সাহরি শব্দটি আরবি সাহর থেকে উদ্ভূত। সাহর শব্দের অর্থ হলো―রাতের শেষাংশ বা ভোররাত। সাহরির আরেক অর্থ হলো―শেষ রাতের খাবার বা ভোররাতে যে খাবার খাওয়া হয়। বাংলাদেশে অনেকে সাহরি না বলে সেহরি বলে থাকেন―এটা ভুল। সেহরি অর্থ জাদু। সুতরাং সাহরি বলতে হবে। ইসলামি পরিভাষামতে, রোজা বা সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে শেষরাতে পানাহার করাকে সাহরি বলা হয়।
রোজা রাখার জন্য শেষরাতে সাহরি খাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও; নিশ্চয় সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি, ১৯২৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বরেছেন, ‘আমাদের (মুসলমানদের) রোজা আর আহলে কিতাবিদের (ইহুদি-খ্রিষ্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি।’ (মুসলিম, ১০৯৬)
সাহরির সময় ও পরিমাণ : সুবেহ সাদিকের আগের সময়টা সাহরির সময়। মোল্লা আলি কারি (রহ.) বলেন, ‘অর্ধরাত্রি থেকে সাহরির সময় শুরু হয়।’ প্রসিদ্ধ মুফাসসির আল্লামা জামাখশারি (রহ.) এবং ফকিহ আবুল লাইছ সমরকন্দি (রহ.) বলেন, ‘সাহরির সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ।’ সাহরি বিলম্বে খাওয়া সুন্নত। তবে সন্দেহের সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে না।
সাহরি ত্যাগ না করা : অনেকের মাঝে সাহরি না খেয়ে রোজা রাখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এটা সুন্নাহ পরিপন্থি কাজ। সাহরি খেয়ে রোজা রাখতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও তোমরা সাহরি গ্রহণ করো।’ (ইবনে হিব্বান, ৩৪৭৬)
বিলম্বে সাহরি গ্রহণ উত্তম : জায়েদ বিন সাবেত (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলের সঙ্গে সাহরি খেলাম, অতঃপর তিনি নামাজে দাঁড়ালেন। আমি বললাম, সাহরি ও আজানের মধ্যবর্তী সময়ের স্থায়িত্ব কতটা? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত পরিমাণ দীর্ঘ।’ (বুখারি, ১৯২১)
সাহরি খাওয়ার নিয়ম : রোজার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত ও সওয়াবের কাজ। পেট পুরে সাহরি খাওয়া জরুরি নয়, প্রয়োজন পরিমাণ খাবার যথেষ্ট। (আবু দাউদ, ২৩৪৫)
সুবেহ সাদিকে পূর্বে রাতের শেষভাগে সাহরি খাওয়া মুস্তাহাব। (মাজমউয জাওয়ায়েদ, ৩/৩৬৮)
যদি কখনো সাহরি খেতে বিলম্ব হয়ে যায় এবং প্রবল ধারণা হয় যে, সময় শেষ হওয়ার পরও কিছু পানাহার করেছে―তবে এ অবস্থায় সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ত্যাগ করা এবং পরে ওই রোজা কাজা করা ওয়াজিব।
সাহরির জরুরি কিছু মাসয়ালা : কোনো কারণে সাহরি খাওয়া সম্ভব না হলেও রোজা রাখতে হবে, কোনো প্রকার শরয়ি কারণ ছাড়া রোজা ত্যাগ করা যাবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে সাহরি বর্জন করা সুন্নতের পরিপন্থি। বিলম্বে বা শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া উত্তম। আগে খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে চা, পানি, পান ইত্যাদি খেলেও সাহরির ফজিলত অর্জিত হবে। (হেদায়া, ১/১৮৬)
সন্দেহ হয়, এমন সময় সাহরি খাওয়া মাকরুহ। (হেদায়া, ১/১৮৬)
সঠিক ক্যালেন্ডারে সুবেহ সাদিকের যে সময় দেওয়া থাকে, তার দু-চার মিনিট আগে খানা বন্ধ করে দেবে। এক-দুই মিনিট আগে-পিছে হলে রোজা হয়ে যাবে, তবে ১০ মিনিট পর খাওয়ার দ্বারা রোজা হবে না। (আপকে মাসায়েল, ৩/২০১)
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক