ঢাকা ২২ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে নেইমার বললেন, ‘এখানেই শেষ’ মেসি মধু, এমবাপ্পে মৌমাছি ১ ঘণ্টা পিছিয়ে গেল মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে এমন হতাশার বিদায় ব্রাজিলের এশিয়ার বিদায়, টিকে আছে আফ্রিকা কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ কে? এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ: রোনালদো ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় ফিফাকে ধন্যবাদ দিলেন ট্রাম্প পেনাল্টি মিসে নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধে গোলহীন ব্রাজিল ব্রুনোর পেনাল্টি মিসে গোলবঞ্চিত ব্রাজিল উপহারের ১০ লাখ ডলারের রোলেক্স ঘড়ি ফেরত দিল মেক্সিকো নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার লাল কার্ড দেখা যুক্তরাষ্ট্রের বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল ফিফা ‘এত যুদ্ধ থামালাম, নোবেল পেলাম না’: ট্রাম্পের রসিকতা চিংদাও উপকূলে যৌথ মহড়ায় নামছে চীন ও রাশিয়া চাঁদপুরে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন জাতির বিবেকের কণ্ঠস্বর: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢলের পানিতে ভেসে শিশুর মৃত্যু বন্ধু দেশকে ছাড়, হরমুজে নতুন ফি আরোপের ঘোষণা ইরানের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা আড়াইহাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সরকারের উচ্চপদস্থদের বিষয়ে অশালীন-কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ফুটবল: লক্ষ্মীপুরে চ্যাম্পিয়ন ‘জাফরনগর স্মার্ট ভিলেজ’ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে স্বামীর দেওয়া আগুনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগী, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ২৭১ জন ২ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার

জিআই স্বীকৃতি পেল শেরপুরের ছানার পায়েস

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম
জিআই স্বীকৃতি পেল শেরপুরের ছানার পায়েস
শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ছানার পায়েস। ছবি : খবরের কাগজ

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মিষ্টান্ন ছানার পায়েস। 

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ছানার পায়েসকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করে শেরপুর জেলা প্রশাসন। এরপর নানা তথ্য সংগ্রহ এবং এই খাবারের বিশেষত্ব যাচাই করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুনিম হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ছানার পায়েসকে ৪৩তম জিআই পণ্য হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। 

ছানার পায়েস বা রসমালাই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় উৎসবে মেতেছেন শেরপুরের বাসিন্দারা। স্বীকৃতি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনেকে মিষ্টি বিতরণ করেন।

অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী বাপ্পি দে বলেন, ‘জিআই পণ্য হিসেবে ছানার পায়েসের স্বীকৃতি শেরপুর জেলাকে বিশ্বের দরবারে অন্যভাবে চেনাবে। পাশাপাশি এই ছানার পায়েস দেশ ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি হবে। এতে দেশের অর্থনীতিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে পণ্যটি। মূলত দুধ, চিনি, এলাচের মিশ্রণে তৈরি গুটি গুটি রসালো মিষ্টির নামটি ছানার পায়েস বা রসমালাই।’

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ছানার পায়েস ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় তা শেরপুরের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের সব জেলাসহ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে এই ছানার পায়েস বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। এর আগে শেরপুরের তুলশীমালা ধান জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।’

 

জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
জুলাইয়ের প্রথম ৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫ কোটি ডলার
ছবি: সংগৃহীত

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ৪ দিনে দেশে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

রিফাত/

বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
বেনাপোল বন্দরে রাজস্বে বড় ধাক্কা, ঘাটতি ৪৭৩১ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস নেমেছে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার অনেক কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি ও শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন রাজস্ব কমার অন্যতম কারণ।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে আদায় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ কম। একই সময়ে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন।

আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি কমে যাওয়া সরাসরি রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি নীতির পরিবর্তন ও কিছু পণ্যে শুল্কহার সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্বে আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া বন্দরের একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাস করছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বলেন, উচ্চ শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, ইলেকট্রনিকস পণ্য, যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল আমদানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এসব পণ্য থেকেই সরকারের শুল্ক ও ভ্যাট আয়ের বড় অংশ আসে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে সরাসরি ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো, এখন তা কমে ২৫০ থেকে ৩০০টিতে নেমেছে। একইভাবে রপ্তানি ট্রাকের সংখ্যা ৩০০ থেকে ১৫০টিতে নেমে এসেছে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের ডিরেক্টর শামীম হোসেন জানান, ওজন স্কেলে কারচুপি এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, ‘সরকারের এক টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সেদিকে কাস্টমস সর্বোচ্চ সতর্ক। ওজন স্কেলে কারচুপি, মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
ইসলামী ব্যাংক: ছুটি থেকে এসে জানতে পারেন চাকরি নেই
ছবি: সংগৃহীত

অফিস থেকে ছুটি নিয়ে কেউ ছিলেন ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে। আর কেউ ছিলেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। কেউ ছিলেন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায়। কোনো কিছুতেই মন গলেনি ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই ঢালাওভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। 

ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আবদুল মুমিন খবরের কাগজকে জানান, তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যান। দেশের বাইরে যাওয়ার পর হঠাৎ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৩ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার নোটিশ জারি করে। সবাইকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি সে সময় দেশে না থাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি ওমরাহ পালন শেষে আসেন ৫ অক্টোবর এবং পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর ফের কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে ৯ অক্টোবর চাকরিচ্যুত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অথচ কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, যারা পরীক্ষায় বসবেন এবং পাস করবেন তাদের চাকরি থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে পরীক্ষায় বসার সুযোগটুকুও দেয়নি। 

রুমা আকতার নামে ইসলামী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানান, তিনি মাইজদী শাখায় কর্মকর্তা পদে ২০১৯ সালে যোগ দেন।  চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ তার আগে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন। তার ছুটি অনুমোদন হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। ছুটি থেকে এসে তিনি জানতে পারেন তার চাকরি নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ ৯টা মাস আমার চাকরিটা নেই। অথচ ছুটিতে যাওয়ার আগে অনাগত সন্তান নিয়ে কত কিছুই না ভেবেছিলাম। তার জন্য কত কিছু করব। অথচ আমার বাচ্চা পৃথিবীতে আসার পর আমার চাকরি গেল। এখন বাচ্চার অতীব জরুরি চাহিদাগুলোও মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার চাকরি ফেরত চাই। আমি কারও কাছে করুণা চাই না। 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আমার প্রশ্ন–কেন আমাকে চাকরিচ্যুত করা হলো? একজন কর্মকর্তা হিসেবে আজ আমি পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আমার বাচ্চার খরচ চালাতে পারছি না। আমরা কি অবৈধ–এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়োগপত্র দিয়েছে বলেই তো যোগ দিতে পেরেছি। সুনামের সঙ্গে কাজ করেছি। এখন আমার সংসার কে চালাবে? আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত চাই। 

আরেক ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল জব্বার খবরের কাগজকে বলেন, তিনি ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেন। সব ঠিকঠাক চলছিল। অফিসে সুনামের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ২৪ সালের ২৪ নভেম্বর অফিসে যাওয়ার সময় তিনি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন। সেই গাড়িতে তার স্ত্রীও ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গুরুতর আহত হন। ওই দুর্ঘটনায় তাদের গাড়িতে থাকা এক আত্মীয় মারা যান। তার দুই পা ভেঙে যায়। মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। এখনো তিনি এবং তার স্ত্রী ক্রাচে ভর দেওয়া ছাড়া হাঁটতে পারেন না। এরই মধ্যে তার কাছে চিঠি এসেছে চাকরিচ্যুতির। এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাদের দুজনের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে তারা একপ্রকার নিঃস্ব এখন। বর্তমানে তার নিজের চিকিৎসা চালানোর সক্ষমতাও নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসে আছেন। চাকরিটাও চলে গেল। অন্য কোনো খাত থেকে উপার্জন নেই। মানবিক বিবেচনাটুকুও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ করেনি। অথচ তারা সবকিছু জানে। জেনেশুনে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করেছে। 

চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্ল্যাটফর্ম চিটাগাং অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোক্তার রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, অসুস্থতা, ওমরাহ পালনসহ নানা কারণে অফিস থেকে ছুটি নেওয়া আরও অনেকেই আছেন, যারা জানতেন না তাদের চাকরি চলে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অনেককে ছুটি থেকে এসে চাকরিতে যোগদানের সুযোগও দেয়নি। কেউ কেউ যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন। যা অমানবিক।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ
কার্গো জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের একই মাসে এ আয় ছিল ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো সময়জুড়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে।

ইপিবির ভাষ্য, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চাহিদা কম থাকার পরও আগের অর্থবছরের কাছাকাছি রপ্তানি আয় ধরে রাখা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতার প্রমাণ।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক খাত জুন মাসে ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের জুনে এ খাতের আয় ছিল ২৭৯ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে জুন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থবছরজুড়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

হোম টেক্সটাইল খাতে জুনে রপ্তানি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পুরো অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের রপ্তানিও জুন মাসে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশভিত্তিক বাজারের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে যথাক্রমে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। জুন মাসে বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবি আশা করছে, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে এবং তা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাঈম/

ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে রমরমা বাণিজ্য
ছবি: খবরের কাগজ

ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলেও দেশের মাটিতে এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা কম নয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। ১১ জুন থেকে শুরু হ্ওয়া এ বিশ্বকপের জন্য দেদার বিক্রি হচ্ছে ফেবারিট দলগুলোর পতাকা ও জার্সি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টেলিভিশনের বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তবে নতুন করে যোগ হয়েছে বড় পর্দা তথা প্রজেক্টরের ব্যবসা। অন্যদিকে অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে জার্সি ও পতাকা। এর পর্দা নামবে ১৯ জুলাই।

বেড়েছে পতাকা ও জার্সি বিক্রি

নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, ষোলশহর দুই নম্বর গেট এবং মুরাদপুর এলাকায় প্রতিদিন ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা বিক্রি করেন ওসমান গণি। ফুটপাতে সারা বছর গার্মেন্টসের রিজেক্টেড কাপড় বিক্রেতা ওসমান খবরের কাগজকে জানান, ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি মূলত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের জাতীয় পতাকা বেশি রাখেন। এই দুই দেশের পতাকার চাহিদাও বেশি। তবে এবার ইরানের জাতীয় পতাকাও রেখেছেন। বেশ কয়েকটি বিক্রিও করেছেন। এ ছাড়া অতীতে বিশ্বকাপজয়ী বেশ কয়েকটি দলের জাতীয় পতাকাও তিনি রেখেছেন। তবে সেসব দেশের পতাকার তেমন কাটতি নেই বলে জানান তিনি।

নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানে জার্সি কিনতে আসা ক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মূলত ভালোবাসা এবং আবেগের কারণে তারা অন্য দেশের জার্সি ও পতাকা কিনছেন। দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা সুযোগ নিচ্ছেন। মানুষের ভালোবাসা এবং আবেগকে জিম্মি করে জার্সি ও পতাকার বাড়তি দাম আদায় করছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাড়তি দাম আদায়ের এই ঘটনা যেহেতু চার বছর পর একবার ঘটে। তাই প্রশাসনেরও এদিকে খুব একটা নজর থাকে না। দাম বেশি নিলেও তারা প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনতে পিছপা হচ্ছেন না।

এম এ আজিজ মার্কেটের প্লেয়ার্স স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, বাংলাদেশের মানুষ খেলা অন্তঃপ্রাণ। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এলে মানুষের মাঝে উন্মাদনা আরও বেড়ে যায়। তখন তারা প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কেনেন। এটি হলো ওই ফুটবল টিমের প্রতি ভালোবাসা। গত বছরের তুলনায় এবার জার্সি ও পতাকার বিক্রি বেড়েছে। ভক্তরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কিনছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা ও জার্সি। ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দামের মধ্যে যেসব জার্সি রয়েছে তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। খেলা শুরু হওয়ার পর জার্সি ও পতাকার চাহিদা আরও বেড়েছে। পতাকার দাম নির্ভর করে সাইজের ওপর। ১০০ টাকা থেকে শুরু। যত বড় হয়, দাম তত বাড়ে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার অনলাইনেও প্রচুর পরিমাণে জার্সি ও পতাকা বিক্রি হচ্ছে। তরুণ-তরুণী এবং শিক্ষার্থীরা জার্সি ও পতাকার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এ ছাড়া ফুটবল বিক্রিও বেড়েছে। 

আর্জেন্টিনার সমর্থক মোহাম্মদ হাসিব খবরের কাগজকে জানান, খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জার্সির দাম বেড়ে গেছে। তাই তিনি নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকায় প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে গিয়েও না কিনে ফেরত এসেছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি জার্সির দাম দেখতে গিয়েছিলেন। যখন খেলা শুরু হবে তখন কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু খেলার শুরুর দিন দোকানে গিয়ে তিনি হতভম্ব। প্রতি জার্সিতে দাম বেড়ে গেছে ২০০ টাকা। খেলা শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ আগেও একদম সাধারণ মানের জার্সির দাম ছিল ২৫০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। আর ৪০০ টাকায় যেসব জার্সি বিক্রি হতো। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা। ৬০০ টাকার জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি জার্সিতে দাম বেড়েছে ২০০ টাকা।

তুলনামূলক কমেছে টিভি বিক্রি

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিকস বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হক পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেন, অতীতে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে টেলিভিশন বাজারে ব্যাপক চাঙাভাব দেখা যেত। সাধারণত বিশ্বকাপ শুরুর এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই টেলিভিশনের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেত। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যেমন বিশ্বকাপের উন্মাদনা থাকত, তেমনি নতুন টেলিভিশন কেনার আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বকাপ শুরু হলেও বাজারে সেই প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম ও বিক্রির গতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, টেলিভিশন ব্যবসা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বর্তমানে অনেক দর্শক মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মাধ্যমে খেলা উপভোগ করছেন। পাশাপাশি পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে টেলিভিশনে খেলা দেখার সংস্কৃতিও আগের তুলনায় কমে এসেছে। তবে বড় পর্দা তথা প্রজেক্টরের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।

ইকরামুল হক পাটোয়ারী আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মানুষের ব্যয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে অনেকেই নতুন টেলিভিশন কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। তার ভাষায়, ‘মানুষের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে তারা অবশ্যই ব্যয় করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা অনেক বেশি সতর্ক।’

তিনি জানান, এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবে এবারের বিশ্বকাপ মৌসুমে টেলিভিশন বিক্রি অতীতের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা এ খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বেড়েছে প্রজেক্টরের ব্যবসা

দর্শকরা বড় পর্দায় খেলা দেখতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। এই প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন বেশ ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক তরুণরা টাকা তুলে প্রজেক্টর ভাড়া করছেন। কেউ কেউ একেবারে কিনে ফেলছেন। যে কারণে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রজেক্টরের চাহিদা বেড়েছে। তবে এই চাহিদার সুযোগও নিচ্ছেন অনেক বিক্রেতা। বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার আমতল সিডিএ মার্কেটের মুনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মজিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেড়েছে। কিশোর-যুবকরা দলবেঁধে এসে প্রজেক্টর কিনে নিয়ে যাচ্ছে ফুটবল খেলা দেখার জন্য। বিভিন্ন মান এবং দামের প্রজেক্টর রয়েছে। খুবই সাধারণ মানের প্রজেক্টরের দাম ৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের প্রজেক্টরও তার কাছে আছে। পাইকারিতে দাম বাড়েনি। চাহিদা বাড়লেও তিনি দাম বাড়াননি বলে জানান।

আরও একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, প্রজেক্টরের চাহিদা বেড়েছে এ কথা সত্য। তবে খেলার ফিকশ্চার দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষের ঘুমের সময়ে খেলাগুলো পড়েছে। খেলা গভীর রাতে এবং ভোর না হয়ে দিনে কিংবা সন্ধ্যার পর হলে প্রজেক্টরের ব্যবসা আরও বেড়ে যেত। তবু তাদের ব্যবসা জমজমাট। তবে একথা সত্য, কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।