টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। ওই সব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকেরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। প্রশাসনিক কাজেও বাড়ছে জটিলতা। শিগগিরই ওই সব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি শিক্ষকদের। এদিকে জেলা শিক্ষা অফিস বলছে, সরকারিভাবে নিয়োগ কার্যক্রম না হওয়ায় এই শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৪১০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা ছুটিতে থাকলে সৃষ্টি হয় সমস্যা। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করায় তাদের মানতেও চান না অন্য সহকারী শিক্ষকেরা। অনেক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে চরম ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা।
কালিহাতী উপজেলার কামান্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ক্লাসগুলো নিতে। কিন্তু অনেক সময় চাপ বেশি পড়ে যায়। ওই সময় দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা থাকায় শিক্ষার্থীরা বাইরে এলোমেলো ঘুরাফেরা করে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকলে পড়াশোনার মান আরও উন্নত হতো।’
রফিকুল ইসলাম নামে অপর এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত স্যারের প্রায় সব ক্লাস নিতে হয়। তিনজন শিক্ষকের সব ক্লাস নিতে অনেক কষ্ট হয়।’
শিক্ষার্থীরা বলছে, শিক্ষক সঠিক সময়ে না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস হয় না। আমরা নিয়মিত ক্লাস চাই এবং শিক্ষক চাই। একেক সময় একেক স্যার এসে ক্লাস নেন।
খিদির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি। মাসে অন্তত ১০ কর্মদিবস উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে অথবা কোনো সভায় যোগ দিতে আমাকে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এ ছাড়া উপবৃত্তির কাজ চলছে। এই সময় দুজন শিক্ষক সব সময় থাকতেই হয়। এতে পাঠে সমস্যা হয় শিক্ষার্থীদের। তিনজন শিক্ষক দিয়েই প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণির শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানো যায় না। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজেও সমস্যা হয়।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, ‘৪১০টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে। নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। যেসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, তাদের একটি তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ হলেই এই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। এরপর আর এই সমস্যা থাকবে না। এ ছাড়াও জেলায় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদে ৬৮ পদে ১৬ পদ শূন্য এবং সহকারী শিক্ষক ৯ হাজার ৯৮ পদে ৭৩৮ পদ শূন্য রয়েছে।’