মানুষেরও বসবাসের বহু বছর আগে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াত টাইনোসরাস রেক্স, ট্রিসেরাটপস, স্পাইনোসরসের মতো বিশালাকৃতির সব ডায়নোসর। ফসিল শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা এসব প্রাণিগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। এদের জীবনযাপন কেমন ছিল বা কীভাবেই বিশালাকৃতির এই ডায়নোসরগুলো পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল - তা যেমন ভাবিয়েছে গবেষকদের, তেমনি ভাবিয়েছে সাধারণ মানুষকে?
জীবাশ্মবিদরা ডায়নোসরদের জীবনযাপন সম্পর্কে ধারণা দিলেও এখন পর্যন্ত এর বিলুপ্তির সঠিক কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই ভূত্ত্ববিদরা চেষ্টা করেছেন, শক্তিশালী কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডায়নোসর বিলুপ্তির কারণ খুঁজে বের করার।
গত কয়েক দশক ধরেই বিজ্ঞানীরা ডায়নোসর বিলুপ্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে গ্রহাণুর আঘাত অথবা ডেকান ট্র্যাপসের অগ্ন্যুৎপাত। এবার কম্পিউটার প্রযুক্তির ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে গ্রহাণু নয় অগ্ন্যুৎপাতেই গণবিলুপ্তি হয় ডায়নোসরের। এ সময় তখনকার পৃথিবীর উড়তে অক্ষম ডায়নোসরদের সব প্রজাতি এবং পৃথিবীর প্রাণের প্রায় তিন চতুর্থাংশের অবসান হয়। যার মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হয় ক্রিটেসিয়াস যুগের।
এই গবেষণার ফলাফল ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় সায়েন্স জার্নালে। গবেষণায় যে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে -তাতে ১২৮ টি প্রসেসর যুক্ত ছিল। ফলে একই ঘটনার বিভিন্ন সিম্যুলেশন পাওয়া যায়। যা পরে ডার্টমাউথের ভূতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কক্স ও সি. ব্রেনহিন কেলারের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল তা যাচাই করে দেখেন।
কক্স বলছেন, এটি অনেকটা ছাত্রদের একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো। কারণ এতে কম্পিউটার সিম্যুলেশনে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। শুধু প্রয়োজনীয় ডাটাই কম্পিউটার প্রোগ্রামে সরবরাহ করা হয়েছে।
সিম্যুলেশন থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, গভীর সমুদ্রের পলি থেকে খনন করার ফলে যেসব ভূতাত্তিক ডাটা পাওয়া গেছে তার আলোকে বায়ুমন্ডলে গ্যাসের মারাত্মক বিস্ফোরণকেই নির্দেশ দিয়েছে।
কম্পিউটার প্রোগ্রামে যাচাইকৃত তথ্য বলছে – মহাসাগরে অম্লীয় সালফার ডাই অক্সাইডের উপস্থিতিই তার এই বিস্ফোরণগুলোর প্রমাণ। এ গবেষণায় মার্কভ চেইন মন্টে কার্লো মডেল ব্যবহার করেছেন গবেষকেরা। এই মডেলটি বিভিন্ন উৎস থেকে নির্গমন হওয়া গ্যাস থেকে সম্ভাবতা বিবেচনা করে।
এ ফলাফল কিন্তু গ্রহাণুর আঘাতের বিষয়টি নাকচ করে দিচ্ছে না। এতে শুধু বলা হয়েছে, যে ধরণের গণবিলুপ্তির মধ্যে দিয়ে ডায়নোসরের প্রজাতিগুলো গিয়েছে -তা ডেকান ট্র্যাপসের অগ্ন্যুৎপাতেই সম্ভব। বর্তমান মেক্সিকোতে যেই গ্রহাণু আঘাত হেনেছিল -তার ফলে মহাসাগরে এত বেশি পরিমাণ সালফার ডাই অক্সাইড যোগ করা সম্ভব নয়।