অল্প পুঁজি নিয়েও পাওয়ার প্লে-তে দুর্দান্ত বোলিংয়ে লড়াইয়ে বার্তা দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু চাপের মুখে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভারতকে পথ দেখালেন তিলক ভর্মা। তার অপরাজিত ফিফটিতে দল ভিড়ল জয়ের বন্দরে। এশিয়া কাপের ১৭তম আসরের শিরোপা উঠল ভারতের হাতে।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত। ১৪৭ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়েছে ২ বল হাতে রেখে।
শেষ ওভারে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ১০ রানের সমীকরণ ছিল ভারতের সামনে। হারিস রউফের করা ওভারটির প্রথম বলে ২ রান নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখেন ছন্দে থাকা তিলক। পরের বল ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের মুঠোতে নিয়ে আসেন তিনি।
তবে ভারতের মাথায় তিলক জয় আঁকলেও জয়সূচক রানটা আসে রিংকু সিংয়ের ব্যাট থেকে। ওভারের চতুর্থ বলটিতে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভারতকে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসান রিংকু।
এবারের আসরে এটিই ছিল রিংকুর প্রথম ম্যাচ। একটা মাত্র বল খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে জয়ের আনন্দ এনে দিলেন তিনি।
তবে সবচেয়ে বড় কৃতিত্বটা তিলক ভর্মার। ২০ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তিনিই দলকে লড়াইয়ে ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা।
এ ছাড়া সঞ্জু স্যামসন ২১ বলে ২৪ ও শিভাম দুবে ২২ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেছেন।
পাকিস্তানের পক্ষে ৪ ওভারে ২৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন ফাহিম আশরাফ। পাওয়ার প্লেতে অভিষেক শর্মাকে ব্যক্তিগত ৫ ও গিলকে ব্যক্তিগত ১২ রানে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ দিকে দুবেকে ফিরিয়ে আবারও পাকিস্তান সমর্থকদের মনে আশার সঞ্চার করেন ফাহিম। তবে শেষ পর্যন্ত দিনটা তার হয়নি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমেও দারুণ শুরু পেয়েছিল পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতেই দলকে ৮৪ রান এনে দেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। কিন্তু এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ছিল ভারতীয় বোলারদের। ফলে ৫ বল বাকি থাকতেই ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
৫ চার ও ৩ চক্কায় সর্বোচ্চ ৩৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন ফারহান। ফখর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ বলে ৪৬ রান করেন। এ ছাড়া সায়েম ১১ বলে ১৪ রান করেন। বাকিদের কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
ভারতের পক্ষে ৪ ওভারে ৩০ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪ শিকার শিকার করেন কুলদিপ যাদব। এ ছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, ভরুন চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল।
মহাদেশীয় এই টুর্নামেন্টে ভারতের এটি টানা দ্বিতীয় ও সবমিলিয়ে নবম শিরোপা। এর মধ্যে ৭ বার তারা চ্যাম্পিয়ন ওয়ানডে সংস্করণে, ২ বার টি–টোয়েন্টি সংস্করণে।
এবারের আসরে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। তিনটি ম্যাচেই জয়ের হাসি ভারতের। আর এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল হলো। রোমাঞ্চকর সেই ফাইনালও নিজেদের করল ভারতীয়রা।
তোফায়েল/এসজি/