গিবত অর্থ পরনিন্দা, পরচর্চা, পেছনে সমালোচনা করা বা কুৎসা রটানো। গিবত হলো কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের লক্ষ্য করে বললেন, ‘তোমরা কি জানো, গিবত কী জিনিস? সাহাবারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, গিবত হলো, তোমার ভাইয়ের এমন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন আসলো, আমি যা বলেছি তা যদি তার মাঝে থেকে থাকে, তাহলে? তিনি বললেন, তুমি যা বললে তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলে তার গিবত করলে। আর যদি না থাকে, তা হলে তো তার প্রতি অপবাদ দিলে।’ (মুসলিম, ৬৩৫৭)
একবার খুতবায় দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মুসলমান ভাইয়ের গিবত করো না এবং তাদের দোষ খোঁজ করে বেড়িও না। কেননা, যে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহতায়ালাও তার দোষ তালাশে লেগে যান। আর আল্লাহ যার দোষ তালাশ করেন, তিনি তাকে নিজ ঘরেও লাঞ্ছিত করে ছাড়েন।’ (আবু দাউদ, ৪৮৮০)
পবিত্র কোরআনে মানুষের গোপন দোষ-ত্রুটি বের করা ও গিবত করা সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এর ভয়াবহ শাস্তিরও ইঙ্গিত রয়েছে। এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কারও গোপন দোষ-ত্রুটির অনুসন্ধানে পড়বে না এবং একে অন্যের গিবত করবে না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? এটাকে তো তোমরা মারাত্মকভাবে ঘৃণা করো।’ (সুরা হুজুরাত, ১২)
মেরাজের রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘...তারপর আমাকে এমন লোকদের কাছ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, যাদের নখ ছিল তামার। তারা তাদের মুখমণ্ডল ও দেহের গোশত আঁচড়াচ্ছিল। আমি জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘এরা কারা?’ তিনি বললেন, ‘এরাই তাদের ভাইদের গিবত করত এবং তাদের ইজ্জতহানি করত।’ (আবু দাউদ, ৪৮৭৮)
লেখক: শিক্ষক, বাইতুল আকরাম কমপ্লেক্স, টঙ্গী