দৈনিক খবরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ভুয়া দুদক চক্রের তিন সদস্যের প্রত্যেককে তিনি দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন রেজা রিমান্ডের আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- মো. রায়হান ওরফে সৈয়দ রায়হান, সোলায়মান মুফতি ও রফিকুল ইসলাম সম্রাট।
এর আগে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসামিদের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন।
আদালতে আসামিদের রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।
শুনানিতে সম্রাটের আইনজীবী মুনজুর আলম বলেন, আসামিরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২০০১ সালের অনুমোদিত এবং নিবন্ধিত দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থার কর্মকর্তা। এই সংস্থার সভাপতি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
গতকাল সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা জাহির করতে রাজধানীতে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফেইসবুকে লাইভ করতে এসে ধরা পড়েন এই তিন প্রতারক।
পরে পল্টন থানায় প্রতারণার অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় এই তিন আসামি ছাড়াও পটুয়াখালীর সোলাইমান মুফতি, সিয়াম মাহমুদ মোবারক, হবিগঞ্জের রনি আহেমদ পায়েলসহ অজ্ঞাত আরও আটজনকে আসামি করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ‘দুর্নীতি নিবারণ সহায়ক সংস্থা’ নামে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে দুদকের সহযোগী বাহিনী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকেন। দুদকের অনুরূপ তাদের নিজস্ব লোগো-সম্বলিত ইউনিফর্ম, ছবিযুক্ত আইডি কার্ড নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরসহ দুই শতাধিক বেসরকারি স্থানে বেআইনি অভিযান পরিচালনা করেন।
এসব অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি, অন্যথায় দুদকে অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এসব অভিযানের সময় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে দেওয়া, বিকৃত তথ্য প্রচার করে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
জলিল উজ্জ্বল/অমিয়/