অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্তত ১০২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার স্ত্রী নাদিরা মাহমুদের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা করেছে দুদক।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন।
নূরুল মজিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় বলা হয়, তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ১২৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নামে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৫ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয়ের ৩ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯২২ টাকা। তার নামে থাকা মোট সম্পদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য আয় ৭ কোটি ৯৬ লাখ ২১ হাজার ৩০২ টাকা। বাকি ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ১২৭ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত।
এ ছাড়া তার নিজের ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০২ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ওই সব অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ ২ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার ৩৬৩ টাকা স্থিতি আছে। নূরুল মজিদ এসব অর্থ-সম্পদ গোপনে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন। যা ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এদিকে নাদিরা মাহমুদের মামলায় বলা হয়, তিনি তার স্বামীর প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ২৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এ মামলায় নূরুল মজিদকেও আসামি করা হয়েছে।
১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নূরুল মজিদ নরসিংদী-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।