আবারও শেষ সময়ে গোল, আবারও স্পেনের নায়ক মিকেল মেরিনো। তার শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। অন্যদিকে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে বেলজিয়াম।
শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। তবে ৪১ মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারের দারুণ হেডে সমতায় ফিরে বেলজিয়াম। তাতে সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
বিরতি থেকে ফিরে দুদলই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বেলজিয়ামের সামনে। কিন্তু বক্সের ভেতর বল পেয়েও ম্যাক্সিম ডি কুইপার লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি। তার শটটি জালের বাইরের অংশে গিয়ে লাগে। তাতে দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া হয় বেলজিয়ামের।
এরপর দুই দলই সুযোগ তৈরি করে। প্রথমে লামিনে ইয়ামাল দুর্দান্ত দক্ষতায় বদলি হিসেবে নামা সেইসকে পেছনে ফেলে শট নেন। তবে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি দূরে পাঠিয়ে দেন।
এরপর পাল্টা আক্রমণে যায় বেলজিয়াম। জেরেমি ডোকু ডান দিক থেকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে। তবে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে স্পেনের রক্ষণভাগ। এ সময় বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
ম্যাচের ৬৩ মিনিটে ইয়ামালের আরও একটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। দুর্দান্ত সেভে বেলজিয়ামকে ম্যাচে রাখা কোর্তোয়া মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় রেড ডেভিলসরা। চোট পাওয়ার পরও খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কোর্তোয়া, তবে শেষ পর্যন্ত আর মাঠে থাকতে পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় সেন লামেন্সকে। অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠ ছাড়েন তিনি।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে রদ্রির ভাসানো পাস বক্সের ভেতর পেয়েও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ইয়ামাল। তাতে আরও একটি সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের।
তবে ৮৮ মিনিটে গোল করে আবারও নায়ক বনে যান মিকেল মেরিনো, যার শেষ মুহূর্তের গোলে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ হারিয়েছিল স্পেন। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন পাউ কুবারসি। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেন লামেন্স সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। বলটি হাত ফসকে সরাসরি চলে যায় মেরিনোর সামনে। সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
তবে যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিট) আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ আসে বেলজিয়ামের সামনে। তারা আক্রমণে উঠলে অপ্রত্যাশিত ভুল করে বসেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। আক্রমণ ঠেকাতে তিনি গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা বাইরে চলে আসেন।
সেই সুযোগে বল পেয়ে যান আলেক্সিস সায়েলেমেকার্স। কোণটি খুবই কঠিন ছিল, কিন্তু তখন সামনে ছিল ফাঁকা গোলপোস্ট। সরাসরি শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি সেই চেষ্টা না করে রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে ক্রস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার সেই ক্রস আটকে দেন আইমেরিক লাপোর্তে। ক্লিয়ার করা বল আবারও ফিরে যায় সিমনের হাতে। এমন সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ হতে হয় বেলজিয়ামকে।
এরপর রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির, দ্বিতীয় দল হিসেবে নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয় বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ যাত্রা।
এসজি/