ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
৪০ পাউন্ডে শুরু করে মাসে ৩ লাখ টাকা! ভিন্টেজ পোশাক বিক্রি করে তরুণীর অসাধারণ সাফল্য প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে নগর গবেষণাকেন্দ্র উদ্বোধন বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পরও আনচেলত্তির ওপর আস্থা, থাকছেন ২০৩০ পর্যন্ত উত্থানে শেয়ারবাজার ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের আগে কিয়েভে রুশ হামলা, নিহত ৯ সব হাসপাতালে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার: বাজেট ও মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪২ পেনাল্টি বিতর্কে মুখ খুললেন ভিনিসিয়ুস টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান জয়পুরহাটে কমেছে পাট চাষ, জাগ দেওয়াই মূল সংকট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বরিশালে কথিত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে সুপার টাইফুনে নিহত ৫ কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোমা ফাটালেন রোনালদো বরগুনায় সংরক্ষিত বন দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে ৫ জন কারাগারে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ নারী-পুরুষ নান্দাইলে ধর্ষণের বিচার চড়থাপ্পড় ও জরিমানায় হালান্ডের জোড়া গোলে বিদায় ব্রাজিল, মধ্যরাতে উল্লাস মৌলভীবাজারে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র পাবনায় পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৭ স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারমূলক ভাষণ ২৩ বছর ধরে আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: রোনালদো কৃষিকে আধুনিকায়নে ঝিনাইদহে ৯০ কৃষকের হাতে উঠল স্প্রে মেশিন দেনমোহর আদায়ে নীতিমালা করতে হাইকোর্টে রিট জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন আইরিন খান ট্রাম্পের ফোনে বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ফিফা, বিশ্বকাপে তোলপাড় ৩ বছর পর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে মুখোমুখি ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টি, ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা

কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ এএম
কূটনৈতিক টানাপড়েনে আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয়ে ভাটা
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। এ ছাড়া অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয়ও কমেছে। মূলত, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের জেরে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ চাহিদসম্পন্ন বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার, যার প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। ফলে সামগ্রিকভাবে বন্দরের রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে। আমদানির চেয়ে রপ্তানি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রপ্তানিমুখী বন্দর হিসেবে বিবেচিত হয় আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। যদিও বন্দরের সূচনালগ্নে রপ্তানি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ ছিল। বর্তমানে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় অর্ধেকই হিমায়িত মাছ। রপ্তানিকৃত পণ্য ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে।

তবে ব্যবসায়ীদের অনীহায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পণ্যই আমদানি হয়নি। এ কারণে রাজস্ব আয় কমে গেছে। পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার অধিকাংশই ত্রিপুরার বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়। যার ফলে আমদানি খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করা যায় না।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি পণ্য। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকার পণ্য।

অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার জিরা, ডাল ও কাজু বাদাম। ওই অর্থবছরে আমদানি পণ্য থেকে রাজস্ব আসে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।

মূলত, ২০২৫ সালের ১৭ মে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য রপ্তানি কমেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসিসামগ্রী এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য রপ্তানি করতে না পারায় বন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত, হিমায়িত মাছের পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজত খাবার ও পিভিসিসামগ্রী।

বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জানান, পণ্য আমদানি বাড়াতে হলে স্থানীয় বাজারে যখন যে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, সেই পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় পণ্য আমদানি বাড়া বা নিয়মিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি করবেন না।

আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে টানাপড়েন ছিল, তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তবে আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু সেটি না করায় এবার আমাদের রপ্তানি আয় আশানুরূপভাবে বাড়েনি। আমাদের দাবি থাকবে, দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করবে।’

এ বিষয়ে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সাদরুল হাসান চৌধুরী জানান, পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণে রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদর সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। আর ব্যবসায়ীদের সব পণ্য আমদানির অনুমতি দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। 

টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ এএম
টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। এমন একটি ভিডিও গত শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত মির্জাপুর উপজেলার ১ নম্বর মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নূপুর। ৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নূপুরের হাতে একটি চিকন লাঠি। তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে থাকা এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী প্রতিবাদ করলে তিনি প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাদেরও পেটাতে দেখা যায়।

জানা গেছে, ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে সেখানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্ম সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।

বাসন্তী রানী অভিযোগ করেন, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, ‘চেয়ারম্যান রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নূপুর। তিনি বলেন, ‘ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, ‘কে কাকে মারছে ভিডিও দেখে চেনার উপায় নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্যাতন করে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর বরিশালে কথিত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
বরিশালে কথিত যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালে এক আবাসন ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে নগরীর সদর রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে লিটু নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করলেও জেলা ও মহানগর যুবদল জানিয়েছে, সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। গতকাল দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম বলেন, ‘লিটু যুবদলের কেউ নন। একটি মহল ঘটনাটিকে যুবদলের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করছে।’ 

এর আগে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন যুবক কক্ষে ঢোকেন। তাদের মধ্যে লিটু ঢুকে আব্দুল আজিজকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, লিটু একসময় তাদের ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরে হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ফেলা হলেও তিনি এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৭ জুন অফিসে ঢুকে লিটু তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেন। ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে টাকা তোলা যায়নি।

গ্রেপ্তারের আগে লিটু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি একা নই। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। আব্দুল আজিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়েই তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনা পেয়ে লিটুকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনায় সংরক্ষিত বন দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে ৫ জন কারাগারে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ এএম
বরগুনায় সংরক্ষিত বন দখল ও গাছ কাটার অভিযোগে ৫ জন কারাগারে
আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।ছবি: খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলীতে সংরক্ষিত বনে অনাধিকার প্রবেশ, গাছ কাটা এবং বনভূমির ক্ষতি করার অভিযোগে করা বন বিভাগের মামলায় ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (৫ জুলাই) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইফতি হাসান ইমরান এ আদেশ দেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তালতলীর ছকিনা বিট অফিসের আওতাধীন নিদ্রারচর ডিসি পয়েন্ট এলাকায় সংরক্ষিত বনের মধ্যে ইউপি সদস্য মো. শহিদ আকনের নেতৃত্বে মাসুদ খান, সবুজ ফকির, কুডি মোল্লা ও মোহাম্মদ নেকিয়ার হোসেনসহ ৫ জন অনাধিকার প্রবেশ করেন। তাদের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে সেখানে বেঞ্চ তৈরি এবং মাটি কেটে রাস্তা করার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় গত ২৬ এপ্রিল ছকিনা বিট কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জুয়েল বাদী হয়ে বন আইনে ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। রবিবার মামলার আসামিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ও ছকিনা বিট কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ’সংরক্ষিত বনে অনাধিকার প্রবেশ করে গাছ কাটা, বেঞ্চ নির্মাণ এবং মাটি কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগে বন আইনে মামলা করা হয়েছিল। রবিবার আসামিরা আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মহিউদ্দিন অপু/আজহার/

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ নারী-পুরুষ

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:০০ এএম
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৫০ নারী-পুরুষ
ছবি: খবরের কাগজ

অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (৫ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী।

ফেরত আসারা- যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর ও মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা।

ফেরত আসা ফিরোজ আহমেদ বলেন, 'দালালের মাধ্যমে তারা ২০১৮ সালে সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের তামিলনাড়ু গিয়েছিলেন। সেখানে বাসাবাড়ি, গার্মেন্টসে এবং ইটভাটায় কাজ করার সময় সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন তারা। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে- কারও ৩ বছর, ৫ বছর, ৭ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকারসংস্থা দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টারহোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা রবিবার রাত ১০টার দিকে দেশে ফেরেন।' 

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারত ফেরত ৫০ নারী-পুরুষকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে দুটি মানবাধিকারসংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ২৫ জন এবং রাইটস যশোর ২৫ জনকে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সিনিয়র প্রোগ্রামার অফিসার মুহিত হোসেন বলেন, 'ফেরত আসাদের বেনাপোল থানা থেকে শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'

নজরুল ইসলাম/তামান্নার রুপা/

নান্দাইলে ধর্ষণের বিচার চড়থাপ্পড় ও জরিমানায়

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
নান্দাইলে ধর্ষণের বিচার চড়থাপ্পড় ও জরিমানায়
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় সালিশে নিষ্পত্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে ধর্ষণের দায় স্বীকার করার পর তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কয়েকটি চড়থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রবিবার (৫ জুলাই) ঘটনাটি জানাজানি হয়। এর আগে গত শনিবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি বাজারে এই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কুরাটি গ্রামের নিরু মোদকের ছেলে লিটন মোদক (৪০) গত বৃহস্পতিবার পাশের বাড়ির এক কিশোরীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালেও সামাজিক লজ্জার ভয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হননি। স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চাইলে শনিবার কুরাটি বাজারে সালিশের আয়োজন করা হয়। বাজারের খোলা স্থানে চেয়ার বসিয়ে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। অভিযুক্ত লিটন মোদককে হাত বাঁধা অবস্থায় সেখানে আনা হয়। অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার কিশোরী পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিল।

সালিশ চলাকালে মোবাইল ফোনের লাউডস্পিকারে কিশোরীর বক্তব্য শোনানো হয়। পরে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে উপস্থিত কয়েকজন জানান। এরপর সেখানে থাকা কয়েকজন অভিযুক্তকে লাথি, কিল-ঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারেন। পরে সালিশকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেন। শারীরিকভাবে সামান্য শাস্তি দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘোষণা করেন।

সালিশে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম খান রিপন জানান, তিনি কিছু সময় সেখানে ছিলেন। অভিযুক্ত ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে সালিশের পুরো কার্যক্রমে তিনি ছিলেন না। সালিশকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সালিশে যেতে চাইছিলাম না। এলাকার চাপে যেতে হয়েছে। অকপটে সব স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে কিছু শাস্তি দিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ আরেক সালিশকারী মন্টু খাঁ বলেন, ‘উপস্থিত ছিলাম, চড়থাপ্পড় দিয়ে মীমাংসা করে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনত অবৈধ। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’