বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহাম্মেদ বলেছেন, ‘লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মো. ইউনুস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বৈঠক কেন জানি মনে হয়েছে অনেকের মনে জ্বালা ধরিয়েছে। অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছেন না। কেন এই জ্বালা ভাই আপনাদের? আপনাদের উদ্দেশ্যে কী?’
শনিবার (১৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির যুগ্ন-আহ্বায়ক রিয়াজুল হান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু তাহের মুসল্লী, এমদাদুল হক মুসল্লী প্রমুখ।
রুহুল কবীর রিজভী আরও বলেন, আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সব সময়ই ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। আমরা কেউই এই চক্রান্তের বাইরে নই। অন্তবর্তীকালীন সরকার, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং বিএনপির ১৫-১৬ বছরের এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার ও অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি ড. ইউনুস সাহেব অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, রজমান মাসে কি নির্বাচনী প্রচারণা করা যায়? তবে ফেব্রুয়ারি এবং মার্চের পর রমজান থাকবে আর থাকবে ঈদের আয়োজন। আপনি এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে কোথায় প্রচারণা চালাবেন? কখন আইনী প্রক্রিয়া হবে। কখন নমিনেশন পেপার জমা দিবে? কখন প্রচার চালাবে? কীভাবে প্রচার চালাবে? সারাদিন রোজা রেখে কী করে এপ্রিল মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়া সম্ভব? আমাদের এমন একটি সময় যে সময়ের মধ্যে ধর্মীয় কোনো অনুষ্ঠান, রোজা-ঈদ থাকবে না, সে সময়টা উপযুক্ত সময় হওয়া উচিত।
একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আজকে আমাদের কিছু রাজনৈতিক বন্ধু তারা উস্মা প্রকাশ করেছেন, লন্ডনের বৈঠককে তারা বলেছেন নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হবে। ভাই আপনাদের ইতিহাসটা বলুন তো দেখি। আপনারা কখন নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। পাকিস্তান আন্দোলন আপনারা সমর্থন করেননি। আপনারা ৭১ সালে জনগণের বিরোধীতা করেছেন। আপনারা ৮৬ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে নির্বাচন করেছেন। ৯৫ সালে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে হাসিনার সঙ্গে একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন। আপনারা এবার ৫ আগস্টের পর বলেছেন আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেব, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করব। তাহলে আপনাদের রাজনীতিটা কীসের রাজনীতি? রাজনীতি মানেই জনগণের কাছে ওয়াদা, জনগণের কাছে অঙ্গীকার, যেটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বারবার বলেছেন এই হাসিনা দুর্বৃত্ত গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে, মানুষের কথা বলতে গেলে তার ঠিকানা হয়েছে আয়না ঘরে, তার ঠিকানা হয়েছে পুলিশের অত্যাচার, র্যাবের অত্যাচার তার বিরুদ্ধে শত শত মামলা, তার স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে কারাগারে। আপনি সেই আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিবেন?
খালেদা জিয়া কখনো মাথানত করেননি জানিয়ে রিজভী বলেন, এত বড় বড় কথা বলেছেন, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কত অপপ্রচার, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কত কুৎসা রটিয়েছেন। কত কি কথা বলেছেন, কিন্তু বেগম জিয়া তো দেশ ছেড়ে যাননি। বলেছেন শেখ হাসিনা যা বলছে, যে অপবাদ দিচ্ছে সেটি মিথ্যা। বরণ করেছেন নির্যাতন, কারাগারের মধ্যে থেকেছেন। যে কারাগার ২০০ বছরের পুরনো। শুধু ধুলা উড়ে, বালি উড়ে, ওনার চোখের অপারেশন, সেই ধুলা বালি উড়ে, তার চোখকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তারপরও শেখ হাসিনার অন্যায়ের কাছে তিনি মাথানত করেননি।
পলাশ প্রধান/মাহফুজ