ফরিদপুরে এক নারীকে পাচারের দায়ে মাকসুদা বিবি (৪৮) ও মর্জিনা বেগম ওরফে সোনালী (৩০) নামে দুই নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক থাকায় আদালতে হাজির ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাকসুদা বিবি সাতক্ষীরা জেলার বৈশালী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনাকালীন অবস্থায় তিনি ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি জুট মিলে কাজ করতেন। অপর আসামি মর্জিনা বেগম ওরফে সোনালীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের হটচারীপুর এলাকায়। মর্জিনা বেগম মাকসুদা বিবির সহযোগী হিসেবে এই পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর একটি জুট মিলে চাকরি করতেন দুই বোন। এই সুবাদে ওই মিলে চাকরিরত আসামি মাকসুদা বিবির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হয়। দুই বোনের মধ্যে বড় বোনকে নিয়ে আসামি ২০১২ সালের ৮ই মে তাদের দেশের বাড়ি সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠান আছে বলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সুন্দরবন দেখাবে বলে উৎসাহ জাগানো হয়। তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মা রাজিয়া বেগম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাকেন। তাদের দু’জনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের খুঁজে পান না। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ভারত থেকে তার ছোট মেয়ের মোবাইলে ফোন করে জানায় যে, তার বড় বোনকে ভারতে পাচার করে এনে বিক্রি করে দিয়েছে। এ সময় সে আরো জানায় যে, তার বোন পুলিশের হেফাজতে আছে। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি অফিস ঢাকার মাধ্যমে যে আমার মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে। তাকে ভারতীয় পুলিশ গত ২০১২ সালে ১৮ই মে তাকে উদ্ধার করেছে।
এই ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী মেয়ের মা রাজিয়া বেগম ২০১২ সালের ২৯ শে মে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে পাচার হওয়া ওই নারী ভারত থেকে ফিরে বাংলাদেশে আছেন।
অভিযুক্তের যাবজ্জীবন রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান, সাক্ষী ও শুনানীর পর ওই নারীকে পাচারের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং রায়ের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
সঞ্জিব দাস/