ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বোমা বিশেষজ্ঞ মুকিত হোসাইন ওরফে বোমা মাওলানার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এই মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর লালবাগ থানার এই মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী আল ফারাবী এই আদেশ দেন।
আদালতে লালবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক সেলিম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর লালবাগ থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে বিচারক তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বুধবার আদেশ দেন।
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার থেকে গত সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) মুকিতকে গ্রেপ্তার করে ডিবির লালবাগ বিভাগ। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, এই ‘বোমা মাওলানা’ গান-পাউডার সংগ্রহ করে প্রায় ৪০০টি বোমা তৈরি করেছেন। পরে এসব বোমা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। তার সরবরাহ করা বোমার মধ্যে একটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে মুকিত হোসাইনকে খুঁজছিলাম। তবে সবাই তাকে ডাকে ‘বোমা মাওলানা’ নামে। এক সময় তিনি আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদলের সহসভাপতি ও সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছাত্রদল মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০১৩-১৪ সালে বোমা বানাতে গিয়ে তার ডান হাতের কবজি উড়ে যায়। এরপর থেকে তার নাম হয় বোমা মাওলানা।’
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মহানগর জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে যে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়েছিল সেটির মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মুকিত। গত ২৭ অক্টোবর রাতে মতিঝিল ব্যাংক কলোনিতে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তার কাছে ১০ কেজি পরিমাণ গান-পাউডার পাঠান। এ গান-পাউডার পৌঁছে দেন ভাটারা থানার যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম নয়ন। এই গান-পাউডার দিয়ে কয়েক দফায় প্রায় ৪০০টি হাতবোমা তৈরি করেন মকিত। পরে তিনি বিভিন্ন থানা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের কাছে এসব বোমা সরবরাহ করেন। তার সরবরাহ করা হাতবোমার মধ্য থেকে একটি যুবদলের সদস্য সোহেল খান ও অভি আজাদ চৌধুরীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর জজ কোর্ট আদালতে বিস্ফোরণ ঘটায় ওয়ারীর আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী হাফসা আক্তার।