ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে জইশ-ই-মোহাম্মদের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার নরওয়ে ম্যাচে রাফিনহাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল তামিলনাড়ুতে অ্যামোনিয়া গ্যাস দুর্ঘটনা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ খুলনায় কিশোরী গুলিবিদ্ধ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, সতর্কতা এফএফডব্লিউসির মুফতি মেঙ্কের কাছে কালিমা পড়ে মুসলিম হলেন বিশ্বকাপ তারকা টেটে জৈন্তাপুরে বিজিবি-শ্রমিক উত্তেজনা, সড়ক অবরোধ হামলার আশঙ্কায় বাবার শেষকৃত্যে থাকার সম্ভাবনা কম মোজতবা খামেনির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে গর্বিত গোলরক্ষক ভোজিনিয়া শেষ ষোলোর সমীকরণ চূড়ান্ত: কার প্রতিপক্ষ কে? ইরানি কূটনীতিকদের হত্যার প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলল ইসরায়েল খামেনির জানাজায় ১৪ মাস বয়সি নাতনির ছোট্ট কফিন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে ২৬৪৫ মৃত্যু, আহত ১২ হাজার ৬৬৬ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়: লাখো মানুষের ঢল, আবেগাপ্লুত শীর্ষ ইরানি নেতৃত্ব শেরপুরে নিখোঁজের ১ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ডিফেন্ডার পিকো লোপেস দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা শৈলকুপায় ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত কঠিন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকতে হবে: মার্তিনেস ফ্রান্সের দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগ বনাম গিল প্রাচীর ‘আহাদ! আহাদ!’ ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া নগরকান্দায় প্রবাসীর বাড়ি দখল করে তালা, পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কেপ ভার্দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা বুবিস্তার নাটোরে ৩৫ ফুট কালী প্রতিমা ঘিরে পূজা ও মেলা মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ

রাজধানীতে জালনোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ ২ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৬ পিএম
রাজধানীতে জালনোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ ২ জন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি জালনোট ও জালনোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি) উত্তরা বিভাগ।

রবিবার (১৬ মার্চ) রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওয়ারী থানাধীন আর কে মিশন রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-উত্তরা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সাইদুর রহমান (৩২) ও মো. মেহেদী হাসান (২৫)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ টাকার জালনোট, ৭৭ হাজার ১০০ ভারতীয় রুপির জাল নোট এবং জালনোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, রবিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আর, কে মিশন রোডের ০৮নং গলির একটি ভবনের ষষ্ঠ তলার ৬/বি ফ্ল্যাটে কতিপয় জালনোট ব্যবসায়ী দেশি-বিদেশি জালনোট ও জালনোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ অবস্থানের তথ্য পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি-উত্তরা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে জালনোট ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান ও মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া একজন কৌশলে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের সময় তাদের থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৭৭ হাজার ১০০ ভারতীয় রুপির জাল নোট, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর, জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত প্রিন্টারের আটটি অব্যবহৃত কালির কৌঁটা, ১০০ পিস ফয়েল পেপার (সিকিউরিটি ফিতা) ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররাসহ অপর পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরণের দেশি ও বিদেশি জালনোট তৈরি করে রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করত। এ ছাড়া তারা আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ জালনোট তৈরি করে সেগুলো সরবরাহ করার জন্য তাদের হেফাজতে রেখেছিল মর্মে স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মেহেদী/

সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর
ছবি: খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক

সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর ও পুনর্বাসন করেছে সরকার। ১ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে অধিকাংশ কর্মকর্তাকে অবসরকালীন পদবি থেকে উপরের এক থেকে দুই ধাপ পদোন্নতি ও  সে অনুযায়ী অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন বন্দিশালায় তথা কথিত ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও হাসিনুর রহমান হাসিনসহ বেশকিছু আলোচিত সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে দুই ধাপ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করা হয়েছে। তবে তিনি মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় স্বাভাবিক অবসর হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া বিশেষ আর্থিক বা প্রণোদনা সুবিধায় ১ কোটি টাকা, বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে অন্য যেকোনো সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদায়নের বিষয়েও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আবদুল্লাহিল আমান আযমী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ওইসব গোপন বন্দিশালা থেকে আযমীসহ আরও অনেকেই মুক্ত হন। পরে তাদের বন্দিদশার নির্মম ও কষ্টের দিনগুলোর বিভিন্ন দিক ব্যাপক আলোচিত হয়।

বন্দিদশায় এমনই করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া আরেকজন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. হাসিনুর রহমানকেও দুই ধাপ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল করা হয়। আয়নাঘর বা গোপন বন্দিশালা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হওয়া এই সেনা কর্মকর্তাকে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ও বিশেষ আর্থিক সুবিধায় ৫০ লাখ টাকা এবং বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে অন্য যেকোনো সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদায়নের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া এই প্রজ্ঞাপনে ৮৭ নম্বর সিরিয়ালে ‘মরহুম’ মেজর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামকে তিন ধাপ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল করা হয়েছে, যার চাকরির অবসরের তারিখ আগামী ১ জানুয়ারি। বিশেষ আর্থিক সুবিধায় ১ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জঙ্গিবাদে জড়িত অভিযোগে মেজর জাহিদুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। তবে তার পরিবারের দাবি–জাহিদুল ইসলাম পূর্বে নিখোঁজ হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের আমলে তাকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তবে এই প্রজ্ঞাপনে মরহুম মেজর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ওই অভিযানে নিহত কি না বা এমন কিছু লেখা নেই।

ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তা স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সিনা ইবনে জামালী, মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সফিকুল ইসলাম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমীসহ বিভিন্ন পদবির তিন বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাভাবিক অবসর, বাধ্যতামূলক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া ওই কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পাবেন। সুবিধা পাওয়া ১৫০ কর্মকর্তার মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন ও বিমানবাহিনীর ১৪ জন রয়েছেন।

জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, সতর্কতা এফএফডব্লিউসির

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম
জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা, সতর্কতা এফএফডব্লিউসির
ছবি: সংগৃহীত

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষায়িত দপ্তর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে জলবায়ুগত কারণেই এ সময়ে বন্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। একই সঙ্গে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর উজান ও অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের নদ-নদীতে। তাই চলতি বছরও ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগে বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এফএফডব্লিউসি। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব সর্বোচ্চ তিন দিন আগে।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তবে উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। একই সময়ে মেঘনা অববাহিকায়ও বড় ধরনের অবনতির আশঙ্কা নেই।

তবে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। 

প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তবে আগামী চার দিনে তা আবার বাড়তে পারে এবং পঞ্চম দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে দেশের সবচেয়ে বড় বন্যাগুলোর বেশির ভাগই জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা– এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে উচ্চপ্রবাহ দেখা দিলে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৪ সালের বন্যায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বড় বন্যায়ও সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। 

দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (০৪ জুলাই) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওইসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্তরা/

মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
মায়ানমারে বিমান হামলার আতঙ্কে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে মায়ানমারের সীমান্ত শহরগুলোতে শুক্রবার (৩ জুলাই) নতুন করে হামলা না হলেও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে সীমান্তবর্তী এলাকার বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে কিছুটা যুদ্ধবিরতি থাকলেও চলতি জুলাই মাসে মায়ানমারের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে। গত ১ ও ২ জুলাই জান্তা বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পালংখালী এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইক্যং উলুবনিয়া নাফ নদী সীমান্তের ওপার থেকে বোমার শব্দ শোনা গেলেও শুক্রবার সকাল থেকে আর কোনো শব্দ শোনা যায়নি। কিন্তু তার পরও সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মংডু শহরের এক বাসিন্দা বলেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আবার বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এতে রোহিঙ্গারা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে কি না–এ প্রশ্নের উত্তরে আলোচনা হলে তিনি বলেন, অনেক রোহিঙ্গা মনে করে তারা নিজেদের জন্মভূমিতেই মরবে। তারা বাংলাদেশে যেতে চায় না। তার ভাষায়, বাংলাদেশ থেকে অনেক রোহিঙ্গা আগে কষ্ট পেয়ে মায়ানমারে ফিরে এসেছে। তবে বড় বড় ঘটনা ঘটলে কিছু রোহিঙ্গা অর্থ ও খাদ্যের অভাবে বাংলাদেশে চলে যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, পৌরসভা, হ্নীলা এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিকট শব্দ শুনতে পান, যার ফলে অনেকের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি হয়। জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বসবাসকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়নের হোয়াকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আয়েশা ছিদ্দিকী বলেন, মায়ানমারের ভেতরে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে লক্ষ্য করে দেশটির জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও পড়ছে। সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে ভয় কাটছে না।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, অভ্যুত্থানকারী সেনাবাহিনী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরাকান রাজ্যের বুথিডং টাউনশিপের ওয়ার নেট ইয়োন গ্রামের আশপাশে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বোমা হামলা চালাতে তিনটি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। গত ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের সাবেক মিলিটারি অপারেশনস কমান্ড নং ১৫ (সাকাখা ১৫)-এর ওপরও বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে ২ জুলাই অভ্যুত্থানকারী সামরিক বাহিনী মংডু টাউন শহরের কেইন চাউং গ্রামে নাখাখা ৭ ঘাঁটির কাছে অবস্থিত একটি যুদ্ধবন্দি শিবিরে জেট ফাইটার এবং একটি ওয়াই-১২ ব্যবহার করে বিমান হামলা চালায়, এতে একজন সামরিক যুদ্ধবন্দি ক্যাপ্টেনসহ চারজন নিহত হন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ জানান, গত কয়েক দিন মায়ানমার সীমান্তে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে সীমান্তের এপারের বাড়িঘরও কেঁপে উঠছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমান্তবর্তী এলাকার বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত না করতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, মায়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতির কোনো নেতিবাচক প্রভাব যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও জলসীমায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানান, মায়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধের ফলে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান যুদ্ধের কারণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সীমান্ত ও নাফ নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ না ঘটে, বিশেষ করে নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ রোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া নদীপথ ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে, যাতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে কিনশাসা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ১৭৯ স্কোর নিয়ে আজ শীর্ষে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা। তালিকায় ৪৪তম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। বায়ু মান সূচকে ঢাকার স্কোর ৫৭, যা ‘সহনীয়’ হিসেবে বিবেচিত।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান বিষয়ক ওয়েবসাইট আইকিউএয়ারে এ তথ্য জানা যায়।

বায়ুদূষণে এ দিন বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উগান্ডার কাম্পালা, যার স্কোর ১৬৭। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, এই শহরের স্কোর ১৬২। ১৬০ ও ১৫৮ স্কোর নিয়ে তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারতের দিল্লি ও ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর জাকার্তা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচকে ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ পর্যায় হিসেবে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, একটি শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, তার লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক জানিয়ে থাকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়।

অন্তরা/