বল নিয়ে বিতর্ক বেড়েই চলেছে ভারত-ইংল্যান্ড চলমান টেস্ট সিরিজে। ডিউকস বলটি দ্রুতই নরম হয়ে হারাচ্ছে আকৃতি। এনিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিল জড়িয়েছেন তর্কেও। সাবেক ক্রিকেটারদের সমর্থনও পেয়েছেন গিল। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ডিউকস বলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের তিন ব্যাটারের উইকেট নেন জাসপ্রিত বুমরাহ। তবে সফরকারীরা বল নিয়ে ছিলেন অসন্তুষ্ট। তারা অভিযোগ জানান বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের কাছে।
অভিযোগ পেয়ে খতিয়ে দেখেন বাংলাদেশের আম্পায়ার। ততক্ষণে ১০.৩ ওভার খেলা শেষ হয় সেই বলে। শরফুদ্দৌলা বল পরিবর্তন করে দেওয়ার পরও সমস্যার শেষ হয়নি।
তখন পরিবর্তন করে দেওয়া ১০ ওভার পুরোনো বল দেখে আপত্তি তোলেন শুভমান গিলরা। বল দেখে দাবি করেন – এটি কোনোভাবেই ১০ ওভার পুরোনো বল নয়।
স্টাম্প মাইকে মোহাম্মদ সিরাজকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা ১০ ওভার পুরনো বল মনে হচ্ছে? সত্যি সত্যি?’ শরফুদ্দৌলার অনুরোধে সিরাজ বোলিং মার্কে যাওয়ার আগেই এগিয়ে আসেনয় আকাশদীপ এগিয়ে। তিনি বলের পালিশ দেখালেও আম্পায়ার তার অবস্থানেই ছিলেন।
সেই মুহূর্তে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে থাকা সুনিল গাভাস্কারও বল দেখে অবাক হয়ে বলেন, ‘এখান থেকে দেখেও বোঝা যাচ্ছে যে বলটি কোনোভাবেই ১০ ওভার পুরনো নয়। অন্তত ২০ ওভার পুরনো বল! বার বার ডিউক বল নিয়ে অভিযোগ উঠছে। আগে এই বলে যতটা সুইং হতো, এখন সেটার ধারেকাছেও হয় না। এবার সত্যি ভাবার সময় এসেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে ভাবতে হবে, এরপরও তারা ডিউক বলে খেলবে কিনা।’
তবে সেই বলে ১০ ওভারের বেশি খেলা হয়নি। ৮ ওভার খেলা শেষ হলে আবারও আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেন ভারতীয় দল। তখন বল পরীক্ষা করে সেটি পরিবর্তন করেন আম্পায়াররা। তাহলে কি ভারতের অভিযোগই সত্যি ছিল? দ্বিতীয়বার বল পরিবর্তনের পর অবশ্য কোনো অভিযোগ করেনি ভারতীয় দল।
ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রড বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘বল সবসময় একজন ভালো উইকেটকিপারের মতো, যাকে নিয়ে বেশি আলোচনা হয় না। সে চুপচাপ নিজের কাজ করে। কিন্তু এই সিরিজে বল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। গত পাঁচ বছর ধরেই ডিউক বলে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একটা বলে ৮০ ওভার খেলা হওয়া উচিত, ১০ ওভার নয়।’
বিতর্ক তৈরি হলেও ডিউকস কোম্পানির মালিক দিলীপ জাজোদিয়া বলের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট বল তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ না। বিশ্বে মাত্র তিনটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান আছে যারা ক্রিকেট বল তৈরি করে- কোকাবুরা, এসজি এবং আমরা। বল তৈরি করা সহজ কাজ হলে শতশত কম্পানি এই কাজ করত। ক্রিকেটারদের বোঝা উচিত, আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। চুপচাপ বসে বসে পা দুলিয়ে সিগার খাচ্ছি না। ভালো বল তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’