পাথর লুটকাণ্ডে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তালিকা প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘সাদা পাথর লুট ও দুদকের প্রতিবেদন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। প্রতিবেদনটি সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যদি তা অসত্য হয়, তবে দুদকের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজ সোমবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা বলেন,‘নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীকেও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো হবে। আনসার সংখ্যা বাড়ানো হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণই আমাদের অগ্রাধিকার।’
ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরুর ওপর হামলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নুরু একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতা। তার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, সাদা পাথর একটি প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সীমান্তে অবস্থিত কেন্দ্রটিতে পাহাড়ি ঢলের সময় পাথর লুট হয়। লুটকাণ্ডে দুদকের অনুসন্ধানে সিলেটের ৪২ রাজনীতিবিদ,পাথরব্যবসায়ী জড়িত থাকার একটি তালিকা গত ২০ আগস্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এ তালিকায় সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজি সাহাব উদ্দিন (পদ স্থগিত), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনএসপি) জেলা ও মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন সাহান ও আবু সাদিক খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম ও জেলার সেক্রেটারি জেনারেল জয়নাল আবেদীনের নাম রয়েছে।
তালিকা প্রকাশের পরপরই তিনটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে তালিকাটি প্ররোচিত ও প্রকৃত লুটেরাদের আড়াল করতে এবং তালিকার শীর্ষে রাজনৈতিক নেতাদের নাম দিয়ে লুটকাণ্ডটি রাজনৈতিককরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও দুদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এসএন/