ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামই সর্বোত্তম সাম্য ও মানবতার জয়গান গেয়েছে। যেই জয়গানে প্রকৃত বন্ধুত্ব ও অহিংসার পরম শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ, দেশ-জাতি, উঁচু-নিচু নির্বিশেষে সবার প্রতি এক অনন্য মানবতা ও উদারতার দৃষ্টান্ত রেখে দিয়েছে ইসলাম।
পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা ফ্যাসাদ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে নিষিদ্ধ ফ্যাসাদের শাব্দিক অর্থ কল্যাণের পরিপন্থি কাজ করা। মানুষের জন্য কল্যাণকর নয় জেনেও কোনো কাজ করলে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে ফ্যাসাদ বা সহিংসতা-বিশৃঙ্খলা। আসুন কোরআন ও হাদিসের আলোকে সহিংসতা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণগুলো নিম্নে উল্লেখ করি,
এক. পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, তারা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়; আল্লাহ ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্তদের ভালোবাসেন না। (সুরা মায়িদা : ৬৪)
দুই. অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর তোমরা তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তাঁকে (আল্লাহকে) ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকবে। (সুরা আরাফ : ৫৬)
তিন. অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ জানেন কে কল্যাণকামী এবং কে অনিষ্টকারী। (সুরা বাকারাহ : ২২০)
চার. অপর এক আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং দুনিয়ায় অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (সুরা বাকারাহ : ২৭)
পাঁচ. আল্লাহ বলেছেন, যখন তাদেরকে বলা হয়, পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না, তারা বলে আমরাই তো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান! তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না। (সুরা বাকারাহ : ১১-১২)
ছয়. অপর এক আয়াতে ইরশাদ করেছেন, সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। (সুরা আনকাবুত : ৩০)
অতএব ইসলামে সহিংসতার কোনো অবকাশ নেই। কোনো সুযোগ নেই। তাই সহিংসতা রোধে সম্মিলিত সহযোগিতা করতে হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে সহিংসতা নির্মূল করার ক্ষেত্রে পরস্পর ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করতে হবে। মোকাবিলা করতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সব ধরনের সহিংসতা-বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক