পর্যটনশিল্পে নিরাপত্তা ও নিরাপদ ভ্রমণ: পর্যটনশিল্পে পর্যটকদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কক্সবাজার ও সুন্দরবনে ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা পর্যটকদের আস্থা বাড়িয়েছে। তবে, কিছু এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা পর্যটকদের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যটকদের জন্য তথ্য কেন্দ্র স্থাপন প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌ নিরাপত্তা উন্নত করা হয়েছে। নিরাপদ ভ্রমণ পর্যটনশিল্পের সম্প্রসারণে অবদান রাখে।
পর্যটনশিল্পে প্রচারণা ও বিপণন: পর্যটনশিল্পের বিকাশে প্রচারণা ও বিপণন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পর্যটনের প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পর্যটনের প্রচার বাড়ছে। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি এখনো কম। উদাহরণস্বরূপ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটন বিপণন দুর্বল। আন্তর্জাতিক ট্রাভেল মেলা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এই শিল্পকে শক্তিশালী করতে পারে। প্রচারণা পর্যটনশিল্পের বৃদ্ধির চাবিকাঠি।
পর্যটনশিল্পে প্রযুক্তির ভূমিকা: প্রযুক্তি বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে বিপ্লব এনেছে। অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্ম, যেমন–শেয়ারট্রিপ ও গো জায়ান, পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সহজ করেছে। ভার্চুয়াল ট্যুর এবং ডিজিটাল মানচিত্র পর্যটন অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ছে, যা পর্যটন প্রচারে সহায়ক। তবে, গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের অভাব এবং ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রধান বাধা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার পর্যটনশিল্পকে আধুনিক করতে পারে।
পর্যটনশিল্পে পরিবেশ দূষণের প্রভাব: পর্যটনশিল্পে পরিবেশ দূষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে প্লাস্টিক দূষণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে। সুন্দরবনে অতিরিক্ত পর্যটক ও দূষণ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি এবং প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক। উদাহরণস্বরূপ, সুন্দরবনে পরিবেশ সুরক্ষা প্রকল্প চালু হয়েছে। সচেতনতা এবং টেকসই উন্নয়ন পরিবেশ দূষণ কমাতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষা পর্যটনশিল্পের টেকসই বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
আরো পড়ুন : বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
পর্যটনশিল্পে স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা: স্থানীয় সম্প্রদায় পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাঙামাটি ও বান্দরবানে আদিবাসী সম্প্রদায় তাদের সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প পর্যটকদের কাছে তুলে ধরে। স্থানীয়রা ট্যুর গাইড, নৌকা চালক এবং ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করে। তবে, স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুবিধার অভাব তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে। সরকার ও এনজিওর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থানীয়দের ক্ষমতায়ন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সুন্দরবনে স্থানীয়দের পর্যটন ব্যবসায়ে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায় পর্যটনশিল্পের সাফল্যে অবদান রাখে।
পর্যটনশিল্পের চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তার অভাব, পরিবেশ দূষণ এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতি প্রধান সমস্যা। কক্সবাজার ও সিলেটে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত হোটেল ও পরিবহন সুবিধা নেই। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পর্যটন এলাকার প্রচারণায় দুর্বল। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগও পর্যটনের জন্য হুমকি। তবে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, পর্যটন বোর্ডের প্রচারণা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পর্যটনশিল্পে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ: সরকার ও বেসরকারি খাত বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ও পর্যটন করপোরেশন পর্যটন প্রচার ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। বেসরকারি খাতে হোটেল, রিসোর্ট এবং ট্যুর অপারেটররা পর্যটন সুবিধা বাড়াচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পর্যটন প্রচার বাড়ছে। তবে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগ পর্যটনশিল্পকে শক্তিশালী করতে পারে।
পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পদ এই শিল্পকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরতে পারে। ইকো-ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক পর্যটন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ এই শিল্পকে শক্তিশালী করবে। উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ পর্যটন বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি হতে পারে।
উপসংহার: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রচারের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সুন্দরবন, কক্সবাজার, সিলেট এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এই শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখে। তবে, অবকাঠামোগত ঘাটতি, পরিবেশ দূষণ এবং প্রচারণার অভাব এই শিল্পের সম্ভাবনাকে সীমিত করে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, টেকসই পর্যটন নীতি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার এই শিল্পকে শক্তিশালী করতে পারে। তখন পর্যটনশিল্প বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর
ভূমিকা: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থান, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের কারণে বাংলাদেশ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, পাহাড়পুরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার এবং সিলেটের চা বাগান পর্যটনের প্রধান সম্পদ। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, অবকাঠামোগত সমস্যা, পরিবেশ দূষণ এবং প্রচারণার অভাব এই শিল্পের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশে বাধা। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোগে পর্যটনশিল্পের প্রসার ঘটছে। তবে, টেকসই পর্যটন নীতি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
পর্যটনশিল্পের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব: পর্যটনশিল্প বলতে ভ্রমণ, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করার কার্যক্রম বোঝায়। বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আকর্ষণ করে। পর্যটনশিল্প সাংস্কৃতিক বিনিময়, জাতীয় পরিচয় প্রচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তার অভাব এবং বিপণনের ঘাটতি এই শিল্পের বিকাশে প্রধান বাধা। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে পারে। পর্যটনশিল্প জাতীয় অর্থনীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পর্যটন সম্পদ: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটনশিল্পের প্রধান সম্পদ। সুন্দরবন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত। সিলেটের চা বাগান, হাওর এবং জলপ্রপাত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবাল প্রাচীর এবং নীল জল পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। রাঙামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং আদিবাসী সংস্কৃতি পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়ায়। তবে, পরিবেশ দূষণ, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ এই প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য হুমকি। টেকসই পর্যটন নীতি এবং সচেতনতা এই সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উদ্যোগে সুন্দরবন ও কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের মূল শক্তি।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার, মহাস্থানগড় এবং সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক স্থান এখনও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ষাট গম্বুজ মসজিদ, ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান, ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, যেমন–চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে। পহেলা বৈশাখ, দুর্গা পূজা এবং বৈসাবি উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনের অংশ। তবে, ঐতিহাসিক স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সাংস্কৃতিক প্রচারণার ঘাটতি পর্যটনের সম্ভাবনাকে সীমিত করে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই স্থানগুলোর প্রচার ও সংরক্ষণ জরুরি। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরে।
আরো পড়ুন : মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
পর্যটনশিল্পে অর্থনৈতিক অবদান: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসার প্রসারে ভূমিকা রাখে। কক্সবাজার ও সিলেটের পর্যটনশিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন ব্যবসাকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে, যা জিডিপিতে অবদান রাখে। উদাহরণস্বরূপ, পোশাকশিল্পের পাশাপাশি পর্যটনশিল্প অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। তবে, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং বিপণনের অভাব এই খাতের সম্ভাবনাময় বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ এই খাতকে শক্তিশালী করছে। টেকসই পর্যটন নীতি এই শিল্পের অর্থনৈতিক অবদান বাড়াতে পারে।
পর্যটনশিল্পে কর্মসংস্থান: পর্যটনশিল্প বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর গাইড, পরিবহন এবং হস্তশিল্প শিল্পে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে। কক্সবাজার ও সিলেটের পর্যটনশিল্প স্থানীয়দের জন্য আয়ের উৎস। উদাহরণস্বরূপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌকা চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। তবে, অদক্ষ শ্রমশক্তি এবং প্রশিক্ষণের অভাব কর্মসংস্থানের মান উন্নতিতে বাধা। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক। পর্যটনশিল্পে কর্মসংস্থান বাড়লে তা বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইকো-ট্যুরিজম ও টেকসই পর্যটন: ইকো-ট্যুরিজম বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের একটি সম্ভাবনাময় দিক। সুন্দরবন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং হাওর অঞ্চল ইকো-ট্যুরিজমের জন্য আদর্শ। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সহায়তা করে। টেকসই পর্যটন পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে পর্যটনের সুবিধা নিশ্চিত করে। তবে, অপরিকল্পিত পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ এবং বন উজাড় ইকো-ট্যুরিজমের জন্য হুমকি। সরকারের টেকসই পর্যটন নীতি এবং সচেতনতা প্রচার এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কার্যক্রম চালু হয়েছে। ইকো-ট্যুরিজম বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ।
পর্যটনশিল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পর্যটনশিল্পের বিকাশে অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কক্সবাজার, সিলেট এবং রাঙামাটিতে হোটেল, রিসোর্ট এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পর্যটনকে সহজ করছে। তবে, গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহের অভাব পর্যটনের সম্ভাবনাকে সীমিত করে। বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজারে নতুন নতুন রিসোর্ট এবং হোটেল নির্মাণ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যটনশিল্পের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
(বাকি অংশ ২য় পর্বে প্রকাশ করা হবে)
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর
২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা হয়েছে বেলা ১টা পর্যন্ত।
এখন দ্বিতীয় শিফটে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ২টা থেকে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালীন অভিভাবকদের দেখা যায় পরীক্ষার্থীর জন্য অপেক্ষা করছে এই কাঠফাঁটা রোদে।
প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছেন।
এবার পরীক্ষার কেন্দ্রে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বডি–ওর্ন ক্যামেরা।
উত্তর: ইউএনডিপি তার কার্যক্রম পরিচালনায় যেখানে যে ধরনের প্রয়োজন সেখানে সে ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা নানাভাবে নির্যাতিত, বঞ্চিত ও শোষিত হচ্ছে। কাজেই ইউএনডিপি কৃষি কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের নিয়ে দল গঠন করে দল সমাজকর্ম পদ্ধতি ও সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের চেষ্টা করে থাকে। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। আবার ইউএনডিপির স্বাস্থ্য কার্যক্রমে ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।
উত্তর: ইউএনডিপির অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো- নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারীর অংশীদারত্ব বাড়ানো। দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সংস্থাটির উদ্দেশ্য।
উত্তর: উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন হিসেবে ইউএনডিপি গঠন করা হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, বিভিন্ন সংকট প্রতিরোধে সহায়তা করা এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য। এ জন্য ইউএনডিপি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে একটি জাতিকে উন্নত করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে।
উত্তর: কোনো দেশে কম উৎপাদনের ফলে আয় কম হয়। আয় কম হলে সঞ্চয় কম হয়, সঞ্চয় কম হওয়ায় বিনিয়োগ কম হয়। ফলে মূলধন কম যায়, যার ফলে উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। উৎপাদন, আয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও মূলধনের এই চক্রাকার প্রবাহকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলে। সাধারণত অনুন্নত দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি বেশি দেখা যায়।
উত্তর: UNDP-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে United Nations Development Programme। এটি জাতিসংঘের সর্ববৃহৎ উন্নয়নমূলক সংস্থা। স্বল্পোন্নত দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাতিসংঘের মাধ্যমে সাহায্য করার লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালের ১ নভেম্বর এ সংস্থাটি গঠিত হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সদর দপ্তর আমেরিকার নিউইয়র্কে অবস্থিত। মোট ৪৮ জন সদস্য নিয়ে এর পরিচালনা পর্ষদ গঠিত।
উত্তর: বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দেশের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মূলে রয়েছে দারিদ্র্য। দারিদ্র্য শুধু সমস্যাই নয় বরং আরও অন্যান্য সমস্যার কারণ বটে। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ প্রকল্পেই ইউএনডিপির ভূমিকা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ PRSP প্রকল্পে ইউএনডিপির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনে ইউএনডিপির গুরুত্বকে আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা
কবীর
১৯। সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীর ধারের পথ দিয়ে কে বাড়ি ফিরছিল?
(ক) লেখক আর বিধু
(খ) লেখক আর বাদল
(গ) বিধু আর সিধু
(ঘ) বিধু আর বাদল
২০। বাক্সটিতে নগদ টাকা কত ছিল?
(ক) ৪০ টাকা (খ) ৫০ টাকা
(গ) ৬০ টাকা (ঘ) ৭০ টাকা
২১। নোটিশ দেওয়ার কতদিন পর একজন কালো লোক চণ্ডীমণ্ডপের সামনে এসে দাঁড়াল?
(ক) দুই দিন (খ) তিন দিন
(গ) চার দিন (ঘ) পাঁচ দিন
২২। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাহিনির সময়টা কখনকার?
(ক) কালবৈশাখীর (খ) বর্ষাকালের
(গ) ঝড়-বাদলের (ঘ) শিলাবৃষ্টির
আরো পড়ুন : পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা
২৩। কিশোরদের দলের সর্দার কে ছিল?
(ক) সিধু (খ) নিধু
(গ) তিনু (ঘ) বিধু
২৪। ‘পড়ে পাওয়া’ বাক্সটি কোন রঙের টিনের ছিল?
(ক) হলুদ টিনের (খ) সবুজ টিনের
(গ) খয়েরি টিনের (ঘ) কালো টিনের
২৫। বন্যায় কোন চরের কাপালিরা নিরাশ্রয় হয়ে গেল?
(ক) মুরাতিপুর (খ) বারাকপুর
(গ) অম্বরপুর (ঘ) নির্বিষখোলা
২৬। ‘যাবার সময় সে শাসিয়ে গেল’ কে শাসিয়ে গেল?
(ক) প্রথম লোকটি (খ) দ্বিতীয় লোকটি
(গ) কাপালি (ঘ) নরহরি বোষ্টম
উত্তর: ১৯. ক, ২০. খ, ২১. গ, ২২. ক, ২৩. ঘ, ২৪. খ, ২৫. গ, ২৬. খ।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর