ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশ সচল হতে শুরু করে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্তর্বর্তী সরকার সব প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে শুরু করে। গত রবিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে ছাত্রছাত্রীরা এখন তাদের নিজ নিজ শিক্ষালয়ে যেতে পারছে। সাধারণ মানুষও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করেছে। এর মধ্যে দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে বেড়েছে তীব্র যানজট। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিদিন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নতুন নতুন দাবি নিয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই দাবির সপক্ষে রাস্তায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অন্যদিকে অফিস-আদালত স্বাভাবিক সূচিতে ফেরায় সড়কেও বেড়েছে যানবাহনের চাপ। ফলে কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে চলছে ভয়াবহ যানজট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যাতায়াতকারীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। অনেকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
অন্যদিকে শাহবাগে বৈষম্য নিরসন ও চাকরি রাজস্বকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপিরা। একই সঙ্গে ভিআইপিদের যাতায়াত থাকায় শাহবাগ, কাকরাইল ও বাংলামোটর এলাকায় ছিল যান চলাচলে ধীরগতি। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।
যানজট নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা গত কয়েক দিন ভালো ভূমিকা রাখতে পেরেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ায় এখন শিক্ষার্থীরা যার যার প্রতিষ্ঠানে ফিরে গেছে। সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী কাজে ফিরেছে। এখন তাদের যার যার দায়িত্ব অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করার জন্য ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
ট্রাফিক পুলিশকে জনভোগান্তি এড়াতে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাজধানীতে মেট্রো চালু হওয়ার পর অনেক এলাকায় গাড়ির চাপ কিছুটা কমেছিল। আন্দোলনের সময় মেট্রোর কয়েকটি স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতি হলে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ গত শনিবার থেকে এটি চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু এখনো সেটি কার্যকর হয়নি।
মেট্রোরেলের কর্মীরাও তাদের দাবিদাওয়া আদায়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। দেশের মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ দ্রুত এটি চালুর ব্যাপারে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।
নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, দেশ সংস্কারের কাজটি তারা করবে। রাজধানীর বহুদিনের চিরচেনা যানজট কীভাবে নিরসন করা যায়, সে ব্যাপারেও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এই সরকারকে। রাজধানীবাসীর এটি বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত চাওয়া।
সময়-অসময়ে দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-গোষ্ঠী বা সংগঠন রাজপথে না এসে সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন করেও তাদের বিষয়টি আলোচনায় রাখতে পারে। রাস্তা অবরোধ করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টির এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
তাদের দাবিদাওয়ার একটি যৌক্তিক সমাধানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সময় দিতে হবে। মানুষ তার কর্মের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হবে। সে ক্ষেত্রে তাদের যাতায়াত বা চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। নতুন সরকার পরিকল্পিত উন্নয়ন ভাবনায় গণপরিবহনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করবে। মানুষ যাতে হেঁটে স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে, সে জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে করণীয় ঠিক করতে হবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার রাজধানীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।