ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ডিজিটাল জুয়ার মরণফাঁদ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ এবং ট্রাম্পের হাসি ফরিদপুরে বৃষ্টির মধ্যে গাছের নিচে আশ্রয়, বজ্রপাতে নিহত ১ ১৫ হাসপাতালে হেমাটোলজি মেশিন দিল 'ইজিমেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড' বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন?

দেশের স্বার্থে সব দলের ঐকমত্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান কোন পথে

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৫ পিএম
রাজনৈতিক সমাধান কোন পথে

সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দেশনা জানতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু দলগুলো সরকারকে সঠিক নির্দেশনা এখনো দিতে পারেনি। কারণ এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এতে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে দুর্বল করতে পারে। সরকার প্রত্যাশা করছে, গণভোট, সংসদ নির্বাচন এবং পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্তে বড় দুই দল ছাড় দেবে। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশ ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করতে তৎপর এবং সমস্যা সমাধানের একটি উত্তম উপায় বের করে আনার চেষ্টা করছে। গণভোট প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াতসহ তাদের সমমনা দলগুলোর অবস্থান অনেকটা বিপরীত। বিএনপি চায় গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হোক। অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করতে হবে। অপরদিকে সরকার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পক্ষে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যাশা করছে জামায়াত এ ক্ষেত্রে ছাড় দেবে। অন্যদিকে পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি এসেছে জুলাই সনদে। এখানে বিএনপি নমনীয় হতে পারেনি। সরকার আশা করছে, বিএনপি এ বিষয়ে ছাড় দেবে। এনসিপি জুলাই সনদে এখনো স্বাক্ষর করেনি। সরকারের সূত্রগুলো বলছে, গণভোটের সময় নিয়ে এনসিপি অনেকটাই নমনীয়। এ অবস্থায় গণভোট ইস্যুতে প্রধান দুই দলের অনড় অবস্থানে সংঘাতের আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। অবশ্য সরকারসংশ্লিষ্টরা গণভোট নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের মতপার্থক্য দূর করতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান। সূত্রমতে, ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সবকিছু চূড়ান্ত হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ এবং গণভোট করার জন্য অধ্যাদেশ জারি করবে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলবে।

সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা লক্ষ করেছি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। অন্য দলগুলোও প্রার্থী বাছাই-প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশের তৃণমূলে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ভেতরে ভেতরে একধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। সরকার আদেশ জারি করলেই দলগুলো পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, সরকার বিষয়টি মাথায় নিয়েই সব বিরোধ নিষ্পত্তি করে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে দেশের গণতান্ত্রিক ধারার কথা চিন্তা করে সেখান থেকে দলগুলোর সঠিক পথে ফিরে আসা দরকার। আগের নির্বাচনগুলো সঠিক ছিল না বলে বিপ্লব হয়েছে এবং সেই বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তরণ দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশকে সঠিক গণতান্ত্রিক পথে যেতে একমত হওয়া। দেশের জনগণ চায় দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাক।

আমরা জানি, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু বেশ কয়েক দশক ধরে লক্ষ করা যাচ্ছে এ দেশ থেকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারকে চালকের আসনে থেকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে হবে। আশা করছি, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের পারস্পরিক সমস্যাগুলো সমাধান করে সফল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন

দেশে মব সহিংসতার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। যখন-তখন যেখানে-সেখানে যে কেউ মব বা অন্যায়ভাবে শারীরিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এটি সুস্থ সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এরই মধ্যে বেড়েছে সাইবার মব। অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে নাজেহাল করার চেষ্টা। দেশব্যাপী সাইবার মবের তৎপরতা এমন যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য বা সংস্কৃত অঙ্গনের মানুষও এতে বিদ্ধ হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বটবাহিনীর তাণ্ডবও একধরনের সাইবার মব। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মনোবল ও সাংগঠনিক কাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ মব সহিংসতা ঘটাতে শুরু করে, যা পরে একধরনের মব কালচারে রূপ নেয়। এদিকে গত শনিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় একটি কেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এরপর পুলিশ ও শিক্ষার্থী সংঘর্ষে দুজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার সংকটকে সামনে এনেছে।

অতি সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্য মারধরের শিকার হয়ে দুঃখ-কষ্টে কান্নায় ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সচেতন মহলসহ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেক পুলিশ সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে চরম ক্ষোভ ও সমাজের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন। বারবার টার্গেট হচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, কর্তব্যরত অবস্থায় অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের মব সন্ত্রাস বা বিভিন্নভাবে পুলিশের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলার ঘটনা ঘটছে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিই নয়, বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতি’ প্রকারান্তরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার-প্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি। এটি একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধও। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ তথা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে। 
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে জুন- গত ছয় মাসে সারা দেশে ৩১৯ পুলিশ সদস্য মব বা সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনকানুন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মব কেন ঘটছে এবং কারা কী কারণে করছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে মব সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হবে।

সামাজিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, মবের মতো আইনবিরুদ্ধ কাজও সমাজে যখন প্রতিনিয়ত ঘটে এবং একধরনের ‘বৈধতা পায়’, তখন একটা শ্রেণির কাছে তা ‘স্বাভাবিক’ বলে প্রতীয়মান হওয়া বিচিত্র নয়। কেউ কেউ মনে করেন, এভাবেও বিচার করা যায় বা বিচার হয়। বাংলাদেশে এই বাধা বা প্রতিবন্ধকতার সূত্র ধরে মব সহিংসতা ক্রমান্বয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মবের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না, যা সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা  ছড়াচ্ছে।

মব সহিংসতা বন্ধ করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে মবের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাংগঠনিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অনুসরণ করতে হবে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। আশা করছি, সরকার দেশের জনকল্যাণে মব সহিংসতা দূর করতে দূরদর্শী ভূমিকা রাখবে।

মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটবাজার ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
ভোগান্তি দূর করতে তদারকি বাড়াতে হবে

যানজটের নগরীতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বস্তির বাহন মেট্রোরেল। কিন্তু যথাযথ তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দিন দিন গড়ে উঠছে অস্থায়ী হাটবাজার। একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক অবকাঠামোর নিচে বিভিন্ন ভ্যান ও অস্থায়ী দোকান স্টেশনের প্রবেশপথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে যাত্রীদের চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্টেশনের সিঁড়ি, লিফটের প্রবেশমুখও আংশিকভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। 
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিকশার দীর্ঘ সারি। ফলে প্রতিদিনই হকার, রিকশাচালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগেই থাকছে। নিয়মিত মেট্রোরেল ব্যবহারকারী যাত্রীরা নানা রকম দুর্ভোগে পড়ছেন। শুরুর দিকে মেট্রো স্টেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা দেখে মনে হতো যেন ইউরোপের কোনো আধুনিক নগরের অবকাঠামো। সাধারণ মানুষও স্টেশনগুলোকে নিজেদের সম্পদ মনে করে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কমে যাওয়ায় মেট্রো স্টেশনগুলো সেই পরিবেশ হারাতে বসেছে। 
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে মেট্রো স্টেশনগুলোতেও। তখন থেকে মেট্রো স্টেশনের নিচে হকারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান কিংবা কার্যকর নজরদারি না থাকায় দিন দিন বাড়ছে দখলদারত্ব।

খবরের কাগজ-এ সংবাদ প্রকাশের পর রাজধানীর মেট্রো স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দখল ও ভাসমান দোকানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মেট্রো স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেল শুধু একটি গণপরিবহন নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত ও নিরাপদ করা অত্যন্ত জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত দোকান, ভ্যান ও জনসমাগম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। মেট্রো স্টেশনের নিচে হাটবাজার স্থাপনকে ন্যক্কারজনক বলে মনে করেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, মেট্রোরেল একটি বিশেষায়িত নগর অবকাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রো স্টেশনকে কেন্দ্র করে ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকা আলাদাভাবে পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয়; যাতে পথচারীদের বিভিন্ন চলাচল, যানবাহনের সংযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু ঢাকায় এ ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। সমাধান হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিটি মেট্রো স্টেশনের চারপাশের অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এলাকাকে ‘নো বিজনেস জোন’ ঘোষণা করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্টেশনকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত মোবিলিটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং মেট্রোরেলের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ রাখা যায়।

মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবৈধ দোকানপাট ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্টেশনগুলোকে দখলমুক্ত নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং মেট্রো স্টেশনগুলোকে একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মনে করে অবকাঠামোটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

হাত বাড়ালেই এখন অস্ত্র কেনা যাচ্ছে। অনলাইনে প্রকাশ্যেই অস্ত্র কেনাবেচা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গোপনীয় গ্রুপে এবং প্রকাশ্য ওয়েব পেজে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি কেনাবেচা চলছে। তবে এগুলো অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশে বা অন্য দেশে বসে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। দেশের ভেতরেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ইদানীং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় অনলাইন যোগাযোগে অস্ত্র কেনাবেচার কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দোকানে মেটাল বডির হুবহু নকল পিস্তল, রিভলবারও বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রদর্শন করে বিভিন্ন দামসহ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খেলনা পিস্তলের আড়ালে মূলত প্রকৃত পিস্তল বেচাকেনা হচ্ছে কি না, সে বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে আগামী দিনগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়ে পুলিশের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট করা হয়। লুট হওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৩১৮টি আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো হদিস জানতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব মারণাস্ত্র কার হাতে বা কোথায় আছে, তাও অজানা। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে সারা দেশে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশেষ অভিযানে গত সোমবার পর্যন্ত ২২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারেও সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাদার সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক ক্যাডার–এই তিন শ্রেণির হাতে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ থাকতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। বর্তমান সরকার এখন দৃশ্যমান তেমন কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। দল-মতনির্বিশেষে নির্মোহভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামতে হবে। সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা ছাড়া বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান দৃশ্যমান করতে হবে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি বাহিনী বা সংস্থার সদস্যদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর বা আতঙ্কের বিষয়। আমরা বিভিন্নভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও মহড়া দেখতে পাচ্ছি। সে অনুসারে জোরালো অভিযান চোখে পড়ছে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

অনলাইনে প্রকাশ্যে অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর নজরদারির আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে হলে এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে এবং সাধারণ মানুষের  জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবৈধ অস্ত্রের (অনলাইন অফলাইন) ব্যবহার বন্ধ করা খুবই জরুরি।

প্রকোপ ঠেকাতে সচেতন হওয়া জরুরি দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। কিন্তু এ সময়টাতে সে অনুযায়ী কার্যকর ও সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। মাঠপর্যায়ের বর্তমান যে চিত্র দেখা যায়, তাতে এ বিষয়টি স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীতে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খাল, নালা, ড্রেন ও পরিত্যক্ত স্থানে পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরা স্থির পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ফগিং হলেও লার্ভা ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন; বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা রাজধানীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু মোকাবিলায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকাসহ দেশের অনেক জেলায় এডিস মশার ঘনত্বের সূচক এখন ২০-এর বেশি। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তৈরি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এ ছাড়া গত দুই বছরের অভিজ্ঞতাও তেমন সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। সেই অভিজ্ঞতায় এবার বর্ষার শুরুতেই সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপও আগেভাগেই দেখা দিয়েছে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার অভাবে ডেঙ্গু এখন আর রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, লার্ভা ধ্বংস এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়িয়ে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সময়মতো এসব ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনের মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে সরকারকে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।  ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ডকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং উত্তর সিটির ২৪টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তাই এখন থেকেই  মাঠপর্যায়ে লার্ভি সাইডিং, নিয়মিত ফগিং, খাল-নালা পরিষ্কার এবং আবর্জনা অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে জনসচেতনতা বাড়াতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার দ্রুত এসব উদ্যোগ নিলে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গুর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ধস দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ব্যবস্থা নিন

১৯৮৩ সালের পর ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে এবং পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল, বন্যা, দেয়াল ও পাহাড়ধসে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। ঝুঁকিতে রয়েছেন সেখানকার লাখো বাসিন্দা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কয়েক শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার গতকালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিনের অতিভারী বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নদীর পানি বাড়ার কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চসিকের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। প্রাণহানি এড়াতে ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন করে বলেছেন, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্য আটকে থাকায় খাল-নালা দিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে অনেক এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে বনভূমি উজাড় করে গড়ে তোলা ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ মানুষ ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। 
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়বে। এদিকে ফেনীতে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফেনীর মানুষ। সেই ক্ষত না শুকাতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী কয়েক দিনে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বর্ষণে জনসাধারণকে বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয় ও খেটে খাওয়া মানুষের অসুবিধা চরমে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামই নয়, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে শুধু সতর্কতা জারি করলেই হবে না, তাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনসাধারণের ভোগান্তি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আশা করি, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।