দক্ষিণ এশিয়ায় পানির নিচের প্রথম টানেল এখন বাংলাদেশে। চট্টগ্রাম শহরের নেভাল একাডেমির পাশ থেকে টানেল গিয়ে পৌঁছেছে দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারা প্রান্তের চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার লিমিটেড কারখানার মাঝামাঝি স্থানে। নদীর মধ্যভাগে টানেলটি ১৫০ ফুট গভীর। টানেলের দৈর্ঘ্য ৯.০৯২ কিলোমিটার। নদীর তলদেশ ৩.৪০ কিলোমিটার। টানেলটি সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বিশেষ করে আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে।
.jpg)
প্রথম টানেল
পানির নিচে প্রথম টানেলের নাম টেমস টানেল। লন্ডনের টেমস নদীর তলদেশে নির্মিত এ টানেল ওয়েপিন ও রদারহাইদ নামের দুটো শহরকে যুক্ত করেছিল। এ টানেল নির্মাণ করতে গিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে টানেল শিল্ড নামের প্রযুক্তির মাধ্যমে নদীর তলদেশে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল। টানেলটি ছিল ৪০০ মিটার দীর্ঘ। এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৮৪১ সালে। এই টানেলকে তখন বলা হতো বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য।

দীর্ঘতম টানেল
পৃথিবীর দীর্ঘতম টানেলের দৈর্ঘ্য ৫৩.৮৫ কিলোমিটার হলেও পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য ২৩.৩ কিলোমিটার। টানেলের নাম সেকান টানেল। জাপানের হোনশুর আওমোরি থেকে হোক্কাইডো দ্বীপের হাকোদাকে সংযুক্ত করেছে এ টানেল। ১৯৯৮ সালের মার্চে টানেলটির কাজ শেষ হয়।

পাতালের কাছে
পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম অর্থাৎ পাতালের সবচেয়ে কাছের টানেলটি আছে নরওয়েতে। এর নাম রাইফাস্ট টানেল। লম্বায় ১৪.৩ কিলোমিটার। আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ২৯২ মিটার বা ৯৫৮ ফুট। নরওয়েইন ন্যাশনাল রোড ১৩ থেকে স্টেভানজার সিটির মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছে এ টানেল।

ভবিষ্যতের টানেল
বিজ্ঞানীরা এখন তাকিয়ে আছেন এমন এক ভবিষ্যতের দিকে, যা এক সময় ছিল কল্পনা। এখন সেটা নিয়ে তারা পরিকল্পনা করছেন। এবং অদূর ভবিষ্যতে হয়তো সেটা সম্ভব হবে। কী সেই ভবিষ্যৎ? পানির তলার টানেলের মাধ্যমে দুই মহাদেশকে যুক্ত করা। এ পরিকল্পনার নাম ট্রান্সলান্টিক টানেল; যেটা ইউরোপকে উত্তর আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত করবে। ইউরোপের লন্ডন থেকে উত্তর আমেরিকার নিউইয়র্ক। এ পথের দূরত্বও কিন্তু কম নয়- ৩ হাজার ১০০ মাইল। অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার। বর্তমানে বিমানে ওই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে সাত ঘণ্টা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যে ভবিষ্যৎ দেখাচ্ছেন তাতে টানেলের মাধ্যমে ওই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে এক ঘণ্টারও কম সময়। কারণ টানেল দিয়ে যে ট্রেন চলবে সেটার গতিবেগ হবে ঘণ্টায় আট হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এত তুমুল গতিবেগে যাত্রা সম্ভব কি না, সেটাও নির্ভর করছে ভবিষ্যতের ওপর।

মোহনা জাহ্নবী