ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
চোট, লড়াই ও ফিরে আসা ৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির কোচ হতে প্রস্তুত ক্লপ কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে পেল ফ্রান্স, ম্যাচ কবে-কখন? এমবাপ্পের গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স পেনাল্টিতে ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন এমবাপ্পে বিশ্বকাপে স্পেনই সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ: নুনো মেন্দেস প্রথমার্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য, তবু গোলশূন্য ফ্রান্স বিশ্বকাপে কঠিন পরীক্ষার মুখে লামিনে ইয়ামাল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ কে? কানাডাকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো ওনাহির গোলে এগিয়ে গেল মরক্কো কানাডা-মরক্কোর কার্ডে ভরা প্রথমার্ধ ছন্দহীন মরক্কোকে বাঁচালেন বুনু, গোলশূন্য প্রথমার্ধ টেন্ডুলকারের রেকর্ড এখন সূর্যবংশীর সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী: গণরায় বাস্তবায়নে জামায়াতের গণমিছিল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা বেঞ্চে কানাডার অধিনায়ক, মরক্কোর একাদশে পরিবর্তন ‘ঘর বাড়ি’ অ্যাপ তৈরি করলেন বেরোবি শিক্ষার্থী লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান তিন দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে বরগুনায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন সম্পন্ন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামালের জীবনাবসান স্মার্টফোনের দাম কমাল টেকনো পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন সিঙ্গাপুরসহ তিন দেশে এনআইডি কার্যক্রম চলতি মাসে শুরু

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল: দেড় বছরের কাজ হয়নি ৮ বছরেও

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
আপডেট: ০৫ মে ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল: দেড় বছরের কাজ হয়নি ৮ বছরেও
কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নিম্মানাধীন নতুন ভবন। ছবি: খবরের কাগজ

মাত্র ১৮ মাসে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি আট বছরেও। দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও তদারকির অভাবে প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তায়।

কবে এই ভবনের কাজ শেষ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে তা জানে না তদারকিতে থাকা জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর ও লক্ষ্মীপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভবনটির  নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় থমকে আছে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ। আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে জেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষ।

ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করা এবং হাসপাতলটিতে ২৫০ শয্যা চালু করার জন্য লক্ষ্মীপুরবাসী বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। কিন্তু কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি।

জানা যায়, ২০১৮ সালের জুনে ৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৯তলা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২০ সালেই এটি হস্তান্তরের কথা ছিল। সময়মত কাজ শেষ না করে বারবার সময় ও বাজেট বাড়িয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স’। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখেই লাপাত্তা হয়ে গেছেন ঠিকাদার ইস্কান্দার মির্জা শামীম।

ভবনটির নির্মাণ এখন পুরোপুরি বন্ধ। চারদিকে ঝোপঝাড় আর আগাছায় নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্প। তাই ভবনের অভাবে ২৫০ শয্যার হাসপাতালও চালু করা যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে ঝরাজীর্ণ ভবনের বারান্দা ও মেঝেতে  চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক অরুপ পাল জানান, ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিনশত রোগী ভর্তি করা হয়। তাছাড়া বহিঃবিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয় প্রায় আটশত রোগীকে। শুধু স্থান নয়, পাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝে আর নোংরা বারান্দাই এখন রোগীদের শেষ আশ্রয়। সেবা নিতে আসা মোঃ খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি মানুষ না? আট বছর ধরে শুনছি নতুন ভবন হবে, কিন্তু হচ্ছে না। সরকার আসে, সরকার যায় আমাদের দুর্ভোগের  শেষ কোথায়’?

লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, করোনাকালে সরকার এই প্রকল্প থেকে ৮ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ায় কাজ থমকে গিয়েছিল। তবে ভবনটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যে বাকি ২০ শতাংশ কাজ শেষ করা যাবে।

লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন জানান, ভবন প্রস্তুত হলেও জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা। জনবল নিয়োগ ছাড়া চাইলেই ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা যাবেনা। বর্তমানে ১০০ শয্যার জন্য বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে হাসপাতালটি চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো বলেন, “মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভবন পেলেই হবে না, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ না দিলে সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব।”

তবে আশ্বাস আর মেয়াদের চক্র থেকে বেরিয়ে কবে ১৮ লাখ মানুষের সেবার দ্বার উন্মুক্ত হবে সেই প্রশ্নই এখন লক্ষ্মীপুরবাসীর।

মোহাম্মদ রফিকুল/আমান

 

সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
সালিশের রায়ে ক্ষুব্ধ, দাদাকে গুলি
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার রশিদপুর গ্রামে পারিবারিক সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে নজরুল ইসলাম (৭০) নামে এক সালিশদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই নাতি আশিকের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলার নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর  গ্রামের হামিদ উল্যাহ পাটওয়ারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফারুক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসায় শনিবার সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফারুকের চাচা নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সালিশ চলাকালে আয়েশা বেগমের সঙ্গে নজরুল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আয়েশা মোবাইল ফোনে ঢাকায় অবস্থানরত ছেলে আশিককে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় আশিক এলাকায় এসে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি নজরুল ইসলামের বাম হাতের কব্জির ওপর বিদ্ধ হয়। ঘটনার পর থেকেই আশিক পলাতক রয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেন ফারুক বলেন, “আমার ছেলে আশিক আমার চাচাকে গুলি করেছে। সে ঢাকায় ছিল। তার মা তাকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনেছে। এখন সে আমাকেও গুলি করার হুমকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

গুলিবিদ্ধ নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ভাতিজা ফারুক আমাকে সালিশে ডেকে নিয়েছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে ফারুকের স্ত্রী আয়েশা বেগম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি কারও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সন্ধ্যায় আশিক বাড়িতে এসে আকস্মিক আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শামীম মোহাম্মদ আফজাল সাংবাদিকদের জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক্স-রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে শরীরে গুলি রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/এসএন

লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল, আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান
টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের লাঠিপেটা। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান।

 শুক্রবার (৩ জুলাই) এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অভিযুক্ত মির্জাপুর উপজেলার ১ নং মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের এই মারধরের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নুপুরের হাতে একটি লাঠি, কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাদের ও পেটাতে দেখা যায়।

জানা যায়, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বাড়িও একই গ্রামে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মন্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তাঁর দুই মেয়ে রত্ম সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।

বাসন্তী রানী অভিযোগ করে বলেন, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, বিভাষ সরকার নুপুরের ভয়ে এলাকায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি লোকজনকে মারধর করেন।

ছাওয়ালী বাজারের বাসিন্দা বিপুল দাস বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভাষ সরকার নুপুর তার লোকজন দিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করিয়েছিলেন। তার মা বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, তারপরও চার বছর ধরে তাঁরা নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি বলেন, ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট থেকে এধরনের ঘটনা কখনো কাম্য নয়। তার উচিৎ ছিল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, কে কাকে মারছে ভিডিও দেখে চেনার উপায় নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুয়েল রানা/এসএন

একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক
অসচেতনতায় নিভে গেল একই পরিবারের তিন প্রাণ। ছবি: খবরের কাগজ

একটি পুকুর, কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা, তারপর তিনটি ছোট্ট প্রাণের নিথর দেহ—এভাবেই শেষ হয়ে যায় কত পরিবারের স্বপ্ন।

দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন দীর্ঘ থেকেই দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শোকের মাতম উঠছে, অথচ একটু সচেতনতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারত অমূল্য জীবনগুলো।

এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নরসিংদীর মনোহরদীতে পুকুরে গোসল করতে নেমে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সম্পর্কে দুজন মামাতো-ফুফাতো বোন একজন ফুফু হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর আহমদপুর গ্রামে ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মৃতরা হলো—  ময়মনসিংহ ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা (৮), তুহিন মিয়ার মেয়ে আয়েশা ওরফে আশামনি (১২) এবং মুফাচ্ছের মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১৩)।

এদের মধ্যে দুইজন স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন, একজন ফুফু হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাতেমা ও আশামনি চর আহমদপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলের ও মেয়ের ঘরের নাতনি। অপরদিকে সুমাইয়া খোরশেদ মিয়ার ছোট ভাইয়ের মেয়ে। তারা শনিবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিন শিশুকে পুকুরে না দেখে বাড়ির এক ছোট শিশু বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়। এসময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মনোহরদী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক বেদনাদায়ক ঘটনা । এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাওন খন্দকার শাহিন/এসএন

বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হলে জাহাজ ভাঙা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। 

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পিএইচপি শিপ স্ক্র্যাপার্স লিমিটেডের  মো. মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে খাজা আজমীর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. সেলিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট পদে রাইজিং গ্রুপের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রিট খারিজ হয়ে গেলে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেননি। 

এতে সর্বোচ্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন, ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. নুর উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজের গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন— মো. জাহিদুল হক (প্যাসিফিক স্টিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড), মো. তসলিম উদ্দিন (কেআর শিপ রিসাইকেলিং ইয়ার্ড), এস.এম. নূরুন নবী (বিওবি রিসাইকেলার্স), মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ (মেসার্স ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), উবাইদা আসাদী (প্রগ্রেসিভ শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), হোসাইনুল আরেফিন (জনতা স্টিল লিমিটেড) এবং এ.কে.এম. সাইফ উল্লাহ সায়েক (মাস্টার স্টিল অ্যান্ড অক্সিজেন লিমিটেড)।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে দুপুর একটা পর্যন্ত। ৮৪ ভোটারের মধ্যে ৭১ জন ভোট দিয়েছেন। 

বিকেল ৩টায় নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করেন, বিএসবিআরএ নির্বাচনি বোর্ড-২০২৬-এর চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের সদস্য মো. রাসেল প্রদানিয়া, আশরাফ মাহমুদ ও শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা । 

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহসভাপতি পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ও সদস্য পদে নয়জনের মধ্যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন।

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড
গরম থেকে রক্ষা পেতে ঠান্ডা পানীয় পান করছেন। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টায় সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।

এদিকে সকাল থেকে সূর্যের প্রখর খরতাপে পুড়ছে সিলেট। এই তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গরমের তীব্রতায় ছোট-বড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষজন এই গরমে চরম কষ্টে আছেন। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেউ মাথায় ছাতা দিয়ে বের হচ্ছেন।  

তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে সিলেট নগরীর রাস্তায় মানুষের চলাচলও অনেকটা কম। সেই সঙ্গে যানবাহন চলাচলও অনেকটা কম। গরমের কারণে বেশী বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে দুপুর ৩টায় এই তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭. ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা এই বছরের মানে ২০২৬ সালের আজকে পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।’

রিফাত/