৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির হাতবদল শুরু হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। কারখানার ফটকে ফটকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ভিড় করছেন। অনেকে বলছেন, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে পোশাক কারখানায় এমন ঘটনা বেশি ঘটছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতারা ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সেসব ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মাঠে নেমেছেন। শিল্পোদ্যোক্তারা এ নিয়ে খুবই শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, বিএনপি নেতাদের নামে কিছু ব্যবসায়ীর কাছে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। আবার আগে যারা নিয়ন্ত্রণ করতেন তারাও তাদের ঝুট ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। সব মিলিয়ে উদ্যোক্তারা একটা বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছেন। উদ্যোক্তারা চান সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তারা। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রধান উপদেষ্টা এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান।
৫ আগস্টের পর দেশের বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে অনেক সম্পদ নষ্ট হয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। শিল্প-কারখানা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ব্যবসায়ীরা জোর দাবি জানিয়েছেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৈরি পোশাক কারখানা, বস্ত্রকলসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছোটখাটো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে কোথাও কোথাও সংঘর্ষ হয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানায় আগুন, নরসিংদীতে প্রাণ কোম্পানিতে আগুন- এসবের পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কেউ কেউ বলছেন, ব্যবসায়ীদের কাছে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা চাঁদা চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শিল্প সুরক্ষিত রাখতে হলে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এজন্য মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। রাজনীতির নোংরা সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে সবাইকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঁদাবাজি বন্ধে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এটা আরও বাড়াতে হবে। শিল্প-কারখানাগুলো রাজনীতিকরণ থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত থাকতে হবে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং দেশের সম্পদ ভাবতে হবে। এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার প্রাণের খোরাক। এখানে কাজ করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আগুন দিলে বা লুটপাট হলে কলকারখানাই বন্ধ হবে না, সেই সঙ্গে বন্ধ হবে হাজারও মানুষের স্বপ্ন। দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে সংস্কার করবে বলে। সাধারণ নাগরিক তাদের সংস্কার কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন সবার উচিত দেশকে জনকল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকারকে সহযোগিতা করা। শিল্প-কারখানায় চাঁদাবাজি বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছেয়ে গেছে অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি। এগুলো সংস্কার করা আশু প্রয়োজন। আসুন সবাই মিলে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করি। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে তৎপর হই। যারা এ ধরনের অন্যায় কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। দেশ এবং দেশের সম্পদকে রক্ষা করি।