লক্ষ্যটা ৩৪০। চা-বিরতিতে যাওয়ার আগে ভারতের বোর্ডে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১২। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারত দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়েই পার করে দেয় জয়সওয়াল-পন্তের জুটিতে। সেই জুটিই সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ম্যাচ ড্র হওয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ১৮৪ রানে বড় ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩৪ রানে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪০। কিন্তু ৩৩ রানের ভেতরেই রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি বিদায় নিলে শুরু হয়ে যায় পরাজয়ের শঙ্কা। এতবড় লক্ষ্য তাড়া করা চতুর্থ ইনিংসে মোটেও সহজ নয়। সফরকারীদের ড্র করার লক্ষ্য তখন অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।
তবে দ্বিতীয় সেশনে ৮৮ রানের জুটি গড়ে খেলায় ফেরার বার্তা দেন জয়সওয়াল ও পন্ত। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। চা-বিরতির পর পার্ট টাইমার ট্রাভিস হেডের স্পিনে কাটা পড়েন ৩০ রান করা ঋষভ পন্ত। ১২১ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত।
সেখান থেকেই শুরু ভারতের ব্যাটিং ধসের। বাকি ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা আর মাত্র ৩৪ রান যোগ হতেই। দলীয় ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে ভারত পরাজিত ১৮৪ রানের বড় ব্যবধানে।
পন্তের বিদায়ের পর পর দলের স্কোরবোর্ডে ৬ রান যোগ হতেই ২ রান করে বোল্যান্ডের শিকার রবীন্দ্র জাদেজা। ৩ রান পর আগের ইনিংসে দুর্দান্ত শতক হাঁকানো নিতিশ কুমার রেড্ডি থেমেছেন ১ রান করেই দলীয় ১৩০ রানে। ষষ্ঠ উইকেট হারানো ভারতের ভরসার প্রতীক জয়সওয়ালও ৮৪ রান করে কামিন্সের বলে বিদায় নিলে নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের পরাজয়।
জয়সওয়ালকে মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেন কামিন্স। পরে টিভি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা তাকে আউট দিলে তৈরি হয় সমালোচনা। যদিও ধারাভাষ্যকাররা বাংলাদেশের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সাহসী সিদ্ধান্ত বলেছেন।
১৪০ রানে ৭ উইকেট হারানো ভারত ১৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় আকাশ দ্বীপ, জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের বিদায়ে।
৩টি করে উইকেট পান প্যাট কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ড। দুটি উইকেট পান নাথান লায়ন। ১টি করে পান মিচেল স্টার্ক ও ট্রাভিস হেড। ম্যাচসেরা হয়েছেন প্যাট কামিন্স।
মেলবোর্নে এই জয়ে বোর্ডার–গাভাস্কার সিরিজে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট সিডনিতে ৩ জানুয়ারি শুরু হবে।