শৈশবে কখনো কি মনে প্রশ্ন এসেছে- আমরা মানুষ না হয়ে গাছ, পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণী হলাম না কেন? অথবা আমাদের গায়ের রঙ, চুলের ধরন, শরীরের আকৃতি এমন হলো কেন? আমরা দেখতে, স্বভাবে ঠিক যেমন তার সবকিছুই নির্ভর করে আমাদের শরীরে সমস্ত কোষের ভেতর লুকিয়ে থাকা লাখ লাখ ডিএনএর ওপর। আদতে আমরা যে মানুষ হয়ে জন্ম নিলাম, তাও এই ডিএনএ কোডের কারণে।
আমাদের শরীরে ঠিক কত সংখ্যক ডিএনএ আছে তা এখনো বিজ্ঞানীদের অজানা। যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ডিএনএ খুঁজে দেখাও খুব একটা সহজ নয়। তবে গাছ, মানুষ কিংবা ফল সব প্রাণের ডিএনএ দেখতে অনেকটা একই রকম। নরম-জাতীয় ফল যেমন কলা থেকে তোমরা ডিএনএ আলাদা করে শনাক্ত করতে পার সহজেই।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
কলার ডিনএনএ শনাক্ত করতে বড় আকারের পাকা কলা বেছে নাও। এ ছাড়াও লাগবে ছুরি, চপিং বোর্ড, চালনি, দুইটি গ্লাস, বাঁশের তৈরি কাঠি, কাঁটাচামচ, লবণ, থালাবাসন ধোয়ার তরল সাবান, আইসোপ্রোপাল অ্যালকোহল, লবণ এবং পানি। রাসায়নিক সরঞ্জাম হিসেবে প্রয়োজন দুইটি বিকার, দুইটি টেস্ট টিউব, একটি টেস্ট টিউব হোল্ডার, একটি পাইপেট, স্টিরিং রড ও একটি ক্লনিকাল ফ্লাস্ক।
প্রক্রিয়া
চপিং বোর্ডের ওপর কলা রেখে ছুরির সাহায্যে ছোট স্লাইস আকারে কেটে নাও। এবার স্লাইস করা কলা একটি বিকারে রাখ। বিকারে রাখা কলা কাঁটা চামচ কিংবা স্টিরিং রডের সাহায্যে ম্যাশ করে নাও। অন্য একটি বিকারে গরম পানি নিয়ে তাতে এক চামচ লবণ এবং ৪-৫ ফোঁটা থালাবাসন ধোয়ার তরল সাবান অর্থাৎ ডিশ লিকুইড ভালোভাবে মিশিয়ে নাও। এবার ম্যাশ করা কলার বিকারে দ্রবীভূত পানিটি আস্তে আস্তে ঢেলে নাড়তে থাক। পরে একটি চালনির সাহায্যে কলার দ্রবণটি অন্য একটি বিকারে ঢাল। লক্ষ্য রাখবে ম্যাশ কলা যেন চালনিতেই আটকে থাকে এবং তরল দ্রবণটিই শুধু বিকারে যায়। এবার দ্রবণটি একটি টেস্ট টিউবের ভেতর ঢাল। টেস্ট টিউবের ৪ ভাগের ১ অংশ ফ্রিজে রাখা আইসোপ্রোপাল অ্যালকোহল দিয়ে পূর্ণ কর। একটি পাইপেটের সাহায্যে আইসোপ্রোপাল মেশানো দ্রবণটি নেড়ে নাও। কিছুক্ষণ পর ডিএনএর একটি আলাদা স্তর দেখতে পাবে।
ফলাফল
কলার কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর ফলের ডিএনএ থাকে। শুরুতেই কলা ম্যাশ করার কারণে কোষ এবং ঝিল্লিগুলো ভেঙে যাবে। লবণ ও লিকুইড ডিশওয়াশ মিশ্রিত পানি দেওয়ার ফলে কলার কোষ থেকে ডিএনএ আলাদা হয়ে তরল আকার ধারণ করবে। সর্বশেষ আইসোপ্রোপাল অ্যালোকহোল ব্যবহারের কারণে তরল ডিএনএ পানির সঙ্গে মিশে যেতে পারবে না। উপরন্তু একটি ডিএনএ স্তর তৈরি করবে। বাঁশের কাঠির মাধ্যমে এই ডিএনএ স্তর তুলে নিলেই আমরা তা দেখতে পাব।