রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্কে রয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ। একের পর এক সাপের দেখা মিলছে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এতে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ মে) সকালে উপজেলার বোরচরে কৃষক সুমন বেপারী তার জমিতে ধান কাটতে গিয়ে রাসেল ভাইপার দেখতে পান। পরে সবাই মিলে মেরে ফেলে এই বিষধর সাপটিকে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে গফুর বাদশার আলুর জমিতে দেখা মিলে ছিল দুটি রাসেল ভাইপার। হঠাৎ করেই মতলব উত্তরের নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে এ সাপের উপদ্রব বেড়েছে।
কৃষক সুমন বেপারী জানান, সকালে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে দেখেন ধানের মুঠির নিচে একটি সাপ শুয়ে আছে। সবাই মিলে সাপটিকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মেরে ফেলেন। সাপের ভয়ে কোনো শ্রমিক জমিতে ধান কাটতে চাচ্ছেন না।
বোরচর এলাকার সানাউল্লাহ মাস্টার জানান, গত কয়েক মাস ধরে বোরচর এলাকায় রাসেল ভাইপারের দেখা মিলছে। এতে জমিতে ফসল করতে ভয় পাচ্ছেন শ্রমিকরা।
উপজেলার এখলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী জানান, বোরচর এলাকার বিষধর সাপের দেখা মিলছে। কৃষকদের সাবধানে ধান কাটার জন্য বলা হয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলে এই ধরনের সাপের দেখা মিলছে।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিবুল ইসলাম জানান, রাসেল ভাইপার সাপ খুব বিষধর। এর কামড়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এর প্রতিষেধক রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হলে এ থেকে বাঁচা সম্ভব।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মতলবের চরাঞ্চলে রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব অনেক বেড়েছে। এখলাসপুর ইউনিয়নের বোরচরে এই সাপের উপদ্রব বেশি। এখন কৃষকদের পায়ে বুট জুতা পরে ধান কাটতে হবে। কিন্তু সব শ্রমিককে বুট জুতা দেওয়াও অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আমাদের জানালে ধান কাটা মেশিন দিয়ে সহায়তা করা হবে।’