শুরু হলো আরও একটি নতুন বছর। স্বাগত ২০২৪। খ্রিষ্টীয় নববর্ষে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে জানাই আমাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সদ্য আগত নতুন এই বছর শান্তি, স্বস্তি, আলো, সমৃদ্ধি, কল্যাণ, প্রগতি, মানবিকতা বোধের চর্চায় সফল হয়ে উঠবে, এই কামনা সবার। বিগত বছরের হতাশা, ক্লান্তি, ব্যর্থতা, অপ্রাপ্তির কথা ভুলে গিয়ে সুন্দর আগামী রচনায় সম্মিলিতভাবে ব্রতী হতে হবে। দেশ ও বিশ্ব হানাহানি, বিদ্বেষবিহীন কলুষমুক্ত, দূষণমুক্ত হয়ে উঠবে, সেই লক্ষ্যে সবার মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। ত্যাগ-তিতিক্ষা, আদর্শ, পরহিতব্রতে ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে গোটা পৃথিবী একটি বাসযোগ্য গ্রহে পরিণত হোক, নববর্ষের সূচনালগ্নে এই কামনা ও প্রার্থনা সবার।
মহাবিশ্ব ইতিহাসের এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অত্যধিক উৎকর্ষ অর্জিত হয়েছে, হচ্ছে এবং আরও হবে। পাশাপাশি হারানোর বেদনা, শূন্যতাও রয়েছে। সেগুলো নিতান্ত মূল্যহীন নয়। আমরা দেখছি বিশ্ববাসী হারিয়ে ফেলছে মানবিকতা, মূল্যবোধ। ক্ষুদ্র স্বার্থচিন্তা বড় হয়ে উঠেছে। বাড়ছে যুদ্ধবিগ্রহ, রক্তপাত, আগ্রাসনের মতো নিন্দনীয় ঘটনা। চলছে ইউক্রেনে রাশিয়ার উপর্যুপরি সামরিক আক্রমণ। ফলে বিশ্ববাসী অর্থনৈতিক মন্দা অব্যাহত রয়েছে। খেসারত দিতে হচ্ছে নিরপরাধ মানুষকে। ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বর, নৃশংস হামলা, গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে আধিপত্যবাদী ইসরায়েল। বিশ্ববিবেক নিশ্চুপ। যারা কথায় কথায় মানবাধিকার, গণতন্ত্রের সবক দেয়, তারাই এই জঘন্য যুদ্ধাপরাধে প্রত্যক্ষ ইন্ধন দিচ্ছে। চলছে নিরীহ নারী-শিশু নির্বিচারে হত্যা। এমন অবস্থা চলতে পারে না। যত দ্রুত সম্ভব এর অবসান হওয়া প্রয়োজন।
প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে বিগত বছরটি কেটেছে বেশ অস্থিরতার মধ্যে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে তার বিরূপ প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক খাতেও। জাতীয় জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ-গতি ব্যাহত হয়েছে। উন্নয়নের যে ধারা দেশকে এগিয়ে নিচ্ছিল, তাতে বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে সামনের দিকে ধাবমান।
অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বয়ম্ভরতা অর্জনের কঠিন যুদ্ধ আমরা করে চলেছি। সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য হয়, সেটি বিরাট একটি চ্যালেঞ্জ। জাতি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত। স্বাধীনতা অর্জনের পর নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আমরা এখন সাবালক, পরিণত একটি জাতি। আমাদের সবার চিন্তাচেতনা, কাজকর্ম সবকিছুতে সেই দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন যেন থাকে, সেটিই কাম্য এবং বাঞ্ছনীয়। স্বাধীনতার সুফল যেন আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি, প্রত্যাশিত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা যেন গড়ে তুলতে পারি, সেই চ্যালেঞ্জই প্রধান হয়ে উঠুক সবার চেতনায়। এই কর্তব্য ও দায়িত্ব বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের। দেশে-বিদেশে অবস্থানরত প্রত্যেক বাঙালির।
উনিশ শ একাত্তরে রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র এখনো ক্রিয়াশীল। বাংলাদেশ উন্নতির মহাসোপানে পৌঁছাক, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে নিজের পরিচয় দিতে সক্ষমতা অর্জন করুক, কোনো কোনো মহল সেটি হতে দিতে চায় না। সে জন্যই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র তারা লিপ্ত। এদের রুখে দিতে হবে। জাতির সম্মিলিত প্রজ্ঞা, প্রত্যয় ও দেশপ্রেমের শক্তিতে তা পরাভূত করতে হবে। নতুন বছরে সেই অগ্নিপরীক্ষায় জাতি সসম্মানে উত্তীর্ণ হবে বলে আমরা আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব রাজনীতিকদের। তারা যেহেতু দেশ ও জাতির ভাগ্যনিয়ন্তা, অভিভাবক ও পরিচালক, সেহেতু তাদের ওপরই এ দায়িত্ব বর্তায়। তারা সম্মিলিতভাবে প্রজ্ঞা, শুভবোধ ও দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেবেন, এটি আমাদের সবার প্রত্যাশা।
নতুন খ্রিষ্টীয় বছর ২০২৪ সবার জন্য বয়ে আনুক মঙ্গলবারতা, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, এটিই আমাদের কাম্য। জাতির স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হোক দেশ আরও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করুক, আমরা সবাই যেন সেই লক্ষ্যে আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াস ও উদ্যম নিয়োজিত করতে পারি, এটিই হোক প্রার্থনা।