ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বরিশালের পথে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে ভারী বর্ষণ ১৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথমবার ইংলিশ পরীক্ষা দেবেন মেসি পেলে-ম্যারাডোনার পাশে বেলিংহ্যাম ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপ আমাকে বদলে দিয়েছে: হালান্ড ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ কে জিতবে, অপ্টার ভবিষ্যদ্বাণী সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সকে নিয়ে মন্তব্য, তোপের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাসের সামনে মেসি বিশ্বকাপে বিরল কীর্তি গড়ল সেমিফাইনালের ৪ দল আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, ফাইনালে কে উঠবে? জানাল সুপারকম্পিউটার ইংল্যান্ডকে ‘অপূর্ণ কাজ’ শেষ করার আহ্বান হ্যারি কেইনের ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের পরিকল্পনা ফিফার স্পেনকে ভয় পায় না ফ্রান্স: ইব্রাহিমা কোনাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ নতুন বোয়িং, বিনিয়োগ ১৪ হাজার কোটি টাকা সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের রাজধানীতে দুর্ঘটনার শিকার জবি শিক্ষকদের বাস, আহত  ৩ নৌবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধন বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী আগৈলঝাড়া থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬ বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত বিশ্বমঞ্চে ইল্লিয়ীন, ডি-৮ হালাল এক্সপোতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ফ্যাশন ঝিনাইদহে ফি দিতে দেরি, পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হলো শিক্ষার্থীকে ত্রাণ ও সহায়তা নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে যুবদল

কচুয়ায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:১৯ পিএম
আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম
কচুয়ায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট
কচুয়ার জরাজীর্ন রঘুনাথপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের কচুয়ায় বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবাবঞ্চিত জনগণ। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ,ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলিতে নেই কোনো মেডিকেল কর্মকর্তা। এ সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য রোগী চিকিৎসক সংকটের কারনে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কচুয়ায় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চারটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে।

প্রতিটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন করে মেডিকেল কর্মকর্তা ও একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তার পদ থাকলেও বাস্তবে কোনটিতেই মেডিকেল কর্মকর্তা কর্মরত নেই। তাছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মোট ১৪ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তার স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা দূর থেকে চিকিৎসার জন্য আসতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 

জানা গেছে উপজেলার কাদলা ইউনিয়নের রগুনাথপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কোনো চিকিৎসক বসার মতো স্থান না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার মানুষ। 

এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত।

অপরদিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আটজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তার পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। 

চারটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আটটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য ১২ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন সাতজন। এসব কেন্দ্রে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকরা মা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শম্ভু দেব বলেন, উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক পদে লোকবল কম থাকার বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সোহেল রানা জানান, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে মেডিকেল কর্মকর্তাদের বসার মতো অবস্থা নেই। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্তিতে রয়েছে। তাছাড়া রঘুনাথপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ন হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবন সংকটের কারনে সেখানেও বসার মতো অবস্থা নেই।

সঞ্জিব ভৌমিক/মেহেদী/অমিয়/

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো মরদেহ ভাসানোর খবর গুজব: ইউএনও
ছবি: সংগৃহীত

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বন্যার ফলে কবরস্থানে দাফন করার মতো জায়গা না পেয়ে একটি মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়ার যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে এটি সম্পূর্ণ গুজব। মূলত যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি তার ছেলের সঙ্গে কলাগাছের ভেলা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। এরপর তাকে ওই ভেলায় করে বাড়িতে নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জানাজা সহকারে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী বলেন, ওইদিন আসরের নামাজের পর ফোরকান মাছ ধরার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাগাছের ভেলার সাহায্যে কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পুনরায়  ভেলার সাহায্যে বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দাফন করার মতো কোন জায়গা না থাকায় আমিসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দস্তিদারহাট এলাকার ফকিরমুড়া নামক একটি পাহাড়ে দাফন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওইদিন রাত ৯টার দিকে দস্তিদারহাট বাজারে জানাজা শেষে সেখানে তাকে দাফন করা হয়। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

প্রসঙ্গত, উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মো. ফোরকান বাড়ির পাশে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপরও পরিবারের সদস্যরা তিনি বেঁচে আছেন মনে করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৩০০ গজ দূরে অপেক্ষমান সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলার জন্য কলাগাছের ভেলার সাহায্যে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এ ভিডিওটিকে কবর দেওয়ার মতো জায়গা না পেয়ে মরদেহ ভেলায় বেঁধে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে দাবি করে প্রচার করতে থাকেন।

আরিফুল ইসলাম/এসএন

সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
সোনারগাঁয়ে বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায় বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

 শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে আহত রাহুল আহমেদ বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার সাত ভাইয়া পাড়া গ্রামের জসীমউদ্দিন এলাকায় বিচার শালিস করে থাকেন। একই এলাকার হারকিউলিকসের ছেলে সেজান বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িত। এ বিষয়ে শালিশকারী জসীমউদ্দিন শাসন করার তার সাথে বিরোধ দেখা দেয়৷ শনিবার সকালে জসীমউদ্দিনের মুদি দোকানের সামনে সেজানের নেতৃত্বে  রাতুল মিয়া, সজিব মিয়া, মাছুম মিয়া, মাসুদ রানা সহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, সুইস গিয়ার চাকু, লোহার রড, এসএস পাইপ নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করিতে থাকে। এসময় গালাগালি করিতে নিষেধ করে।

এক পর্যায়ে এলোপাতাড়ীভাবে মারধর করে ও চুরিকাঘাত করে। এসময় দোকানে থাকার মালপত্র ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আহতের পরিবারের লোকজন ও তার ছেলে রাহুল আহমেদ  উদ্ধার করে  তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছেলে রাহুল আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

আহত জসীমউদ্দিন বলেন, সেজানকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারনে তার লোকজন নিতে তাকে ও তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করে। দোকানে হামলা করে করে লুটপাট ভাংচুর করে। কেউ প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে কেউ আর অপরাধের প্রতিবাদ করবে না। 

অভিযুক্ত সেজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কমর্কর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, বাবা ছেলেকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী
ছবি: খবরের কাহজ

বাস্তুহারা মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প জায়গা বা জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী এবং তা বাস্তবায়নেও উদ্যোগ নেবেন। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত রাঙামাটি জেলার দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি । এসময় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান দেওয়ান, সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিমন্ত্রী বিকেল সাড়ে চারটায় রাঙামাটি শহরের ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বাসাবাড়ি মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। জনগণের কাছে কিন্তু আমাদের ওয়াদা। শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট কত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা মেরামত করতে পারি, সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় আছে। সবকিছু নিয়েই আমরা কাজ করছি। এ অবস্হায় যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে এসেছে (আশ্রয়কেন্দ্রে), কোনভাবেই যেন তাদের সহায় সম্পত্তি নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা অরাজকতা করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সর্তবতভাবে তৎপর থাকে  সেটিও আমরা নিশ্চিত করছি।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

আগৈলঝাড়া থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আগৈলঝাড়া থানায় হামলার প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬
ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকিরসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি ইদ্রিস ফকির, ৩০নং আসামি রাব্বি ফকির, ৩৭নং আসামি ইয়াসমিন আক্তার এবং তদন্তে শনাক্ত আসামি হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া রবিবার সকালে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর থানা পুলিশ ওই মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে নুরুল ইসলাম নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবার বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামে। পরে আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকার ডিবি কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজতে নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় আনে। পরে তাদের বরিশালের আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ‘ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এ মামলায় এজাহারভুক্ত ও তদন্তে শনাক্ত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিনে এ মামলায় মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 

সবুজ/রিফাত/

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল থেকে টানা আট দিনের বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অতিবর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কার মধ্যেই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন কাপ্তাই হ্রদ-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষ। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পর বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার ৯ উপজেলা ও ২ পৌর এলাকার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ৪২২ জন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫০৬ জন অবস্থান করছিলেন। জেলার সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩১টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেতু ধসে দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক। এ ছাড়া তিন কিলো নামক স্থানে সড়ক ধসে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে চার দিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

নতুন করে ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮২ জন দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ আকস্মিক প্লাবনের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন। এর মধ্যে ফারুয়া বাজারের দেড় শতাধিক দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সেখানে চার দিনেও কোনো সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা।

পাহাড়ধসের আশঙ্কা ও বন্যা পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও দুর্গতদের বেশির ভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ, গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে আসেননি। এসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর, মাছের ঘের ও বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশনব্যবস্থা। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা খাবার, শিশুখাদ্য, ওষুধ, সুপেয় পানি, ত্রাণসহ সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে রাঙামাটি শহরসহ নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রোববার কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ৯৭ দশমিক ৮০ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। অথচ এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি পরিমাপক ‘রুল কার্ভ’ অনুযায়ী পানির উচ্চতা থাকার কথা ৮৫ দশমিক ৭৬ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ হ্রদে রুল কার্ভের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ ফুট বেশি পানি রয়েছে।

রিফাত/