বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানে বাড়তি উন্মাদনা। দুই দলের ক্রিকেটীয় লড়াই এখন পৌঁছে গেছে অন্য এক উচ্চতায়। এই সংস্করণে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই প্রায় দুই বছর পর। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। বৃষ্টিবিঘ্নিত ওই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। আবার যখন মাঠে নামছে তখন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে পুরোনো গল্পগুলো। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে এসব ভাবনা দূরে সরিয়ে মাঠের খেলার দিকে মনোযোগ দিতে চান দুই দলের অধিনায়কই। পাশাপাশি নিউইয়র্কের নতুন ভেন্যুতে খেলার স্বাদ নিতে মরিয়া তারা। নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। এটাই এই মাঠের প্রথম ম্যাচ।
অ্যাডিলেডে ওই ম্যাচের পর টি-টোয়েন্টিতে আরও একবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। সবশেষ এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টের ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হলেও ছিল না জাতীয় দল। ফলে ম্যাচ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উন্মাদনার অভাব। তবে আজকের ম্যাচে জাতীয় দল মুখোমুখি হওয়ায় দুই দেশের সমর্থকদের মাঝে কাজ করছে বাড়তি উন্মাদনা। প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও সেই উন্মাদনায় নেই একটুও কমতি।
এই প্রস্তুতি ম্যাচের আগে খানিকটা অস্বস্তি আছে বাংলাদেশ শিবিরে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলা মাঠে গড়ায়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজের পর আর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। ফলে মার্কিনিদের বিপক্ষে সিরিজ হারের ওই ক্ষত খানিকটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ টাইগারদের সামনে। তবে ব্যাটাররা ঠিকঠাক ছন্দে না থাকায়, তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে ভারত ম্যাচ। বোলারদের জন্য আজ চ্যালেঞ্জ নিজেদের শেষবারের মতো শাণিয়ে নেওয়ার। অন্যদিকে আইপিএল ব্যস্ততার কারণে মূল আসরের আগে শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভারত। এই ম্যাচে দলের সেরা তারকা বিরাট কোহলিকে পাচ্ছে না তারা। দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান না ধরায় তাকে পাওয়া যাচ্ছে না এই ম্যাচে। তাকে ছাড়া দলের বাকি সব সদস্যকে এই ম্যাচে পাচ্ছে ভারতীয় দল।
বাংলাদেশ-ভারতের এই প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম যাত্রা শুরু হবে। ৩৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই শুধু বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে মাঠটি। এখানে বসানো হয়নি কোনো স্থায়ী উইকেট। অ্যাডিলেড থেকে উড়িয়ে আনা ড্রপ ইন পিচে হবে এই মাঠের ম্যাচগুলো। ফলে মূল ম্যাচের আগে ড্রপ ইন পিচে নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ মিলবে বাংলাদেশ ও ভারতের।
এমন মাঠে প্রথমবার খেলার ব্যাপারে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয় এটা দারুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন মাস আগেও দেখেছি মাঠ তৈরি হচ্ছে। এটা দারুণ ব্যাপার।’ এই মাঠে আগে কোনো ম্যাচ না হওয়ায় উইকেট কিংবা মাঠ সম্পর্কে ধারণা নেই কারও। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দিয়ে আজ প্রথমবারের মতো এই মাঠে গড়াবে কোনো খেলা। সেটা নিয়ে শান্তর ভাষ্য, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে বোঝার চেষ্টা করছি উইকেট কেমন। মাঠ কেমন। এই মাঠে কী হয়, সেটা দেখার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
শান্তর মতো ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাও মুখিয়ে আছেন এই মাঠে খেলার জন্য। তার কথায়, ‘এটা দেখতে দারুণ। আমরা যখন এখানে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামব স্টেডিয়ামের পরিবেশ কেমন থাকে সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নিউইয়র্কের লোকজন এখানে খেলা উপভোগ করছে। কারণ এখানে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ হচ্ছে।’
মাঠ নিয়ে সন্তুষ্ট দুই অধিনায়কের লক্ষ্যে থাকছে ম্যাচের দিকেও। ভারতীয় অধিনায়ক রোহিতের কথায়, ‘আমরা এখানকার কন্ডিশন বুঝতে চাই। এটা বেশি জরুরি। কারণ এর আগে আমরা কখনো এখানে খেলিনি। চেষ্টা করব কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। ৫ জুন প্রথম ম্যাচের আগেই সেই চেষ্টা থাকবে। এটা শুধু ছন্দের ব্যাপার। এ ছাড়াও আছে মাঠ, উইকেট এবং সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারও।’