দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এক দশকেরও বেশ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এখন শুধুমাত্র আইসিসি কিংবা এসিসি ইভেন্টে দেখা যায় পাক-ভারত মহারণ। গত এক দশকে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার ১৫টি ম্যাচে মধ্যে ভারত জিতেছে ১২টিতে। পাকিস্তান কেন ভারতের কাছে এত হারে?
প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রশিদ লতিফ। সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়কের মতে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের ম্যাচ হারার প্রধান কারণ।
রবিবার ক্রিকেট বিশ্ব আরেকবার উপভোগ করবে পাক-ভারত মহারণ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই ম্যাচের আগে রশিদ লতিফ বলেন, ‘আমরা আবেগতাড়িত হয়ে একবারেই সবকিছু করার চেষ্টা করি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলোকে গভীরে নিয়ে যেতে পারি না। আর এর কারণেই বেশিরভাগ সময় পাকিস্তান হারে। অন্যদিকে ভারত খেলছে উইকেট ও ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী, তাই তারা সফল হয়।’
সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ভারতের বর্তমান শক্তির দিকগুলোও তুলে ধরেন, বিশেষ করে হার্দিক পান্ডিয়ার ফিনিশিং দক্ষতা ও দলের সামগ্রিক ভারসাম্য। তার কথায়, ‘হার্দিক পান্ডিয়া বিপজ্জনক খেলোয়াড়। মাঝের সারিতে বা নিচে যারা নামে, তারা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। পান্ডিয়া একবার নয়, বহুবার তা করেছে। তাই তাকে এক্স-ফ্যাক্টর বলা হয়। সে পুরো ম্যাচটাই ঘুরিয়ে দিতে পারে।’
ভারতের দলগত ভারসাম্য ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে রশিদ লতিফ বলেন, ‘অভিষেক শর্মা, সাঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদবের মতো খেলোয়াড়রা দলকে ভারসাম্য এনে দেয়। আর বোলিংয়ে বুমরাহ বিশাল এক সম্পদ। সামগ্রিকভাবে এটি একটি দুর্দান্ত দল। বোলিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিখুঁততা। টি–টোয়েন্টিতে ভারতীয়দের স্নায়ু ও দক্ষতা ম্যাচের ভেতরেই ভালোভাবে কাজ করে।’
সাম্প্রতিক সময়ে মহারণ ভারতের প্রভাব ছিল বেশ: ২০২২ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্নে বিরাট কোহলির অপরাজিত ৮২ রান কিংবা কলম্বোতে এশিয়া কাপে ভারতের ২২৮ রানের বিশাল জয়। রশিদ লতিফ বলেন, ‘গত ৩০ বছর ধরে পাকিস্তানের ওপর চাপ আছে। ভারত সেটার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।’
তবে ভারতের সাম্প্রতিক টি–টোয়েন্টি না খেলার বিষয়টিকে তিনি সম্ভাব্য দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন, ‘ভারতের একমাত্র অসুবিধা হলো তারা সম্প্রতি কোনো টি–টোয়েন্টি খেলেনি। হয়তো তারা ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ বা অনুশীলন করছে। কিন্তু অফিসিয়ালি কোনো ম্যাচ খেলেনি। এটা একটা অসুবিধা হতে পারে।’
অন্যদিকে পাকিস্তান এসেছে টার্নিং উইকেটে খেলা একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে, নতুন অধিনায়ক সালমান আলি আগার নেতৃত্বে। এটা পাকিস্তানের জন্য বাড়তি সুবিধা মনে করছেন রশিদ লতিফ, ‘আমাদের দল প্রায় একই। তবে তিনজন নতুন খেলোয়াড় এসেছে—সালমান আলি আঘা, সাইম আইয়ুব (২০২৪ সালে অভিষেক), হাসান নওয়াজ। বাকিরা ২০২১, ২০১৮, ২০১৬ সালের খেলোয়াড়। নতুন অধিনায়ক আছে, এটাকে পাকিস্তানের বাড়তি সুবিধা বলা যায়।’
রশিদ লতিফ সাহিবজাদা ফারহানকে পাকিস্তানের সম্ভাব্য গেমচেঞ্জার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, ‘সে গত ৩-৪ বছর ধরে টি–টোয়েন্টিতে শীর্ষে আছে। প্রায় ১০০০ রান করেছে। গত মৌসুমে ৪-৫টা সেঞ্চুরি করেছে। সে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট ঠিক যেভাবে খেলা উচিত, সেভাবেই খেলে। নিজের জন্য খেলে না, বরং প্রথম ১০-১২ ওভারে দলকে গতি এনে দেয়। এটিই তার সাফল্যের মন্ত্র।’
অনিক/