ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ডের নকআউট প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিবিএফ চেয়ারপারসনের সম্পর্কের পরীক্ষায় ঢাকা-বেইজিং পার্সি টাউয়ের আলো ছড়ানো অভিযান মেসি বনাম রোনালদো লড়াইয়ের শেষ সমীকরণ মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার জর্ডানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড কারাকাস বারবার কেন আক্রান্ত হয় ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ পর্তুগাল, শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া হরিরামপুরে সহিংসতার ঘটনায় ঘুরেফিরে এক নাম ময়লার স্তূপে ঢাকছে চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক রেশমের শহরে বিদেশি কাপড়ের দাপট জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গ্রেপ্তার ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন আজ থেকে লোকোশেড থেকে আরএনবি পর্যন্ত অরাজকতা কালিমাখচিত পতাকা মিছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে ১ মিনিট নীরবতা কেন? ২৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ব্রাজিলের মাঝমাঠের প্রাণ ব্রুনো গুইমারায়েস উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউটে ডিআর কঙ্গো গ্রুপসেরা কলম্বিয়া, রানার্সআপ হয়ে নকআউটে পর্তুগাল জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন বৈরী গ্যালারিই কানাডার প্রেরণা ২৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, বিরতিতে গোলশূন্য পর্তুগাল-কলম্বিয়া ৩৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেইন রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আফ্রিকার ৭ দেশ ঘানাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ইংল্যান্ড

মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে স্বাবলম্বী তরুণরা

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪৩ এএম
আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ এএম
মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে স্বাবলম্বী তরুণরা
জামালপুরে দেশি মুরগির বাচ্চা লালন-পালনে ব্যস্ত দুই তরুণ উদ্যোক্তা আল মামুন ও হুমায়ুন কবির। ছবি: খবরের কাগজ

স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজ পদ্ধতিতে দেশি জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন জামালপুরের তরুণ উদ্যোক্তারা। দেশি মুরগির ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখান থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক বাচ্চা যাচ্ছে সারা দেশে। নিজস্ব প্রযুক্তি, ডিমের সহজলভ্যতা ও গড়ে ওঠা বাজারের কারণে দ্রুত প্রসার ঘটছে এ ব্যবসার। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে এ শিল্প আরও বড় হবে।

চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের কাষ্টসিংগা গ্রামের দুই তরুণ হুমায়ুন কবির ও আল মামুন। একজন পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন, অন্যজন ছিলেন আনসার বাহিনীতে। ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০১৭ সালে তারা একটি ইনকিউবেটর মেশিন কিনে টার্কির ডিম ফোটানো শুরু করেন। প্রথমদিকে লাভ না হলেও হতাশ না হয়ে দেশি মুরগির ডিম ফোটানো শুরু করেন। সেখান থেকেই আসে সাফল্য।

শুরুতে যৌথভাবে হ্যাচারি চালালেও কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্যবসা বড় হওয়ায় এখন তারা আলাদা হ্যাচারি গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়রা প্রথমে তাদের নিয়ে উপহাস করলেও এখন তাদের পথ অনুসরণ করে অনেকেই এ ব্যবসায় নেমেছেন। কাষ্টসিংগা গ্রামে বর্তমানে অন্তত ৪২ জন উদ্যোক্তা দেশি মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। প্রতক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছেন ১০০ থেকে ১৫০ জন।

স্বল্প খরচে ইনকিউবেটর মেশিন তৈরি করা যায়। স্থানীয়ভাবে ডিম সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ইনকিউবেটরে রাখা হয়। প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা পর ডিম ঘোরানো ছাড়া তেমন কোনো ঝামেলা নেই। ২১ দিনেই ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। এরপর ঘরের ভেতর ব্রুডিং করে খাদ্য ও পানি দেওয়া হয়। সেখান থেকেই সরাসরি বিক্রি হয় মুরগির বাচ্চা।

ব্যবসাটি কম খরচে, কম সময়ে এবং ঝামেলাহীন হওয়ায় নারী উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হচ্ছেন। রাবেয়া নামের এক নারী বলেন, ‘ঘরের কাজের ফাঁকে ফাঁকে মেশিনে বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করি। এতে ঘরে বসেই আয় করা যায়।’

৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাসে গড়ে ১ থেকে ২ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ৭০ থেকে ৮০ হাজার ডিম ইনকিউবেটরে দিলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার বাচ্চা পাওয়া যায়। প্রতিটি ডিমের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা, আর প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। ফলে লাভ নিশ্চিত।
উদ্যোক্তা আল মামুন জানান, ‘আনসার বাহিনীর চাকরি ছেড়ে আমি এই ব্যবসা শুরু করি। বর্তমানে আমার ৩০ থেকে ৪০টি ইনকিউবেটর মেশিন রয়েছে। প্রতিটি মেশিনে ২ থেকে ৩ হাজার ডিম বসানো যায়। মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করি। এগুলো দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। চাকরির চেয়ে এখন অনেক ভালো আছি।’

তার বন্ধু হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের দুই বন্ধুর ইচ্ছা ছিল এলাকায় বসেই কিছু করা। ইউটিউব দেখে আমরা প্রথমে টার্কির ডিম দিয়ে শুরু করি। পরে দেশি মুরগির ডিম ফোটাতে শুরু করি। এখন আমাদের এলাকার ১০০ জনের বেশি মানুষ এ পেশার সঙ্গে জড়িত।’

শামীম আহমেদ নামের আরেক উদ্যোক্তা জানান, ‘এলাকার বড় ভাইদের দেখে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নেমেছি। সরকারি সহায়তা ছাড়াই আমরা সফল হয়েছি। তবে যদি প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা পাই, আরও বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব হবে।’

উদ্যোক্তারা জানান, এখন তারা নিজেরাই যন্ত্রাংশ কিনে ইনকিউবেটর বানাতে পারেন। খরচ হয় মাত্র ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ডিম কেনা ও বিদ্যুৎ ছাড়া তেমন বাড়তি খরচ নেই। বাচ্চার প্রচুর চাহিদা থাকায় আগে থেকেই পাইকাররা অর্ডার দেন। ফলে বিক্রি নিয়ে ঝামেলা হয় না।

জামালপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করে অনেক উদ্যোক্তা লাভবান হচ্ছেন। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেব। ঋণ সুবিধা পেতে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’

বর্তমানে জামালপুর থেকে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ লাখ দেশি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে সারা দেশে। উদ্যোক্তাদের মতে, সরকারিভাবে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ঋণ দেওয়া হলে এ ব্যবসার প্রসার আরও বাড়বে। কর্মসংস্থান তৈরি হবে, বদলে যাবে গ্রামের অর্থনীতি।

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি কত?

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি কত?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮২ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্তরা/

২৫ জুন: দাম কমল ইউরো-পাউন্ডের

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১১:১৪ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম
২৫ জুন: দাম কমল ইউরো-পাউন্ডের
বৈদেশিক মুদ্রা। ছবি: সংগৃহীত

দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।

 

মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) বাড়ল/কমল
ইউএস ডলার     122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত --
ইউরো     139.40 139.44 -0.3
ব্রিটেন পাউন্ড     161.60 161.66 -0.46
অস্ট্রেলিয়ান ডলার     84.68 84.73 -0.18
জাপানি ইয়েন 0.75 0.75 --
কানাডিয়ান ডলার 86.23 86.24 -0.12
সুইস ক্রোনা 12.57 12.61 -0.03
সিঙ্গাপুর ডলার 94.58 94.67 -0.06
চায়না ইউয়ান     18.01 18.0186 -0.05
ইন্ডিয়ান রুপি     1.29 1.29 --
সৌদি রিয়াল 32.58 32.89 --
আরব আমিরাত দিরহাম 33.32 33.60 --

 

সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)

নাঈম/

স্বর্ণের দাম আবারও কমল, ভরিতে কত?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
স্বর্ণের দাম আবারও কমল, ভরিতে কত?
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে স্বর্ণের গহনার দাম আবারও কমানো হয়েছে। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ০৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ০৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে মূল্যবৃদ্ধির মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও উল্টো পথে গেল স্বর্ণের বাজার। নতুন সমন্বয়ে সব ক্যারেটের স্বর্ণের দামই কমেছে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, দাম কমানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত উচ্চমূল্যেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশের গহনার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্তরা/ 

সংকটে দেশের নারী উদ্যোক্তারা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
সংকটে দেশের নারী উদ্যোক্তারা
ছবি: খবরের কাগজ

প্রতি বছর বাজেট এলেই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নানা ধরনের প্রতিশ্রুতির ঘোষণা আসে। সহজ শর্তে ঋণ নেওয়া, বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল, কর সুবিধা কিংবা উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির কথা শোনা যায়। কিন্তু এসব উদ্যোগের বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয় না, এমন অভিযোগ জানিয়ে এ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। বেসরকারি খাতকেও এসএমই নারীদের ভাগ্যোন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। 

দেশের নারী উদ্যোক্তাদের অন্যতম সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল খবরের কাগজকে বলেন, এসএমই নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে প্রতিবন্ধকতা দূর হয়নি। প্রতি অর্থবছরই সরকার এসএমই খাতের নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এসব উদ্যোগের কতটা বাস্তবায়ন হয়? আর যা বাস্তবায়ন হয় তাতে এসএমই নারী উদ্যোক্তাদের ভাগ্যোন্নয়ন কতটা হয়েছে? 

এসএমই খাতের নারীদের এই নেত্রী বলেন, এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তারা এখনো পুঁজি সংকটে আছেন। পারিবারিক বাধা এখনো অন্যতম সমস্যা। ছোট নারী উদ্যোক্তারা ব্যাংকের ঋণ পাচ্ছেন না বলা যায়। নারী উদ্যোক্তারা পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়েছেন। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পণ্যের বিপণন সমস্যা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মতো পুরোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিও হচ্ছেন তারা। এসব সমস্যা বহু পুরোনো। সবাই জানেন। তাই শুধু অর্থ বরাদ্দ দিলেই হবে না, নারীদের সংকটের সমাধানে জোর দিতে হবে, নজরদারি বাড়াতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বাজেটে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় নারী উদ্যোক্তারা সফল হচ্ছেন না। ফলে প্রতি বছর বাজেট আসে, বাজেট যায়; কিন্তু এসএমই নারীদের সংকট আর কাটে না।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্টার্টআপ খাতে ৪০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে নারীদের ব্যবসা প্রসারে সহজ শর্তে ঋণ ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নারী পরিচালিত এসএমই, কুটিরশিল্প ও নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের জন্য সহজ শর্তে ঋণের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ১২৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হয়। এসএমই খাতের বিকাশে ১০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিল গঠন করা হয়। এসএমই খাতের জন্য বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তাদের জন্যে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক ডেস্ক ও বিশেষ স্কিম চালু রাখা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত আয়ের বার্ষিক টার্নওভার সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে ‘জাতীয় মহিলা প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন একাডেমি’র মাধ্যমে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আয়কর ছাড়, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। সামগ্রিক নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য ওই অর্থবছরে জেন্ডার বাজেটে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ২১১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। যা ৪৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫ হাজার ২২২ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছিল। এসএমই খাতের বিকাশের বিশেষ করে গ্রামীণ ও নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি, ই-কমার্স সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন খবরের কাগজকে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং, ব্যবসা, রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে তাদের ভূমিকা বেড়েই চলছে। তবে তা যথেষ্ট না। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। গুরুত্ব দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ। 

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ নারী পরিচালিত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ রয়েছে। দেশের মোট এসএমই প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক-চতুর্থাংশই নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ক্ষুদ্র পরিসরে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। ফলে তা বড় ব্যবসায় রূপ নিতে পারছে না। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোক্তা তৈরির পথে অগ্রগতি হলেও সেই উদ্যোগকে টেকসই ও সম্প্রসারণযোগ্য ব্যবসায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। 

নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রান্তিক ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা এখনো ই-কমার্স থেকে অনেক দূরে। এসব নারী উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করা সম্ভব হলে অনলাইন ব্যবসায় অংশগ্রহণ বাড়বে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা সারা বছর অল্প অল্প পুঁজি সঞ্চয় করে পণ্য তৈরি করেন। এসব পণ্য বিক্রিতে সরকারি উদ্যোগে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় ৮০ শতাংশ নারী ব্যবসা করতে পারছেন না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ, উৎপাদনশীল উপকরণ এবং ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ পাওয়া নারীদের কুটিরশিল্পে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওয়ান স্টপ সেবা চালু করতে হবে। বিভিন্ন জেলায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসার ও বিক্রির জন্য মার্কেটিং আউটলেট প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের ৪৫ কোটি ডলার ঋণ
বিশ্বব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের নড়বড়ে ব্যাংক খাত সংস্কার ও ভিত্তি শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির বোর্ড সভায় ‘আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২ এর আওতায় এই ঋণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) বিশ্বব্যাংকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংস্থাটির বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মূলত ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে আমানত বিমা জোরদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে খরচ হবে এ অর্থ।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার ও ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশলেও সহায়তা করবে সংস্থাটি। বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ও মূলধন ঘাটতির যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটি কার্যকর জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে এ প্রকল্পে।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে স্থিতিশীল ব্যাংক খাতই হবে প্রধান চালিকাশক্তি।

এসএন/