পাহাড়-সমুদ্রের অপূর্ব মেলবন্ধন বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আর পহেলা ফাল্গুনে বসন্তের এই দিনে পুরো শহর যেন উৎসবমুখর। শিমুল-পলাশের রঙে যেমন প্রকৃতি নিজেকে রাঙিয়েছে, তেমনি নগরীর মানুষও বসন্ত উৎসবকে ঘিরে সেজেছে ভিন্ন ঢঙে। নানা আলপনায় সেজেছে শহরের অলি-গলি, রাজপথও।
১৪ ফেব্রুয়ারি একদিকে ভালোবাসা দিবস, বসন্তবরণ উৎসব; আরেকদিকে একুশে বইমেলা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্বরসতী পূজা। এক দিনে চারটি উৎসবে পুরো শহরের মানুষ ছিল মাতোয়ারা। দর্শনীয় স্থানগুলোতে বইপ্রেমী, সংস্কৃতিপ্রেমী, কর্মী, তরুণ-তরুণীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এদিন শহরের লালদীঘি পাড়ে হয়ে যায় বর্ণিল বসন্ত উৎসব-১৪৩০। সকাল ৮টায় শুরু হয়ে চলে রাত ৮টা অবধি। ‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এলো প্রাণে’ শিরোনামে দেশের অন্যতম আবৃত্তি সংগঠন বোধন আবৃত্তি পরিষদ এ আয়োজন করে।
সকাল ৮টায় কোকিলের ডাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেতার বাদন দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয়।
এতে প্রধান ছিলেন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
অতিথি ছিলেন একুশে পদকে ভূষিত নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, চসিক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল, বিজিএমইএর সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সনজয় দাশ, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ শফিউল আজম চৌধুরী বাহার, দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদ মালেক।
বসন্ত উৎসবে বক্তারা বলেন, ‘বসন্ত উৎসব বাঙালির প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। বোধন আয়োজিত এই উৎসব বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে মেলে ধরেছে এবং আমাদের সংস্কৃতিকে সুদূরপ্রসারী করেছে। বিশ্বজনীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার জন্য এ ধরনের কার্যক্রম সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’
অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় ছিল সুরাঙন বিদ্যাপীঠ, দি স্কুল অব ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ডান্স, প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক অঙ্গন, নৃত্যনন্দন, নৃত্য নিকেতন, কৃত্তিকা নৃত্যালয়, স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স, ওডিসি অ্যান্ড ট্যাগর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, আলোড়ন ডান্স একাডেমি, সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমি।
দলীয় সংগীত পরিবেশনায় ছিল কালচারাল পার্ক, সংগীত ভবন, অদিতি সংগীত নিকেতন।
একক সংগীত পরিবেশন করেছেন স্বপ্নীল বড়ুয়া ডানা, মিতালী রায়, মহিমা দে ত্রয়ী, নুসরাত রিনি, কান্তা দে, রুবেল চৌধুরী, দেবলীনা চৌধুরী, প্রিয়া ভৌমিক, রিয়া সেনগুপ্তা, অনন্যা সেন রিপা।
দ্বৈত সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন জয় সেন হিরো ও ববি মনি।
একক আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী শিমুল নন্দী, মোহিনী সংগীতা সিংহ, সন্দীপন সেন একা, পৃথুলা চৌধুরী, মমি ভট্টাচার্য্য, জয়শ্রী মজুমদার, অনিমেষ পালিত, হোসনে আরা নাজু, পাতা দে, স্মরণ ধর, নিশি চৌধুরী।
হোসনে আরা তারিন, সন্দীপন সেন একা, পৃথুলা চৌধুরী এবং যশস্বী বনিকর নিদর্শনায় পরিবেশিত হয় বোধন আবৃত্তি স্কুলের শিশু বিভাগের পরিবেশনা ‘এই ছড়াটা অন্যরকম’।
এ ছাড়া উৎপল কান্তি বড়ুয়ার রচনা এবং মাইনুল আজম চৌধুরীর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় বড়দের বৃন্দ আবৃত্তি ‘পরান অর এই চাটগাঁ আঁরার’ পরিবেশিত হয়।
বোধন-এর সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘আজ আমাদের অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের সমাগম ঘটেছে। এই আয়োজন করতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে। শহরের সংস্কতিপ্রেমী, সাংস্কৃতিককর্মীদের মিলন ঘটাতে পেরেছি। ১৯ বছর আগে আমরা এই আয়োজন শুরু করি। সেই থেকে চট্টগ্রামে বোধনের হাত ধরে বসন্ত উৎসবের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। এখন অনেক সংগঠন এটি পালন করে এবং স্কুলগুলোতেও বসন্ত উৎসব উদযাপন হচ্ছে। আমরা মনে করি আমরা যে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করি এটি তারই সফলতা।’
এমকে মনির/ইসরাত চৈতি/অমিয়/