ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা কিম জং উনের সিলেটে ধর্ষণ মামলার ১৪ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত নোবিপ্রবির সঙ্গে জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ মিলল পাটখেতে

গোপালগঞ্জে বিষ প্রয়োগে অন্তত ৫০ বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
গোপালগঞ্জে বিষ প্রয়োগে অন্তত ৫০ বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মো. ইলিয়াছ মোল্লা। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলের ১০ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে করেছিলেন পেঁয়াজ চাষ। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। জমি থেকে পেঁয়াজ উঠলে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করতেন তিনি। এতে তার লাভ হতো প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

বছর জুড়ে ৫ সদস্যের সংসার চালাতে নির্ভর করছিলেন পেয়াজ চাষের ওপর। ফসল ভালো হওয়ায় তা বিক্রি করে লাভবান হবার স্বপ্ন ছিল দু’চোখ জুড়ে। তবে বিষ প্রয়োগ করে তার স্বপ্নের ফলস নষ্ট করে দেওয়ায় এখন দু’চোখ জুড়ে শুধুই অন্ধকার। শুধু মো. ইলিয়াছ মোল্লা নয়, এমন দশা আরও অন্তত ৩০ কৃষকের।

তবে কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে আর পুলিশ বলছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলের কয়েক’শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেন পেয়াজ চাষীরা। চাষ করা এসব জমিতে পেঁয়াজের ফলনও হয় ভালো। তবে কয়েকদিন আগে রাতের আধারে অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে গোড়াপঁচা বিষ প্রয়োগ করে দূর্বৃত্তরা। এরপরই জমিতে শুরু হয় পেঁয়াজের গোড়াপঁচা। প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে জমির পেয়াজ। 

বিষ প্রয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ গাছ। ছবি: খবরের কাগজ

অনেকই ধার-দেনা, ব্যাংক আর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজের চাষ করেছেন। এখন জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় ধার-দেনা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, সারা বছর পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবে সেই চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। ফসল হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে জমির চাষাবাদকারী কৃষককে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

ঘটনার পরই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেছেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বশার মোল্লা বলেন, ফরিদপুরে সালথা থেকে মুকসুদপুরে জমি নিয়ে আমরা পেঁয়াজ চাষ করেছি। কেউ দুই, কেউ তিন বা কেউ পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। পেয়াজ চাষ করতে আমাদের ইতোমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছে। আর কয়েবদিন পর এসব পিঁয়াজ জমি থেকে উঠিয়ে বিক্রি করবো। এরই মধ্যে বিষ প্রয়োগ করে পেঁয়াজের ক্ষতি করলো। এতে আমরা অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ছবি: খবরের কাগজ

অপর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. জাহিদ ফরিকর বলেন, আমরা ধার দেন করে এসব জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কয়েকদিন পর এসব পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে লাভবান হবার আশায় ছিলাম। কিন্তু দূর্বৃত্তরা আমাদের সেই আশা নষ্ট করে দিলো। এখন আমরা কীভাবে ধার-দেনা শোধ করবো, আর কীভাবেই পরিবার নিয়ে চলবো সেই চিন্তায় দিন কাটছে। এখন আমাদের সরকারি সহায়তা না দিলে আমাদের সর্বশান্ত হতে হবে।

ধীরে ধীরে পেঁয়াজের গাছ শুকিয়ে মারা যায়। ছবি: খবরের কাগজ

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজের জমিগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে জমিতে প্যারাকুয়েট নামক আগাছানাশক ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে পেঁয়াজের গাছ শুকিয়ে মারা যাবে এবং পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। এসব জমিতে কারবেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দুইদিন পরপর স্প্রে, কুইক পটাশ স্প্রে ও গাছ একটু রিকভার করলে পিজিয়ার স্প্রে করলে কিছুটা ক্ষতি কম হবে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, বিষের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের কীভাবে প্রণোদনা দেওয়া যায় সেটি চিন্তা করা হচ্ছে।

মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বাদল/মাহফুজ

 

সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ পিএম
সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন
সোনারগাঁওয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সেতুর নিচে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাকাল স্থানীয়রা। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মারিখালি নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা বর্জ্যের স্তূপ এখন স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১৮ জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারণ করেন। এলাকায় যাতে কেউ আর ময়লা না ফেলে সে নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউই মানছেন না।

জানা যায়, এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের লোকজন ময়লা ফেলেই ভাগাড়ে পরিনত করেছেন। ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারীর পারাপার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন। বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপক ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, সেতুর নিচে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইমরান/এএফ

টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা
জব্দ করা ইয়াবা ও আটক ছদ্মবেশী জেলে। ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফে ছদ্মবেশী এক জেলের জাল থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ইয়াবার বাজার মূল্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ সময় আজিজুল হক (৩৮) নামে ছদ্মবেশী এক জেলেকে আটক করে বিজিবি।

বুধবার (১ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভুঁইয়া।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন মায়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান টেকনাফ সদর নাজির পাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ তথ্য পেয়ে আলু গোলা পোস্ট সংলগ্ন শফি চেয়ারম্যানের মাছের ঘের এলাকায় বিজিবির একটি বিশেষ দল অবস্থান নেয়। পরে আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে তিনজন জেলেকে আসতে দেখে বিজিবি। ওই জেলেরা আসলে জেলের ছদ্মবেশে মাছ ধরার অভিনয় করে ইয়াবার চালানটি নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে আসছিল। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি তাদের ধাওয়া করে একজনকে আটক করতে পারলেও অন্য দুজন পালিয়ে যান।

আটক ব্যক্তির সঙ্গে থাকা ঠেলা জাল তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। আটক আজিজুল হক টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ ডেল পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভুঁইয়া জানান, সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আটক আসামিকে ও জব্দ করা ইয়াবা নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শাহিন/নাঈম

আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

চলতি বর্ষার আমন মৌসুমের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রায় দুই হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সরকারি প্রণোদনার সার, বীজ ও চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চাষের শুরুতেই সরকারের এই সময়োপযোগী সহায়তা স্থানীয় চাষিদের আমন আবাদে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১ হাজার ৯৪৪ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ, মরিচ ও বিভিন্ন সবজির বীজ, রাসায়নিক সার এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তামান্না ইসলাম, বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে কৃষি প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এমন উদ্যোগ কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন তারা।

জুটন/এএফ 

জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস
রোলার দিয়ে সিরাপগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে বিজিবির হাতে আটক হওয়া ২৩ হাজার ৭৫ বোতল অবৈধ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুন) বিকেলে জয়পুরহাট আদালত চত্বরের সামনের সড়কে রোলার দিয়ে এসব সিরাপ ধ্বংস করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫০ টাকা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চন্দ্র ও জয়পুরহাট আদালতের ইন্সপেক্টর আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্যান্যরা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট পৌর শহরের বাটার মোড় থেকে জামালগঞ্জগামী রাস্তা সংলগ্ন জানিয়ার বাগান এলাকার একটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ও চালানের উদ্দেশ্যে রাখা বিভিন্ন নামের সর্বমোট ২৩ হাজার ৭৫ বোতল ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়। ​এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত আলামত ও অবৈধ সিরাপসমূহ প্রশাসনের উপস্থিতিতে রাস্তার ওপর রোলার দিয়ে ধ্বংস করা হয়।

সাগর/নাঈম

সিলেটে ধর্ষণ মামলার ১৪ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
সিলেটে ধর্ষণ মামলার ১৪ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত
সিলেট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে নানাবাড়িতে গিয়ে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সিলেট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন, সিলেটের বিশ্বনাথের শাহবাজপুর গ্রামের মো. জয়নাল ও কাদিরগাঁও গ্রামের মো. নাজিমুদ্দিন। এরমধ্যে জয়নাল ধর্ষিত স্কুলছাত্রীর মামাতো ভাই।

সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নুর আহমদ জানিয়েছেন, রায় প্রদানকালে আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আদালতের এ রায়কে সময়োপযোগী। বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। এ ধরনের রায় সমাজে অপরাধপ্রবণ ও দুষ্কৃতকারীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী নানাবাড়ি গিয়েছিল। সেখানে জয়নাল এবং নাজিমুদ্দিন ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে একটি কক্ষে রেখে অন্য কক্ষে গেলে, জয়নালের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে পরিবারে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায় ওই স্কুল ছাত্রী। খবর পেয়ে শিশুটির মা শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার পরদিনই শিশুটিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন শিশুটির বাবা। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার আদালতে এ রায় দেন বিচারক। মামলায় ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নাঈম/