২৬০ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এখন প্রতি মাসে প্রায় লাখ টাকা আয় করছেন টাঙ্গাইলের নারী উদ্যোক্তা মাহবুবা খান জ্যোতি। জ্যোতির কাছে মিলবে পছন্দ অনুযায়ী ঘরে তৈরি কেক, বিভিন্ন রকমের আচার, আমসত্ত্ব, হাতের তৈরি ডিজাইনের শাড়ি, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের ফতুয়া।
জ্যোতির প্রতিষ্ঠানের নাম ‘স্বপ্নের সন্ধানে’। পড়াশোনা শেষ করার আগেই বিয়ে হয়ে যায় মাহবুবা খান জ্যোতির। সন্তান ও সংসার সামলে কোনো চাকরিতে যোগদান করা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করবেন। সে অনুযায়ী ২০২০ সালের প্রথম দিকে ‘উই’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হন। গ্রুপটিতে যুক্ত হওয়ার পর ক্ষুদ্র ব্যবসার ধারণা পান। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে কাজ শুরু করেন। তৈরি করতে শুরু করেন আচার, আমসত্ত্ব। ইতোমধ্যে তার তৈরি করা আমসত্ত্ব সাড়া ফেলেছে।
তার তৈরি করা আমসত্ত্ব ও আচারের গুণগত মান নিয়ে সন্তুষ্ট ভোক্তারা। তাই অর্জন করেছেন টাঙ্গাইলে ‘আমসত্ত্ব জ্যোতি’ খেতাব। ক্রেতাদের কাছ থেকেই পেয়েছেন এ নাম।
মাহবুবা খান জ্যোতি বলেন, ‘আমি অবসর সময়ে ফোনে সময় কাটাতাম বেশি। ২০২০ সালের জুন মাসে উইতে যুক্ত হই। সেখানে রাজীব স্যার নামের একটা আইডির পোস্টগুলো নিয়মিত পড়তাম। তার প্রত্যেকটা লেখায় অনুপ্রেরণামূলক।’
তিনি আরও বলেন, ‘উদ্যোক্তা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। আমার স্বামী ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। করোনার জন্য আটকে যান। অভাবের মুখটা তখন দেখতে পাই। ইচ্ছা না থাকলেও স্বামীর পাশে থাকতে চেয়েছিলাম। দুঃখের ভাগীদার হতে চেয়েছিলাম। লাখপতি হওয়ার জন্য কাজ করিনি। নিজের কাজের ১০০ ভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। এখন মিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।’
জ্যোতি আরও বলেন, ‘প্রথম অর্ডার ছিল ২৬০ টাকার প্রথম ডেলিভারি, যেটা আমার স্বামী দিয়ে এসেছিলেন। শুরু থেকে আমার স্বামী ও মা অনেক সমর্থন করেছেন। পরিবারের সবাই বিপক্ষে থাকলেও মা ও আমার স্বামী পাশে ছিলেন। উদ্যোক্তা হওয়া মোটেও সহজ নয়। একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে মনের সাহসটা থাকতে হয় সব থেকে বেশি। শরীরের জোরের চেয়ে এই কাজে মনের জোরটা বেশি প্রয়োজন। অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন। সামান্য একজন নারী হয়ে উঠতে পারেন অসামান্য, যদি সে কাজটাকে ভালোবেসে এগিয়ে যেতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইনে ব্যবসা করা একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। অনলাইনে ১০ জন কী কাজ করছে, সেটা না খুঁজে আমার কী করা উচিত তা বের করতে হবে। খাবার নিয়ে কাজ করতে সবাই লজ্জা পায়, সেই সুযোগটাই আমি নিয়েছি। লজ্জা নয়, মনের খুশিতে আমি কাজ করে গেছি। প্রায় ১০ থেকে ১২টা দেশে আমার বানানো আচার, আমসত্ত্ব ডেলিভারি দিতে পেরেছি এবং বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় আমার এই আচার পৌঁছে দিয়েছি। ‘স্বপ্নের সন্ধানে’ নামটা ব্র্যান্ড হবে। আমার বাবা একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি কেউ। হয়তো আমার কাজটা লজ্জার মনে হতো। যদিও আমি বর্তমানে তা ভুল প্রমাণিত করতে পেরেছি।’