে ব্যাটিং ও স্কিল অনুশীলনটা ঠিক রাখার পরিকল্পনা। এই অফ সিজনে আসলে আমাদের দেশে ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকে না। ইংল্যান্ডে একটা ক্লাবের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সেখানে কয়েকটা ম্যাচ খেলার জন্য যাবো ইনশাআল্লাহ।
এবারের মৌসুমের আগেও বড় শটের দক্ষতা দেখা গেছে। তবুও বিপিএলে মাত্র এক মৌসুম খেলেছেন। আক্ষেপ আছে কি না?
তৌফিক তুষার- ‘আক্ষেপ নেই। কারণ যখন বিপিএল খেলছি, তখন মাত্র দুই-তিন ম্যাচের বেশি খেলার সুযোগ হয়নি। ওই রকম সুযোগ হয়নি নিজেকে প্রমাণ করার। আর টি-টোয়েন্টিও খেলা হয় না আমাদের। এ জন্য ইংল্যান্ডে গিয়ে খেলব। সেখানে অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আছে। চেষ্টা করব বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার। কারণ, বিপিএল তো টি-টোয়েন্টিতে হয়। বিপিএলের পর টি-টোয়েন্টিতে আর কোনো লিগ হয় না। এই জন্য মূলত আমার ইংল্যান্ডে গিয়ে খেলা।’