তৃতীয় অধ্যায় : বল
(গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশের পর)
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: নিউটনের গতিসূত্র নিয়ে আলোচনা করো।
উত্তর: প্রথম সূত্র (জড়তা ও বলের সংজ্ঞা নির্দেশক সূত্র): বাহ্যিক কোনো বল প্রযুক্ত না হলে বস্তু স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরল পথে চলতে থাকবে।
দ্বিতীয় সূত্র (বল, পরিমাপ ও বলের প্রকৃতি নির্দেশক সূত্র): বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হারের ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে।
তৃতীয় সূত্র (বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়ার সূত্র): প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
প্রশ্ন: ঘর্ষণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দুটি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির ওপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে অথবা চলতে থাকে তাহলে দুটি বস্তুর স্পর্শ তলে ওই গতির বিরুদ্ধে একটা বাধার উৎপত্তি হয়, এই বাধাকে ঘর্ষণ বলে। আর এই বাধার ফলে যে বল উৎপন্ন হয় তাকে ঘর্ষণ বল বলে। মসৃণ অপেক্ষা অমসৃণ তলে ঘর্ষণ বেশি হয়।
প্রশ্ন: ঘর্ষণের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করো।
উত্তর: ঘর্ষণের সুবিধা: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ঘর্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘর্ষণের সুবিধা হলো-
১. ঘর্ষণের জন্য আমরা হাঁটতে পারি, পিছলে যাই না;
২. ঘর্ষণের জন্য আমরা কোনো কিছু ধরে রাখতে পারি;
৩. ঘর্ষণের জন্য গাড়ির চাকা ঘোরে এবং সামনে বা পেছনের দিকে অগ্রসর হতে পারে;
৪. ঘর্ষণের জন্য কাঠে পেরেক বা স্ক্রু লাগাতে পারি;
৫. ঘর্ষণের জন্য কাঁচি বা ছুরিতে ধার দিতে পারি।
ঘর্ষণের অসুবিধা: ঘর্ষণের জন্য আমাদের অসুবিধাও কম হয় না। যন্ত্র চলার সময় গতিশীল অংশগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ ক্রিয়ার ফলে ক্রমশ তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তা ছাড়া যান্ত্রিক দক্ষতাও বেশ কমে যায়। আবার ঘর্ষণের ফলে অনাবশ্যক তাপ উৎপাদনের জন্য যন্ত্রের ক্ষতি হয়।
এসব অসুবিধা দূর করার জন্য যন্ত্রের স্পর্শ তলগুলোর মাঝে পিচ্ছিলকারী তেল বা গ্রাফাইট ব্যবহার করে যন্ত্রকে পিচ্ছিল রাখা হয়।
প্রশ্ন: জড়তা কাকে বলে?
উত্তর: পদার্থ যে অবস্থায় আছে চিরকাল সে অবস্থায় থাকতে চাওয়ার যে প্রবণতা বা সে অবস্থা বজায় রাখতে চাওয়ার যে ধর্ম তাকে জড়তা বলে।
প্রশ্ন: সুস্থিত বল কী?
উত্তর: যে বলগুলো সাম্যাবস্থায় থাকে তাদের সুস্থিত বল বলে।
প্রশ্ন: একক বল কী?
উত্তর: একক ভরের ওপর যে পরিমাণ বল ক্রিয়া করে একক ত্বরণ সৃষ্টি করে তাকে একক বল বলে।
প্রশ্ন: অস্পর্শ বল কাকে বলে?
উত্তর: দুটি বস্তুর প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ ছাড়াই যে বল ক্রিয়া করে তাকে অস্পর্শ বল বলে।
আরো পড়ুন : বল অধ্যায়ের ৫টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, নবম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান
প্রশ্ন: কোন সূত্র থেকে বলের গুণগত সংজ্ঞা পাওয়া যায়?
উত্তর: নিউটনের গতিবিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে বলের গুণগত সংজ্ঞা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: অভিকর্ষ বল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবী যখন কোনো বস্তুর ওপর মহাকর্ষ বল প্রয়োগ করে তখন তাকে অভিকর্ষ বল বলে।
প্রশ্ন: বিসর্প ঘর্ষণ কী?
উত্তর: যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর তথা তলের ওপর দিয়ে পিছলিয়ে বা ঘষে চলতে চেষ্টা করে বা চলে তখন বস্তুতে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় তাকে পিছলানো ঘর্ষণ বা বিসর্প ঘর্ষণ বলে।
প্রশ্ন: প্রবাহী ঘর্ষণ কাকে বলে?
উত্তর: যখন কোনো বস্তু কোনো প্রবাহী পদার্থের মধ্যে গতিশীল থাকে তখন যে ঘর্ষণ ক্রিয়া করে তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে।
প্রশ্ন: স্থিতি ঘর্ষণ কী?
উত্তর: পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে একটি বস্তু যতক্ষণ অপরটির ওপর স্থির থাকে, ততক্ষণ তাদের সংযোগ তলে যে ঘর্ষণ ক্রিয়া করে, তাকে স্থিতি ঘর্ষণ বলে।
প্রশ্ন: আবর্ত ঘর্ষণের উদাহরণ লেখ।
উত্তর: ফুটবল, মার্বেল, গুটি ইত্যাদি মাটির ওপর দিয়ে চলার সময় আবর্ত ঘর্ষণের সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন: অসাম্য বল কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল লব্ধি বলের মান যদি শূন্য না হয়, তখন ক্রিয়ারত বলগুলোকে আমরা অসাম্য বল বলে থাকি।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর