দীর্ঘদিন যেই এজবাস্টনে টেস্ট জয়ের স্বাদ নিতে পারেনি ভারত, সেই ভেন্যুতেই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৩৩৬ রানের বিশাল জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে শুভমান গিলরা। বিদেশের মাটিতে যা কিনা ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় টেস্টে। তাই এই জয় ঐতিহাসিক বললে মোটেও কম বলা হবে না।
দারুণ এই জয়ে ভারতের নায়ক তরুণ পেসার আকাশ দীপ। তার ঝুলিতে এই টেস্টে গেছে মোট ১০ উইকেট। যার মধ্যে ৬টি দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রান খরচায়। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ইংলিশদের মাটিতে সবচেয়ে সেরা ম্যাচ পারফরম্যান্স এটিই। এই ভেন্যুতে এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতেরই টেস্ট জয়ের কীর্তি রয়েছে।
প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক গিলের ২৬৯ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৯ রানের ইনিংসে অন্যতম বড় ভূমিকা রেখেছিল এই টেস্ট জয়ে সফরকারীদের জন্য। দুই ইনিংসে ৪৩০ রান করেন গিল। ভারতের অধিনায়ক হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ স্কোর এবং টেস্ট ইতিহাসে ব্যক্তিগতভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ এক ম্যাচে।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে শুভমানের সঙ্গে দুটি দারুণ জুটি গড়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ভারতের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ৫৮৭ রানে। সেটির জবাব দিতে নেমে ৮৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েও জেমি স্মিথের অপরাজিত ১৮৪ ও হ্যারি ব্রুকের ১৫৮ রানে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪০৭ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
১৮০ রানের লিড পাওয়া ভারত দ্বিতীয় ইনিংসেও দাপট দেখায় ব্যাট হাতে। দ্বিতীয় ইনিংসেও গিলের শতক (১৬১), জাদেজা অপরাজিত ৬৭ ও পন্তের ৬৫ রানের ৬ উইকেট হারিয়ে ৪২৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা।
ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬০৮। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। বৃষ্টিবিঘ্নিত পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয় দেরিতে। কিন্তু ভারতের পেসাররা ঠিকই চড়াও হন স্বাগতিকদের ওপর। অলি পোপ ও হ্যারি ব্রুককে দ্রুত ফেরান আকাশ দীপ। স্মিথ একা লড়াই করলেও শতক পাননি, থামেন ৮৮ রানে। ইংল্যান্ড অলআউট হয় ২৭১ রানে।
এই জয় সিরিজে ভারতকে সমতায় ফেরাল এবং লর্ডস টেস্টের আগে দিল আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি। এজবাস্টনের 'অভিশাপ' ঘুচে যাওয়ার সঙ্গে নতুন যুগের সূচনা করলেন গিল-আকাশরা।