জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা চাই নভেম্বরে গণভোট সম্পন্ন হোক। সেই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিও) সংশোধন করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার যে বিধান রাখা হয়েছে, জামায়াত সেই সংশোধনের পক্ষে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব কথা বলেন।
জামায়াতের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, প্রচার সেক্রেটারি ইসলাম বুলবুল এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিমউদ্দিন।
সম্প্রতি সংশোধিত আরপিও প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, একটি দল উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য কমিশনের সঙ্গে ‘জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর কথা বলেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনৈতিক।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে ১৮ দফা দাবি লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ‘কমিশন আন্তরিকভাবে আমাদের দাবিগুলো শুনেছে এবং ব্যাখ্যা দিয়েছে।’
জামায়াত নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে জনগণ রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং জাতীয় সনদের সংস্কার বিষয়ে মতামত জানাতে পারবে। একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হলে ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি বাড়বে। তাই আমরা চাই নভেম্বর মাসেই গণভোট সম্পন্ন হোক।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচনি সহিংসতা রোধ সম্ভব হবে না।’
বিএনপির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী। শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব দল সমান সুযোগ ও অধিকার নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিক।’