ঢাকা ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
৩ মিনিটে দুই গোল শোধ, অতিরিক্ত সময়ে গড়াল বেলজিয়াম-সেনেগাল ম্যাচ বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে বেলজিয়ামের জালে সেনেগালের গোল লিটন-তাসকিনকে ছাড়াই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা, অধিনায়ক হৃদয় বিশ্বকাপে পেলের রেকর্ড ভাঙলেন হ্যারি কেইন শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ম্যাচ কবে? জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুললেন হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের সামনে ৬০ বছরের দুঃস্বপ্ন সোনারগাঁয় সেতুর নিচের ময়লার ভাগাড়, অতিষ্ট জনজীবন এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা কিম জং উনের সিলেটে ধর্ষণ মামলার ১৪ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত নোবিপ্রবির সঙ্গে জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ মিলল পাটখেতে

পরীক্ষার চাপ কমাতে…

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৬ পিএম
পরীক্ষার চাপ কমাতে…

শিশুদের শিক্ষাজীবনে পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে পরীক্ষার আগে মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা ভয় তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। অভিভাবক ও শিক্ষকের সচেতন ভূমিকা শিশুদের এই চাপ কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। লিখেছেন তাসকিন 

সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা
পরীক্ষার আগে শিশুদের সবচেয়ে বড় চাপ আসে সময় ব্যবস্থাপনার অভাব থেকে। অনেকেই শেষ মুহূর্তে পড়াশোনা সেরে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা উল্টো চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই ছোটবেলা থেকেই একটি নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়া, বিশ্রাম, খেলাধুলা ও বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। এতে শিশু পরীক্ষার আগে হঠাৎ করে অতিরিক্ত পড়ার প্রয়োজন বোধ করবে না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে একটি বাস্তবসম্মত পড়াশোনার রুটিন তৈরিতে সাহায্য করলে তা পরীক্ষার আগের চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনবে। 

ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা
পরীক্ষাকে অনেক শিশু ভয়ংকর একটি বিষয় হিসেবে দেখে। এই ভয় থেকেই মানসিক চাপ তৈরি হয়। অভিভাবক ও শিক্ষকরা যদি পরীক্ষাকে শুধু মূল্যায়নের একটি ধাপ হিসেবে উপস্থাপন করেন, তবে শিশুরা পরীক্ষার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলবে। ছোট ছোট সাফল্যের প্রশংসা করা, ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা- এসব শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। যখন শিশু বুঝবে পরীক্ষা ভয়ের কিছু না, বরং শেখা বিষয় যাচাইয়ের একটি মাধ্যম করা তখন চাপ কমে গিয়ে আত্মবিশ্বাস জায়গা করে নেবে। 

পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার
পরীক্ষার সময় অনেক শিশু রাত জেগে পড়তে চায়, যা স্বাস্থ্য ও পড়াশোনার জন্য ক্ষতিকর। ঘুমের ঘাটতি মনোযোগ কমায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং সহজে বিরক্তি তৈরি করে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সঠিক খাবারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভাজাপোড়া ও জাংক ফুড এড়িয়ে ফল, সবজি, দুধ, ডিম ও বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে। সুস্থ শরীরেই ভালো পড়াশোনা সম্ভব।

নিয়মিত বিশ্রাম ও বিনোদন
অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ শিশুদের ক্লান্ত করে তোলে এবং মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে। পরীক্ষার প্রস্তুতির ফাঁকে ছোট বিরতি নেওয়া জরুরি। অল্প সময় হাঁটাহাঁটি, হালকা খেলা, গান শোনা বা প্রিয় কোনো শখের কাজে যুক্ত হওয়া শিশুদের নতুন উদ্যম এনে দেয়। টানা পড়াশোনা করার চেয়ে মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া পড়ার মান বাড়ায়। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদনকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। 

খোলামেলা আলোচনা ও সহমর্মিতা
পরীক্ষার সময় শিশুর মনে নানা ধরনের ভয় কাজ করে- ‘ভালো ফল করতে না পারলে কী হবে?’, ‘অভিভাবকরা কী বলবে?’ এমন প্রশ্ন তাদের মানসিকভাবে চাপে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো খোলামেলা আলোচনার সুযোগ তৈরি করা। সন্তান কোন বিষয়ে সমস্যায় পড়ছে তা জানা, সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা এবং সহমর্মিতা দেখানো অত্যন্ত জরুরি। যখন শিশু বুঝবে তার সমস্যা অভিভাবক বুঝতে চাচ্ছে, তখন মানসিক চাপ অনেকটা দূর হয়ে যাবে। 

ফলাফলের চেয়ে শেখার ওপর জোর
বলতে গেলে প্রায় সব পরিবারেই পরীক্ষার ফলাফলকে জীবনের বড় অর্জন হিসেবে ধরা হয়। ফলে শিশুরা সব সময় ভালো নম্বর পাওয়ার চাপে থাকে। কিন্তু আসলে শেখাই মূল বিষয়, নম্বর নয়। অভিভাবক ও শিক্ষক যদি শেখার প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেন, তবে শিশু পড়াশোনায় আনন্দ খুঁজে পাবে। এক্ষেত্রে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে, একটি পরীক্ষার খারাপ ফলাফল জীবনের সমাপ্তি নয়। বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা গ্রহণের একটি ধাপ। 

/রোদসী  

শোবার ঘর হোক শান্ত ও আরামদায়ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
শোবার ঘর হোক শান্ত ও আরামদায়ক

ব্যস্ত দিনের শেষে মানুষ যে জায়গাটিতে ফিরে এসে স্বস্তি খোঁজে, সেটি হলো শোবার ঘর। একটি শান্ত, পরিপাটি ও আরামদায়ক শোবার ঘর শুধু ঘুমের মানই উন্নত করে না, মানসিক প্রশান্তি ও কর্মক্ষমতাও বাড়ায়। তাই শোবার ঘর সাজাতে শুধু সৌন্দর্য নয়, গুরুত্ব দিতে হবে আরাম, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পরিকল্পনায়। লিখেছেন রোদসী 

রঙের সঠিক ব্যবহার
শোবার ঘরের পরিবেশ তৈরিতে রঙের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উজ্জ্বল এবং চড়া রঙের পরিবর্তে হালকা ও নরম শেড যেমন অফ-হোয়াইট, হালকা নীল, প্যাস্টেল সবুজ, ল্যাভেন্ডার কিংবা হালকা ধূসর ব্যবহার করলে ঘরে এক ধরনের প্রশান্ত ভাব তৈরি হয়। এসব রং চোখকে আরাম দেয় এবং মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। দেয়াল, পর্দা ও বিছানার চাদরে মিল রেখে রং নির্বাচন করলে ঘরটি আরও পরিপাটি ও নান্দনিক দেখায়।

সঠিক আলো ব্যবস্থাপনা
আলো শোবার ঘরের আবহ তৈরির অন্যতম উপাদান। খুব বেশি উজ্জ্বল আলো ঘুমের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। তাই সাদা তীব্র আলো বাদ দিয়ে উষ্ণ ও নরম আলো ব্যবহার করা ভালো। বেডসাইড ল্যাম্প, ডিম লাইট বা ওয়াল লাইট ব্যবহার করলে ঘরে একটি কোমল পরিবেশ তৈরি হয়। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ রাখা উচিত। জানালায় হালকা পর্দা ব্যবহার করলে আলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। 

আরামদায়ক বিছানা ও সঠিক আসবাব
শোবার ঘরের মূল আকর্ষণ হলো বিছানা। আরামদায়ক ম্যাট্রেস, নরম কিন্তু সাপোর্টিভ বালিশ এবং মানসম্মত চাদর ঘুমের মান উন্নত করে। বিছানার উচ্চতা, আকার ও অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঝামাঝি বা দেয়ালের পাশে সঠিকভাবে বিছানা স্থাপন করলে চলাচলে সুবিধা হয়। অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কমিয়ে ঘরকে খোলামেলা রাখা উচিত। বেশি আসবাব ঘরকে ভারী ও অগোছালো করে তোলে, যা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। প্রয়োজনীয় একটি ওয়ারড্রোব, ছোট ড্রেসিং টেবিল বা সাইড টেবিল যথেষ্ট।

পরিচ্ছন্নতা ও গুছিয়ে রাখা
পরিচ্ছন্ন ঘর মানেই মানসিক স্বস্তি। বিছানা, টেবিল বা মেঝেতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিন সকালে বিছানা গুছিয়ে রাখা এবং নিয়মিত ঝাড়পোঁছ করলে ঘর সতেজ থাকে। অগোছালো পরিবেশ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই বই, পোশাক বা ব্যক্তিগত সামগ্রী আলাদা বক্স বা ড্রয়ারে সংরক্ষণ করা ভালো। চাইলে মিনিমালিস্ট স্টাইল অনুসরণ করে কম জিনিসে ঘর সাজানো যেতে পারে।

শব্দ ও গন্ধ নিয়ন্ত্রণ
শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বাইরে থেকে শব্দ বেশি এলে ভারী পর্দা বা সাউন্ডপ্রুফিং উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে নরম সংগীত বা হালকা প্রাকৃতিক শব্দ ঘুমে সহায়ক হতে পারে। সুগন্ধিও ঘরের পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।হালকা সুগন্ধি মোমবাতি, রুম ফ্রেশনার বা প্রাকৃতিক ফুল ব্যবহার করলে ঘর আরও সতেজ লাগে। তবে অতিরিক্ত তীব্র গন্ধ এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখা
শোবার ঘরে টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। তাই শোবার ঘরকে প্রযুক্তিমুক্ত বা কম প্রযুক্তিনির্ভর রাখার চেষ্টা করা উচিত। ঘুমের অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করলে ভালো ঘুম নিশ্চিত করা সহজ হয়।

ব্যক্তিগত স্পর্শ
শোবার ঘর যেন আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন হয়। তাই সাজসজ্জায় এমন উপাদান রাখুন, যা আপনাকে স্বস্তি দেয় এবং আপনার পরিচয় বহন করে। পরিবারের ছবি, প্রিয় কোনো মুহূর্তের ফ্রেম বা ছোট শিল্পকর্ম ঘরে উষ্ণতা যোগ করে। যারা বই পড়তে ভালোবাসেন, তারা বেডসাইডে কয়েকটি প্রিয় বই রাখতে পারেন। এতে নান্দনিকতা যেমন বাড়ে, তেমনি ঘুমের আগে পড়ার অভ্যাসও তৈরি হয়। এ ছাড়া ছোট টবের মানিপ্ল্যান্ট বা সাকুলেন্টের মতো ইনডোর গাছ ঘরে সতেজতা আনে। তবে সবকিছুই সীমিত ও গুছিয়ে রাখাই মূল কথা। তাহলেই শোবার ঘর হয়ে উঠবে আরামদায়ক ও আপন।

 

মাছির উপদ্রব কমাতে

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
মাছির উপদ্রব কমাতে

ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে মাছির উপদ্রব একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাছির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়; যা শুধু বিরক্তির কারণই নয়, বরং বিভিন্ন রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ায়। খাবার ও বসবাসের জায়গা নিরাপদ রাখতে তাই মাছি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। লিখেছেন রোদসী 

পরিচ্ছন্ন পরিবেশই প্রথম প্রতিরোধ
মাছির উপদ্রব কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা। খোলা খাবার, ময়লা-আবর্জনা কিংবা অপরিষ্কার রান্নাঘর মাছিকে সহজেই আকৃষ্ট করে। তাই খাবার সব সময় ঢেকে রাখা এবং রান্নার পরপরই টেবিল ও রান্নাঘরের স্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ডাস্টবিন নিয়মিত খালি করা এবং ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়ি ব্যবহার করলে মাছির বংশবিস্তার অনেকটাই কমে যায়। 

রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণে সতর্কতা
মাছি সাধারণত খাবারের গন্ধে দ্রুত আসে। তাই রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা উচিত নয়। ফলমূল, মিষ্টি বা রান্না করা খাবার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করলে মাছি আসার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে ঈদ বা পারিবারিক আয়োজনের সময় খাবার বেশি প্রস্তুত করা হলে এ বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক উপায়ে মাছি নিয়ন্ত্রণ
রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও মাছি দূরে রাখতে কার্যকর। লেবু ও লবঙ্গ একসঙ্গে রেখে দিলে তার গন্ধ মাছি দূরে রাখতে সাহায্য করে। তেজপাতা, তুলসী বা পুদিনা পাতার গন্ধও মাছির জন্য অপছন্দের। জানালার পাশে এসব প্রাকৃতিক উপাদান রাখা যেতে পারে। এছাড়া ভিনেগার বা লেবুর রস মিশ্রিত পানি দিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করলে পরিবেশ সতেজ থাকে এবং মাছির উপস্থিতি কমে। 

দরজা-জানালায় সুরক্ষা ব্যবস্থা
ঘরে মাছি প্রবেশের অন্যতম পথ হলো খোলা দরজা ও জানালা। তাই জানালায় নেট বা জালি ব্যবহার করা একটি কার্যকর সমাধান। দিনের বেলায় আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ রেখেও মাছি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দরজার সামনে পর্দা বা এয়ার কার্টেন ব্যবহারের মাধ্যমেও মাছির প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

আশপাশের পরিবেশের যত্ন
শুধু ঘরের ভেতর নয়, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জমে থাকা পানি, খোলা ড্রেন বা আবর্জনার স্তূপ মাছির বংশবিস্তারের প্রধান স্থান। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে মাছির সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে।

রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে

রান্নাঘর বাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিনের রান্নাবান্না, খাবার প্রস্তুত এবং নানা ব্যবহারের কারণে এ জায়গাটি দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এটি শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, বরং দুর্গন্ধ, জীবাণু এবং পোকামাকড়ের সমস্যাও বাড়াতে পারে। তাই রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখতে নিয়মিত তেল চিটচিটে ভাব দূর করা জরুরি। লিখেছেন রোদসী 

কেন জমে তেল চিটচিটে ভাব
রান্নার সময় তেল, মসলা ও বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের দেয়াল, তাক, চুলা কিংবা ক্যাবিনেটে জমে যায়। ধুলাবালির সঙ্গে মিশে তা আরও আঠালো হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাজাপোড়া বেশি হলে এ সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। অনেক সময় শুধু শুকনো কাপড় দিয়ে মুছলে এটি ওঠে না, বরং আরও ছড়িয়ে যায়। 

গরম পানি ও সাবানের সহজ সমাধান
রান্নাঘরের হালকা তেলচিটে ভাব দূর করতে গরম পানির সঙ্গে লিকুইড সাবান মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। একটি কাপড়ে সেই পানি লাগিয়ে চুলা, টাইলস বা কাউন্টার মুছে নিন। গরম পানি তেল আলগা করতে সাহায্য করে এবং সাবান ময়লা সহজে তুলে ফেলে। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিলে জায়গাটি ঝকঝকে দেখাবে।

বেকিং সোডা ও ভিনেগার
জেদি তেলচিটে দাগ দূর করতে বেকিং সোডা ও ভিনেগার কার্যকর উপায় হতে পারে। প্রথমে জায়গাটিতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন, এরপর সামান্য ভিনেগার স্প্রে করুন। কয়েক মিনিট রেখে নরম স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। এতে জমে থাকা তেল ও দাগ সহজে উঠে আসে।

লেবুর ব্যবহার
লেবু প্রাকৃতিক ক্লিনার হিসেবে বেশ উপকারী। এর অ্যাসিডিক উপাদান তেল কাটতে সাহায্য করে এবং দুর্গন্ধও দূর করে। একটি লেবু কেটে সরাসরি তেলচিটে স্থানে ঘষতে পারেন অথবা লেবুর রস গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরে সতেজ ঘ্রাণও থাকবে।

ক্যাবিনেট ও কাঠের অংশ পরিষ্কার করবেন যেভাবে
কাঠের ক্যাবিনেট বা তাক পরিষ্কারে বেশি পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে কাঠ নষ্ট হতে পারে। হালকা ভেজা কাপড়ে সাবান পানি লাগিয়ে মুছে নিন, তার পর সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। চাইলে অল্প ভিনেগার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা যেতে পারেন।

চুলা ও এক্সহস্ট ফ্যান পরিষ্কার রাখুন
চুলার ওপর সবচেয়ে বেশি তেল জমে। রান্না শেষে চুলা ঠাণ্ডা হলে প্রতিদিন মুছে ফেললে দাগ শক্ত হবে না। এক্সহস্ট ফ্যানেও দ্রুত তেল জমে যায়। মাসে অন্তত একবার ফ্যানের ফিল্টার খুলে গরম পানি ও ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। 

প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসে মিলবে বড় ফল
রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখতে কিছু ছোট অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন-
•    রান্না শেষে চুলা ও কাউন্টার মুছে রাখুন
•    সপ্তাহে এক দিন টাইলস ও দেয়াল পরিষ্কার করুন
•    ভাজাপোড়া করার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন
•    এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখুন
•    ময়লা কাপড় বা স্পঞ্জ নিয়মিত ধুয়ে নিন

দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব
ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি মানুষের স্বস্তি, রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। ঘরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র কিংবা আলোকসজ্জার মতো দেয়ালের রংও পরিবেশ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় শুধু রং বদলালেই একটি সাধারণ ঘর হয়ে উঠতে পারে প্রাণবন্ত কিংবা আধুনিক। তাই দেয়ালের রং নির্বাচন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি ঘরের চরিত্র প্রকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লিখেছেন মুশফিরাত  
 
রঙের আছে নিজস্ব ভাষা
প্রতিটি রংই একেকটি অনুভূতির প্রতীক। সাদা রং পরিচ্ছন্নতা, শান্তি ও সরলতার বার্তা দেয়। নীল রং প্রশান্তি ও স্থিরতার প্রতীক, যা শোবার ঘর বা পড়ার ঘরের জন্য উপযোগী। সবুজ রং প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেয়, যা মনকে সতেজ রাখে। হলুদ রং উচ্ছ্বাস ও প্রাণশক্তির প্রতীক, তাই ডাইনিং স্পেস বা বসার ঘরে এটি ভালো মানায়। আবার ধূসর, বেইজ কিংবা অফ-হোয়াইট রং আধুনিক ও অভিজাত আবহ তৈরি করে। যারা মিনিমাল বা পরিমিত সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এসব রং হতে পারে আদর্শ পছন্দ। অন্যদিকে লাল, কমলা বা গাঢ় নীলের মতো রং সীমিত পরিসরে ব্যবহার করলে ঘরে আসে আলাদা ব্যক্তিত্ব ও নাটকীয়তা। 
 
ঘরভেদে আলাদা রঙের ভাবনা
সব ঘরে একই রং ব্যবহার না করে জায়গা অনুযায়ী রং নির্বাচন করাই ভালো। বসার ঘর হলো অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক আড্ডার জায়গা। তাই এখানে এমন রং ব্যবহার করা উচিত, যা উষ্ণ, আমন্ত্রণমূলক এবং পরিপাটি দেখায়। হালকা ধূসর, ক্রিম, প্যাস্টেল সবুজ কিংবা হালকা নীল হতে পারে ভালো পছন্দ। শোবার ঘরে চাই আরাম ও প্রশান্তি। তাই নরম নীল, ল্যাভেন্ডার, সাদা, হালকা গোলাপি বা মাটি রঙের শেড ভালো মানায়। এগুলো মনকে শান্ত করে এবং বিশ্রামের অনুভূতি দেয়। শিশুদের ঘরে রঙের ব্যবহার হতে পারে আরও প্রাণবন্ত। হালকা হলুদ, আকাশি, মিন্ট সবুজ কিংবা নরম কমলা শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তবে খুব বেশি উজ্জ্বল বা চোখে লাগে এমন রং এড়িয়ে চলাই ভালো। রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা ও উজ্জ্বলতার অনুভূতি জরুরি। তাই সাদা, হালকা সবুজ, ক্রিম বা হালকা ধূসর ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
ছোট ঘর বড় দেখানোর কৌশল
অনেক বাসাতেই জায়গা সীমিত থাকে। সে ক্ষেত্রে দেয়ালের রং দিয়ে ঘরকে বড় ও খোলামেলা দেখানো সম্ভব। হালকা রং যেমন সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল টোন ঘরকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। কারণ এসব রং আলো প্রতিফলিত করে এবং জায়গাকে প্রশস্ত মনে হয়। অন্যদিকে গাঢ় রং ঘরকে ছোট ও ঘন মনে করাতে পারে। তবে নির্দিষ্ট একটি দেয়ালে গাঢ় রং ব্যবহার করলে সেটি ঘরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে এবং আলাদা সৌন্দর্য এনে দেয়।
 
ব্যক্তিত্ব প্রকাশে অ্যাকসেন্ট ওয়াল
বর্তমানে ঘর সাজানোর জনপ্রিয় ধারণা হলো অ্যাকসেন্ট ওয়াল বা বিশেষ দেয়াল। অর্থাৎ চারটি দেয়ালের মধ্যে একটি দেয়ালকে আলাদা রং বা নকশায় সাজানো। এতে ঘরে বৈচিত্র্য আসে এবং ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। যেমন বসার ঘরে টিভির পেছনের দেয়াল, শোবার ঘরে বিছানার পেছনের দেয়াল কিংবা ডাইনিং স্পেসে একটি দেয়াল গাঢ় বা ভিন্ন রঙে করা যেতে পারে। এ ছাড়া ওয়ালপেপার, টেক্সচার পেইন্ট কিংবা জ্যামিতিক নকশাও এখন জনপ্রিয়। এগুলো ঘরের আধুনিকতা বাড়ায়।
 
আলো ও রঙের সম্পর্ক
দেয়ালের রং নির্বাচন করার সময় ঘরে কতটা প্রাকৃতিক আলো আসে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব ঘরে আলো কম আসে, সেখানে হালকা ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখায়। আর যেসব ঘরে প্রচুর আলো আসে, সেখানে মাঝারি বা গাঢ় টোনও সুন্দর লাগে। 
রাতে কৃত্রিম আলোতেও রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। তাই রং করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।  
 
সময়ের সঙ্গে বদলানো ট্রেন্ড
একসময় ঘরে শুধু সাদা রংই বেশি ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন মাটি রং, টেরাকোটা, সবুজ, ধূসর-নীল, চারকোল কিংবা প্যাস্টেল শেড এখন বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও কম গন্ধযুক্ত রঙের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। 
কিছু জরুরি পরামর্শ
• রং কেনার আগে ছোট স্যাম্পল পরীক্ষা করুন
• ঘরের আসবাবপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রং বেছে নিন
• খুব বেশি রঙের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
• দীর্ঘমেয়াদে ভালো লাগবে এমন শেড নির্বাচন করুন
• মানসম্মত রং ব্যবহার করুন, যাতে টেকসই হয়

 

এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে

গ্রীষ্মকালের এই সময়টায় তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও আর্দ্রতার কারণে নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। বছরের এই সময়টাতে কারও ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়, কারও ব্রণ বেড়ে যায়। আবার অনেকের ত্বকে র‌্যাশ, রোদে পোড়া দাগ কিংবা শুষ্কতা দেখা দেয়। তাই এই সময়ে একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্ন ত্বককে রাখতে পারে সতেজ, পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত। লিখেছেন রোদসী
   
ত্বক পরিষ্কার রাখুন নিয়মিত
গরমে ঘাম বেশি হয়, ফলে ত্বকে ময়লা ও তেল জমে যায়। এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস কিংবা ফুসকুড়ির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করা উচিত। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই মুখ ধুয়ে নিন, যাতে ধুলাবালি ত্বকে না জমে থাকে। 
তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। বারবার সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন প্রতিদিন
গরমে ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এটি ত্বকে কালচে দাগ, ট্যান, রোদে পোড়া ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন বেছে নিন। যদি দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হয়, তা হলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার ব্যবহার করুন। শুধু মুখ নয়, হাত, গলা এবং খোলা অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।

হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নাই। এটি ভুল ধারণা। গরমেও ত্বক আর্দ্রতা হারায়, বিশেষ করে রোদে থাকলে বা বারবার মুখ ধুলে। তাই হালকা, তেলমুক্ত বা জেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক নরম থাকবে এবং শুষ্কতা কমবে।

প্রচুর পানি পান করুন
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও নিতে হয়। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বক নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস কিংবা পানিযুক্ত ফল যেমন তরমুজ, শসা, কমলা খেতে পারেন। এতে শরীর যেমন ঠাণ্ডা থাকবে, তেমনি ত্বকও থাকবে সতেজ।

হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করুন
গরমে ভারী মেকআপ ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন, ভারী কনসিলার বা ঘন প্রসাধনী ঘাম ও তেলের সঙ্গে মিশে ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই এই সময় হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করাই ভালো।
টিন্টেড সানস্ক্রিন, হালকা কমপ্যাক্ট, ওয়াটারপ্রুফ কাজল বা লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। এতে স্বাভাবিক লুক বজায় থাকবে, আবার ত্বকও আরাম পাবে।

ত্বক ঠাণ্ডা রাখতে প্রাকৃতিক যত্ন
গরমে ঘরোয়া কিছু উপায়ও ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। যেমন-
•    শসার রস বা টুকরো চোখ ও মুখে ব্যবহার করলে ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়
•    গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখে
•    অ্যালোভেরা জেল ত্বকের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে
•    দই ও মধুর প্যাক ত্বক কোমল রাখতে সহায়ক 
তবে যেকোনো কিছু ব্যবহারের আগে ত্বকে মানায় কি না তা দেখে নেওয়া ভালো।

ঘাম ও ব্রণের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ হতে পারে। তাই মুখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন এবং ঘাম হলে আলতোভাবে মুছে নিন।

খাবারেও আনুন পরিবর্তন
ত্বকের সুস্থতার জন্য খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার অনেক সময় ত্বকের সমস্যা বাড়ায়। তাই গরমে বেশি করে ফল, শাকসবজি, সালাদ ও হালকা খাবার খাওয়া ভালো। 
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, পেয়ারা, লেবু ত্বকের জন্য উপকারী। এ ছাড়া বাদাম, দই, সবুজ শাকসবজিও ত্বকের পুষ্টি জোগায়।

কী এড়িয়ে চলবেন
গরমে ত্বকের যত্নে কিছু ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি–
•    রোদে বের হয়ে সানস্ক্রিন না ব্যবহার করা
•    ঘামযুক্ত মুখে মেকআপ রেখে দেওয়া
•    অপরিষ্কার তোয়ালে বা বালিশের কভার ব্যবহার করা
•    খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া
•    ব্রণ খোঁটা বা চেপে ধরা
এসব অভ্যাস ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।