প্রয়াত চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে করা মামলায় তার শাশুড়ি লতিফা হক লিও ওরফে লুসির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা আবেদন পর্যালোচনা করে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল আলম খন্দকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, লুসিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে। এ অবস্থায় তিনি দেশ ছেড়ে গেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এমতাবস্থায় তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমন রহিত থাকা প্রয়োজন। আসামির বিদেশ গমন রহিতকল্পে ‘স্টপ লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় বাবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর
সালমানের স্ত্রী সামিরা হক ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন একই বিচারক। এনিয়ে তিনজনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়।
একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হলে। তা প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন আবেদন করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
এরপর ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়।
এর ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও অপমৃত্যু বলা হয়।
এদিকে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলের হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী।
তিনি ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন।
সর্বশেষ মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত এই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নথিজাত করার আদেশ দেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়।
সম্প্রতি গত ২০ অক্টোবর রিভিশন মঞ্জুর করে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রাজধানীর রমনা থানায় মামলা রজ্জু করেন।
এই মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ও ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও আরও অনেককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ডেবিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
জলিল/মেহেদী/