লো-স্কোরিং, কিন্তু স্নায়ুক্ষয়ী। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে সারমর্ম এটি। ফলাফল? পাকিস্তানকে ৬ রানে হারিয়ে চলতি আসরে টানা দ্বিতীয় জয় ভারতের।
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সময় রবিবার (৯ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের দেওয়া ১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৫৭ রান করা দলটি শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১১৩ রানে আটকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হেরে আসর শুরু করা পাকিস্তান এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ হারল। ‘এ’ গ্রুপ থেকে সুপার এইটের স্বপ্ন খুব কঠিন হয়ে গেল দলটির।
লক্ষ্য তাড়ায় বাবর আজম ১০ বলে ১৩ রানে ফিরলেও পাকিস্তানের শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে বারবের উদ্বোধনী জুটি ছিল ২৬ রানের। বুমরাহর করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই জীবন পান রিজওয়ান। দ্বিতীয় উইকেটে উসমান খানকে নিয়ে ৩১ রান যোগ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বুমরাহর বলেই বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় ৪৪ বলে ৩১ রান করা রিজওয়ানকে। তার আগে উসমান (১৫ বলে ১৩) ও ফখর ফেরেন (৮ বলে ১৩)। রিজওয়ান আউট হতেই ম্যাচটা মেলে নাটকীয়তার আভাস। ভারতীয় বোলাররা এরপর দাপুটে বোলিংয়ে ম্যাচটা নিজেদের দিকে টেনে নেন। রিজওয়ানের রানটাই দলটার পক্ষে সর্বোচ্চ।
এর আগে বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের ৫০ মিনিট পর শুরু হয়। পাকিস্তান টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। শাহিন শাহ আফ্রিদির করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই মিড উইকেটের ওপর দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান রোহিত শর্মা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের প্রথম ওভারে শাহিনের ছক্কা হজমের ঘটনা এটিই প্রথম। প্রথম ওভার শেষ হতেই আবার বৃষ্টি হানা দেয়। ফের খেলা শুরু হতে হতে আধঘণ্টা সময় পেরিয়ে যায়। বৃষ্টি থামার পর দুই ওপেনার কোহলি ও রোহিত দ্রুতই ফিরে যান। তবে রিশভ পন্ত ও অক্ষর প্যাটেলের ব্যাটে দারুণভাবে এগোচ্ছিল ভারত। ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৮১ ছিল দলটির স্কোর। তখন বড় মনে হচ্ছিল বেশ বড় হবে তাদের সংগ্রহ। কিন্তু মাত্র ২৪ রানে শেষ ৬ উইকেটে হারিয়ে ১১৯ রানেই থামে ভারতের ইনিংস। ১ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় তারা। রিশভ পন্তের করা ৩১ বলে ৪২ রানই দলটির সর্বোচ্চ।
পাকিস্তানের চার পেসার মিলে ৯ উইকেট নিয়েছেন। অন্যটি ছিল রানআউট। সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। মোহাম্মদ আমির ২টি ও শাহিন আফ্রিদি নেন ১ উইকেট। আমির ও হারিস হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন।